- প্রক্রিয়াধীন
- ১৯৮৮
- ১৩৯
দস্তানা
বন দিয়ে চলেছে দাদু, পেছন পেছন কুকুরটা। যায়, যায়, যায়—দস্তানাটি ওদিকে পড়ে গেল। ছুটে এল নেংটি ইঁদুর, দস্তানার ভেতর ঢুকে বললে: ‘এখানে থাকব আমি।’
এইসময় তিড়িক তিড়িক—এল ব্যাঙ। জিগ্যেস করলে: ‘কে গো, কে থাকে দস্তানায়?’
‘কুটুর-কুটুর নেংটি ইঁদুর। কিন্তু তুমি কে?’
‘তিড়িক-ঠ্যাঙ ব্যাঙ। আমাকেও ঢুকতে দাও!’
'এসো।’
হল ওরা দুজন। ছুটছিল খরগোশ, দস্তানার কাছে এসে জিগ্যেস করলে: ‘কে গো, কে থাকে দস্তানায়?’
‘কুটুর-কুটুর নেংটি ইঁদুর, তিড়িক-ঠ্যাঙ ব্যাঙ। কিন্তু তুমি কে?’
‘আর আমি দৌড়-খোশ খরগোশ। আমাকেও ঢুকতে দাও!’
‘এসো।’
হল ওরা তিনজন। ছুটে আসে শেয়ালি: ‘কে গো, কে থাকে দস্তানায়?’
‘কুটুর-কুটুর নেংটি ইঁদুর, তিড়িক-ঠ্যাঙ ব্যাঙ আর দৌড়-খোশ খরগোশ। কিন্তু তুমি কে?’
‘আর আমি সেয়ানা-দিদি শেয়ালি। আমাকেও ঢুকতে দাও।’
তাই চারজনেই বসে রইল তাতে। দ্যাখে, ছুটছে নেকড়ে—সেও দস্তানার কাছে এসে জিগ্যেস করলে: ‘কে গো, কে থাকে দস্তানায়?’
‘কুটুর-কুটুর নেংটি ইঁদুর, তিড়িক-ঠ্যাঙ ব্যাঙ, দৌড়-খোশ খরগোশ আর সেয়ানা-দিদি শেয়ালি। কিন্তু তুমি কে?’
‘আমি ছেয়ে-ধেবড়ে নেকড়ে। আমাকেও ঢুকতে দাও!’
‘তা এসো!’
সেও ঢুকল, হল তারা পাঁচজন। এমন সময়, কে জানে কোত্থেকে—বনশুয়োরের ডাক: ‘ঘোঁৎ ঘোঁৎ ঘোঁৎ, কে গো দস্তানায়?’
‘কুটুর-কুটুর নেংটি ইঁদুর, তিড়িক্-ঠ্যাঙ ব্যাঙ, দৌড়-খোশ খরগোশ, সেয়ানা-দিদি শেয়ালি, ছেয়ে-ধেবড়ে নেকড়ে। কিন্তু তুমি কে?’
‘আমি দাঁত-ফোঁড় বনশুয়োর। ঢুকতে দাও আমায়।’
কী বিপদ, সবারই শখ দস্তানায়!
‘জায়গা যে আর নেই!’
‘কোনোরকমে সেঁধব, ঢুকতে দাও!’
‘আহ, পারা যায় না তোমায় নিয়ে, তা সেঁধোও!'
এও সেঁধল। হল তারা ছয়জন, এমন ঘেঁষাঘেষি যে পাশ ফেরা যায় না! এইসময় আবার খচমচ করে উঠল ডালপালা: বেরিয়ে এল ভালুক, সেও ঐ দস্তানার কাছে, গাঁ-গাঁ করলে: ‘কে গো, কে থাকে দস্তানায়?’
‘কুটুর-কুটুর নেংটি ইঁদুর, তিড়িক-ঠ্যাঙ ব্যাঙ, দৌড়-খোশ খরগোশ, সেয়ানা-দিদি শেয়ালি, ছেয়ে-ধেবড়ে নেকড়ে, দাঁত-ফোঁড় বনশুয়োর। কিন্তু তুমি কে?’
‘গাঁ-গাঁ-গাঁ, লোক বড়ো বেশি! আমি বনের তালুকদার ভালুক। ঢুকতে দাও আমায়।’
‘কী করে তোমায় ঢুকতে দিই? এমনিতেই আঁটছে না।’
‘কোনোরকমে হয়ে যাবে!’
‘তা এসো, তবে এক্কেবারে পাশটিতে!’
এও সেঁধল―হল তারা সাতজন, আর এমন আঁটাআঁটি যে দস্তানা ফাটে-ফাটে।
এইসময় দাদুর টনক নড়ল, আরে দস্তানাটা যে নেই। ফিরল সে দস্তানা খুঁজতে। আর কুকুর ছুটল আগে আগে। ছোটে, ছোটে, ছোটে, হঠাৎ দেখে পড়ে আছে দস্তানা, কিন্তু নড়ছে। কুকুর তখন শুরু করল, ‘ঘেউ, ঘেউ, ঘেউ!’
ভয় পেয়ে গেল ওরা, দস্তানা থেকে বেরিয়ে বনের মধ্যে যে যেদিকে পারে দে-ছুট। আর দাদু এসে কুড়িয়ে নিল তার দস্তানা।
ইউক্রেনের লোককথা, UKRAINIAN FOLK TALES, সংকলক: ভ্লাদিমির বইকো (ভাষাবিদ্যার ডক্টর), মূল রুশ থেকে অনুবাদ: ননী ভৌমিক, শিল্পী: ব্লাদিমির গর্দিচুক, রাদুগা প্রকাশন, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ১৯৮৮
প্রক্রিয়াধীন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments