দস্তানা

বন দিয়ে চলেছে দাদু, পেছন পেছন কুকুরটা। যায়, যায়, যায়—দস্তানাটি ওদিকে পড়ে গেল। ছুটে এল নেংটি ইঁদুর, দস্তানার ভেতর ঢুকে বললে: ‘এখানে থাকব আমি।’

এইসময় তিড়িক তিড়িক—এল ব্যাঙ। জিগ্যেস করলে: ‘কে গো, কে থাকে দস্তানায়?’

‘কুটুর-কুটুর নেংটি ইঁদুর। কিন্তু তুমি কে?’

‘তিড়িক-ঠ্যাঙ ব্যাঙ। আমাকেও ঢুকতে দাও!’

'এসো।’

হল ওরা দুজন। ছুটছিল খরগোশ, দস্তানার কাছে এসে জিগ্যেস করলে: ‘কে গো, কে থাকে দস্তানায়?’

‘কুটুর-কুটুর নেংটি ইঁদুর, তিড়িক-ঠ্যাঙ ব্যাঙ। কিন্তু তুমি কে?’

‘আর আমি দৌড়-খোশ খরগোশ। আমাকেও ঢুকতে দাও!’

‘এসো।’

হল ওরা তিনজন। ছুটে আসে শেয়ালি: ‘কে গো, কে থাকে দস্তানায়?’

‘কুটুর-কুটুর নেংটি ইঁদুর, তিড়িক-ঠ্যাঙ ব্যাঙ আর দৌড়-খোশ খরগোশ। কিন্তু তুমি কে?’

‘আর আমি সেয়ানা-দিদি শেয়ালি। আমাকেও ঢুকতে দাও।’

তাই চারজনেই বসে রইল তাতে। দ্যাখে, ছুটছে নেকড়ে—সেও দস্তানার কাছে এসে জিগ্যেস করলে: ‘কে গো, কে থাকে দস্তানায়?’

‘কুটুর-কুটুর নেংটি ইঁদুর, তিড়িক-ঠ্যাঙ ব্যাঙ, দৌড়-খোশ খরগোশ আর সেয়ানা-দিদি শেয়ালি। কিন্তু তুমি কে?’

‘আমি ছেয়ে-ধেবড়ে নেকড়ে। আমাকেও ঢুকতে দাও!’

‘তা এসো!’

সেও ঢুকল, হল তারা পাঁচজন। এমন সময়, কে জানে কোত্থেকে—বনশুয়োরের ডাক: ‘ঘোঁৎ ঘোঁৎ ঘোঁৎ, কে গো দস্তানায়?’

‘কুটুর-কুটুর নেংটি ইঁদুর, তিড়িক্-ঠ্যাঙ ব্যাঙ, দৌড়-খোশ খরগোশ, সেয়ানা-দিদি শেয়ালি, ছেয়ে-ধেবড়ে নেকড়ে। কিন্তু তুমি কে?’

‘আমি দাঁত-ফোঁড় বনশুয়োর। ঢুকতে দাও আমায়।’

কী বিপদ, সবারই শখ দস্তানায়!

‘জায়গা যে আর নেই!’

‘কোনোরকমে সেঁধব, ঢুকতে দাও!’

‘আহ, পারা যায় না তোমায় নিয়ে, তা সেঁধোও!'

এও সেঁধল। হল তারা ছয়জন, এমন ঘেঁষাঘেষি যে পাশ ফেরা যায় না! এইসময় আবার খচমচ করে উঠল ডালপালা: বেরিয়ে এল ভালুক, সেও ঐ দস্তানার কাছে, গাঁ-গাঁ করলে: ‘কে গো, কে থাকে দস্তানায়?’

‘কুটুর-কুটুর নেংটি ইঁদুর, তিড়িক-ঠ্যাঙ ব্যাঙ, দৌড়-খোশ খরগোশ, সেয়ানা-দিদি শেয়ালি, ছেয়ে-ধেবড়ে নেকড়ে, দাঁত-ফোঁড় বনশুয়োর। কিন্তু তুমি কে?’

‘গাঁ-গাঁ-গাঁ, লোক বড়ো বেশি! আমি বনের তালুকদার ভালুক। ঢুকতে দাও আমায়।’

‘কী করে তোমায় ঢুকতে দিই? এমনিতেই আঁটছে না।’

‘কোনোরকমে হয়ে যাবে!’

‘তা এসো, তবে এক্কেবারে পাশটিতে!’

এও সেঁধল―হল তারা সাতজন, আর এমন আঁটাআঁটি যে দস্তানা ফাটে-ফাটে।

এইসময় দাদুর টনক নড়ল, আরে দস্তানাটা যে নেই। ফিরল সে দস্তানা খুঁজতে। আর কুকুর ছুটল আগে আগে। ছোটে, ছোটে, ছোটে, হঠাৎ দেখে পড়ে আছে দস্তানা, কিন্তু নড়ছে। কুকুর তখন শুরু করল, ‘ঘেউ, ঘেউ, ঘেউ!’

ভয় পেয়ে গেল ওরা, দস্তানা থেকে বেরিয়ে বনের মধ্যে যে যেদিকে পারে দে-ছুট। আর দাদু এসে কুড়িয়ে নিল তার দস্তানা।

ইউক্রেনের লোককথা, UKRAINIAN FOLK TALES, সংকলক: ভ্লাদিমির বইকো (ভাষাবিদ্যার ডক্টর), মূল রুশ থেকে অনুবাদ: ননী ভৌমিক, শিল্পী: ব্লাদিমির গর্দিচুক, রাদুগা প্রকাশন, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ১৯৮৮

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice