রণেশ দাশগুপ্তের শেষ ভাষণ

[১৯৯৭ সনের ১৫ই জানুয়ারী, লেনিন স্কুলে আয়োজিত তাঁর জন্মদিনে রণেশ দাশগুপ্ত শেষ ভাষণ দেন। মালবিকা চট্টোপাধ্যায়ের সৌজন্যে প্রাপ্ত রেকর্ড করা সেই ভাষণের প্রধান অংশ আমরা প্রকাশ করছি।]

প্রিয় বন্ধুরা,

গতবারের মতই, কিংবা তার থেকে একটু ভালভাবে…যাকে আমরা বলি, একটু সমৃদ্ধ আকারে…আমি তো উপলক্ষ…এই যে আলোচনা…এটা আমি…প্রথম আমরা এখানে এলাম। আমি উপলক্ষ বলেই এরকম একটা সমাবেশ হল। যেটার অভাব প্রতিনিয়ত আমার মনে হয়, বিপ্লবী বুদ্ধিজীবীরা, সেই সমস্ত…বয়ঃসীমা ছাড়িয়ে, বৃদ্ধ থেকে একবারে তরুণ-তরুণী—সকলেই বোধহয় অনুভব করে যে কিছু একটা করা দরকার—যেখানে একসঙ্গে বসে—প্রগতি সাহিত্য আমি শুধু বলব না, গণসাহিত্য বলব না, বাংলার বাস্তববাদী সাহিত্য বলব না—সমগ্রভাবে বাংলার—সেই রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, বুদ্ধদেব বসু—এঁরা সবাই আছেন—সেই রকম একটা একসঙ্গে বসার জায়গা নেই কেন? এটা একটা খুব অভাব। একটা কোনও জগৎ। কোথায় দাঁড়াব? আমি মনে করি, বলতে পারেন, আমি কী করে…প্রত্যেকটা জেনারেশনের, প্রজম্মের মনের কথা আপনি কী করে জানলেন? কী করে বলছেন? কী করে বুঝেছেন?

যেমন সবাই মনে করেন যে একটা (জায়গা) দরকার, একটা সাধারণ মঞ্চ দরকার। সাধারণভাবে একটা মেলামেশার, একটা রেওয়াজ বলব—সংগঠনের কথা যদি নাও বলি, একটা রেওয়াজ কেন হবে না? কলকাতা মহানগরী সেই ব্যাপারে একটা বিরাট কাজ করেছে বলে আমি মনে করি। এই আমাদের উপমহাদেশে কলকাতা মহানগরী—এই সেদিনও পাকিস্তান থেকে বুদ্ধিজীবীরা এসেছেন। তাঁদের কাছে শুনছিলাম, তাঁদের বক্তব্যে বেরিয়ে আসছিল যে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের শহর কলকাতা। কলকাতার কাছে অনেক কিছু পাওয়ার আছে, দিতে পারে কলকাতা। এবং একালের প্রজন্ম কেন সেই আগেকার বুদ্ধদেব বসুদের মতো সামনে এগিয়ে আসবে না? দীপেন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো কেন সামনে এগিয়ে আসবেনা? আধুনিক কবিদের মত কেন সামনে আসবে না? সমর সেন—এরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম কলকাতাকে একেবারে রণধ্বনি দিয়ে ভরে তুলেছিল। এই রণধ্বনি হচ্ছে সেই একেবারে নীচুতলার সমস্ত মানুষের রণধ্বনি। ...এই যে এখন বেঁচে থেকে কয়েকটা কথা বলতে পারছি, এটা একটা বড় ব্যাপার। এখন যারা লিখবে, প্রাণের কথা যারা লিখবে, গভীর করে যারা ভাবে, সাধারণ মানুষের মনের কথা যারা বলবে, তারা আসুক। নতুন তারা, নিউ ফোর্স—তারা আসুক! এই-ই আমি মনে করি। কারণ, আমাদের দ্বারা হবে না। আমি বলছি আমি সেটা পারছি না। নতুন মানুষ চাই, নতুন লেখক চাই, নতুন লেখিকা চাই। নতুন কবি চাই—হ্যাঁ, এই সমস্ত শতাব্দীর ব্যাপারটা নিয়েই তারা বলবে। সেইটুকু বলার জন্যে, সেইটুকু ডাক দেবার জন্যেই যে অনেক হয়েছে, এবার তোমরা হাল ধরো। হে নবীন নাইয়ারা, হাল ধরো তোমরা!

সাহিত্যচিন্তা, কল্যাণ দত্ত (সম্পা), বিশেষ স্মরণ সংখ্যা, কলকাতা, ডিসেম্বর ১৯৯৮

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice