ঈগলের কালো ছায়া

ছায়া কালোই হয়। কাজেই ঈগলের ছায়া কালো হবে এ আর বিচিত্র কী! কিন্তু আমাদের ভাষায় এই কালো ছায়ার একটি ভিন্নতর ব্যঞ্জনা রয়েছে। এর সাথে মিশে থাকে আতঙ্ক আর সর্বনাশ। ঈগল যখন তার প্রসারিত পাখার ছায়া ফেলে ঘুরে বেড়ায় তখন অনেক জীব-জন্তই আতঙ্কে শিউরে উঠে। কারণ ঈগলের ঘুরে বেড়ানো সখের পাড়া বেড়ানো নয়। সে ঘুরে শিকারের খোঁজে। কখন কার উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে, তার কোনো স্থিরতা নেই।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতীক এই ঈগল, যার থাবায় ধরা আছে মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র। সাধারণ ঈগল হয়তো তার তীক্ষ্ণ চক্ষু আর ধারাল নখর নিয়ে সন্তুষ্ট; কিন্তু মার্কিন ঈগল এ নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। সে অস্ত্রশস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার বীভৎস হিংস্রতা বজায় রাখতে চায়। না, তাকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। কারণ এছাড়া তার গত্যন্তর নেই। তার ক্ষুধা অপরিমেয়। সমগ্র বিশ্বকে সে চায় তার মৃগয়া ক্ষেত্রে পরিণত করতে। তা না হলে সে বাঁচতে পারবে না।

এ কোনো হেঁয়ালির কথা নয়। পুঁজিবাদের এই ক্ষুধা অত্যন্ত বাস্তব সত্য। তার ক্রমবর্ধমান শিল্প প্রকরণের জন্য যেমন কাঁচা-মাল সংগ্রহ করতে হবে, তেমনি উৎপাদিত পন্যের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে বাজার। এ দুটির জন্যই সে সারা বিশ্বব্যাপী ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ দুটির সুবিধা সুযোগ রক্ষা করার জন্যই সে ধার্মিক না হয়েও ধর্মের কথা বলছে, সমাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে সর্বপ্রকার প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। ইসলামী দুনিয়াতেও সে এই একই উদ্দেশ্য নিয়ে তার কালোছায়া বিস্তার করে চলেছে।

এক সময়ে পুঁজিবাদ মানুষের সভ্যতার ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছিলো। সামন্তবাদের কবল থেকে মুক্ত করেছিলে। মানুষকে। মানবতাকে সে তুলে ধরেছিলো সবার ঊর্ধ্বে। তারই কল্যাণে জ্ঞান বিজ্ঞান আর যন্ত্র কৌশলের এমন প্রসার ঘটেছে। এর দ্বারা সে মানুষের চেতনাকে ধর্মীয় কূপমণ্ডুকতা থেকে বের করে এনেছে। এ সবই সত্য। কিন্তু ধনের অপরিমিত লোভ আজ তাকে সেই মানবিক উত্তরাধিকার থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। আজ সে পরম লোভী, চরম হিংস্র। কারণ তার দিন ফুরিয়ে আসছে। তার মহাশত্রুরূপে জেগে উঠেছে সমাজতন্ত্র। তাই তার সকল বক্তব্যে আজ অস্ত্রের ঝনঝনা।

বুঝলাম, এতো গেলো পুঁজিবাদের কথা। বিশ্বে তো পুজিবাদী দেশ একটি নয় যে, কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে টেনে আনতে হবে!

না, তা নয়; অনেক দেশেই আছে এই পুঁজির অপরিমিত ক্ষুধা। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে এই পুঁজি সাম্রাজ্যের মহামান্য সম্রাট।

সুতরাং বলতে যদি হয়, তাহলে সম্রাটের কথা বলাই ভালো। সম্রাটের আচরণ থেকেই বোঝা যাবে তার সেনাপতি পাত্রমিত্ররা কেমন। তা ছাড়া অন্যেরা যা করতে ভয় পায়, লজ্জা পায়; মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তা অবলীলায় করে ফেলে। জাপানের হিরোশিমা নাগা-সাকির ধ্বংস যজ্ঞ আর কারো পক্ষে তো সম্ভব হয়নি। ভিয়েতনামের 'মাইলাই' হত্যাকাণ্ড আর কেউ তো ঘটাতে পারেনি। কার পরোক্ষ সহযোগিতায় লেবাননের সাবরা সাতিলা উদ্বাস্তু শিবিরে হত্যা যজ্ঞ সংঘটিত হয়েছে! দক্ষিণ কোরিয়ার যাত্রীবাহী বিমানকে কে গোয়েন্দাগিরি করতে পাঠিয়ে গুলির মুখে ঠেলে দিয়েছে। আর সাম্প্রতিককালে সকল পাত্রমিত্রের নিন্দা উপেক্ষা করে কে গ্রেনাডায় ঝাঁপিয়ে পড়েছে!

আরো আছে। বস্তুতঃ পেন্টাগনের কীর্তির কথা লিখতে গেলে নতুন এক শাহনামা রচনা করতে হয়। আলেকজান্ডার, চেঙ্গিজ খান, তৈমুর লঙ্গ, নাদির শা'র সকল কীর্তি এরা ম্লান করে দিয়েছে। সুতরাং প্রশংসাই করি আর নিন্দাই করি, শক্তিমানের করাই তো দুনিয়ার রীতি!

যদি তাই হয়, তা হলে দুনিয়ায় শক্তিমান তো আরো আছে! রাশিয়াও মহাশক্তিধর। তার কথাও তো বলা দরকার। হ্যাঁ, তার কথাও বলবো বৈকি! তবে নিন্দা করবো না; বরং প্রশংসা করবো। কারণ সোভিয়েত ইউনিয়ন মানুষকে শোষণের যাঁতাকল থেকে মুক্তি দিয়েছে; সকলকে নিজের যোগ্যতা দিয়ে ভাগ্য গড়ার সুযোগ দিয়েছে। সে পণ্য নিয়ে বাজারের লোভে হন্যে

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

3 Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice