বাবার ক্রোধ
দীর্ঘকাল সফরের পর বেরিং বাড়ি ফিরে আসার আগে আগে তার ছেলে, ছোট্ট টম বেরিং কর্ণেলিয়া-পিসি আর তার স্বামী কার্ল-পিসেমশাইয়ের কাছে নাস্তানাবুদ হল।
টম অন্ধকার লাইব্রেরী-ঘরে সাবানের ফেনার রঙিন বুদ্বদ ছাড়ছিল। এর চেয়েও বড় বড় অপরাধ অবশ্য সে করেছে: যেমন, আতসকাচ দিয়ে হলুদ পর্দা ফুটো করে দেওয়া ‘দেকামেরন’ বই খুলে তার ছবি দেখা, পড়শীর ছেলের সঙ্গে মারামারি—তবে কর্ণেলিয়াকে বিশেষ করে উত্তেজিত করে তোলে সাবানের বুদ্বুদ। বিশাল, কেতাদুরস্ত বাড়িতে এরকম চাপল্য অসহ্য, তাই কার্ল -পিসেমশাই গম্ভীর ভাবে বালকের কাছ থেকে সাবানের ফেনাসুদ্ধ পাত্রটা কেড়ে নিলেন, আর কর্ণেলিয়া-পিসি কাচের নলটা।
কর্ণেলিয়া অনেকক্ষণ ধরে টমকে নষ্ট ছেলেদের নিদারুণ ভাগ্য সম্পর্কে—ভবিষ্যদ্বাণী করে বললেন যে তারা অপরাধী কিংবা ভবঘুরে হয়, তারপর ভর্ৎসনা শেষ করে বললেন: “তোর বাবার ক্রোধ দেখলে মজাটা টের পাবি। ভাই ফিরে এলেই আমি কোন রকম দয়ামায়া না দেখিয়ে তোর কীর্তিকাণ্ডের কথা বলে দেব। তখন দেখিস তার ক্রোধ।” কার্ল-পিসেমশাই ঝুঁকে পড়ে কোমরে হাত ঠেকিয়ে যোগ করলেন:
“সে ক্রোধ বড় সাঙ্ঘাতিক!”
ওরা চলে গেলে টম বড় আরাম-কেদারাটায় ডুব দিয়ে মনে মনে ভাবার চেষ্টা করল তার কপালে কী আছে। কর্ণেলিয়া ও কার্ল অবশ্য বরাবরই বাড়িয়ে কথা বলেন, কিন্তু বারবার বাবার ‘ক্রোধের’ কথা মনে করিয়ে দেওয়ার ফলে টম রীতিমতো মূহ্যমান হয়ে পড়ল ৷ ক্রোধ জিনিসটা যে কী তা পিসিমা কিংবা পিসেমশাইকে জিজ্ঞেস করার অর্থ হত সে যে ভয় পাচ্ছে সেটা প্রকাশ হয়ে যাওয়া। টমের ইচ্ছে ছিল না তাদের এই তৃপ্তি দেওয়ার। একটু ভেবে টম আরাম-কেদারা থেকে নেমে গম্ভীর চালে বাগানের দিকে চলল, তার আশা ছিল সেখানে কাউকে দেখতে পেলে তার কাছ থেকে কিছু, জানা যাবে।
ওক গাছের ছায়ায় শুয়ে শুয়ে পত্রিকা পড়ছিলেন কর্ণেলিয়ার জনৈক আত্মীয় সাহিত্যিক অস্কার মঙ্ক্।
টম রেড ইন্ডিয়ানের ভঙ্গিতে পা টিপে টিপে নিঃশব্দে তার কাছাকাছি এসে চেঁচাল: “হুপ্!”
মঙ্ক্ পত্রিকা সরিয়ে রেখে বালকের হাঁটু জড়িয়ে ধরে নিজের দিকে টানলেন। “ওরিনোকোতে আর কোন ঝামেলা নেই,” তিনি বললেন। “হরোনরা প্রেইরীতে বেরিয়ে এসেছে।”
কিন্তু টম বিষণ্ণ, সে খেলায় প্রলুব্ধ হল না।
“আচ্ছা, ক্রোধ কাকে বলে আপনি জানেন কি?” মুখ কালো করে সে জিজ্ঞেস করল। “কাউকে বলবেন না কিন্তু, যে আপনার সঙ্গে ক্রোধ নিয়ে আমার কথা হয়েছে।”
“ক্রোধ?”
“হ্যাঁ, বাবার ক্রোধ। বাবা কাল আসছে। তার সঙ্গে আসছে ক্রোধ। পিসি আমার নামে চুকলি কেটে বলবে যে আমি বুদ্বুদ ছেড়েছি, আতসকাচ দিয়ে জালিয়ে পর্দা ফুটো করেছি। ফুটোটা কিন্তু ছোট্ট ছিল, কিন্তু... আমি চাই না যে ক্রোধ জেনে ফেলে।”
“ও এই কথা!” বলেই মঙ্ক্ এমন বিশ্রী সুরে হো হো করে হেসে উঠলেন যে টমের কাছে ব্যাপারটা দুর্বোধ্য ঠেকল, বালক তিন পা পিছিয়ে গেল। “হ্যাঁ তোমার বাবার ক্রোধ দেখতে সুবিধের নয়। এরকম দানব কমই আছে। তার চার হাত, চার পা। দারুণ ছোটে! চোখ টেরা। লোকটা বিশ্রী। কদর্য জীব!”
মঙ্ক্ এমন সোল্লাসে ভয়ঙ্কর জীবটির বর্ণনা দিয়ে যাচ্ছেন দেখে ভেবাচেকা খেয়ে তাকে খুঁটিয়ে দেখতে দেখতে টমের মন খারাপ হয়ে গেল, সে পিছু হটল। আরও কাউকে যে জিজ্ঞেস করবে সে প্রবৃত্তি আর তার রইল না, কিছুক্ষণ সে চিন্তিত ভাবে বাগানের বীথীর পথে ঘোরাঘুরি করল, শেষকালে দেখতে পেল পাশের বাড়ির মেয়ে আট বছর বয়সী মলিকে; টম নিজের দূর্ভাগ্যের কথা জানানোর উদ্দেশ্যে মলির দিকে ছুটে গেল, কিন্তু মলি টমকে দেখে দৌড়ে পালিয়ে গেল, কেন না দুজনে মিলে হট হাউসের কাচের গায়ে তীর ছোঁড়ার পর বাড়ি থেকে ওকে টমের সঙ্গে খেলতে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সচরাচর
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments