ঈগলের চোখে ইসলাম
বলতে গেলে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এসে প্রবেশ করেছে মধ্য প্রাচ্যে। এসেছে বৃটিশের সহযোগী হয়ে। বৃটিশের তখন দৌর্দণ্ড প্রতাপ; তাদের সাম্রাজ্যে সূর্য অস্ত যায় না। কিন্তু সেই সাম্রাজ্যের মূল ভিত্তি ছিলো সামন্তবাদী আগ্রাসন। তারি ছত্রচ্ছায়ায় বৃটিশ বেনিয়ারা সমস্ত পৃথিবী লুণ্ঠন করে পুঁজিবাদের সূত্রপাত করেছে। সেই লুণ্ঠনের বখরা নিয়েই প্রথম ও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। এর প্রভাবে যখন বৃটিশ সাম্রাজ্যে সূর্য অস্তমিত হচ্ছে, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দেখা দিয়েছে নতুন সাম্রাজ্যের সূর্যোদয়। এ সাম্রাজ্য পুঁজিবাদের আর এ সূর্য মধ্য প্রাচ্যের তেলসম্ভারে প্রদীপ্ত।
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় বৃটিশের সহযোগাঁ হয়ে মধ্য প্রাচ্যে ঘুরতে ঘুরতেই এই তেল সম্পদের সন্ধান পেয়েছিলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এরই লোভে শুধু 'লরেন্স অফ এরাবিয়া'র কিংবদন্তী নয়, সৌদী আরব সহ অনেকগুলি রাষ্ট্রের ভিত্তিপত্তন করলো তারা।
এ সময়ই আরব বিশ্বের মহা অঙ্কুশ ইস্রাইলেরও জন্ম হলো তাদের গর্ভে। এর পর বৃটিশ পাততাড়ি গুটালেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রয়ে গেলো সেখানে। কারণ তার যাবার কোনো উপায় নেই। তার তেলের দরকার; তা না হলে তার গাড়ীর চাকা, কারখানার পাখা কোনোটাই ঘুরবেনা। এর সাথে তেলের ডলারও তার পাওয়া দরকার, তা না হলে ব্যাংক বাণিজ্য সব কিছুই প্রায় অচল হয়ে পড়বে। এ জন্যই সৌদী আরবকে কেন্দ্র করে সমগ্র মধ্য প্রাচ্যে সে ঘুরে বেড়াতে লাগলো। সে দেখলো ইসলামের শরীরে প্রচুর তেল। এই স্নেহ জাতীয় পদার্থ তার মনেও স্নেহের জন্ম দিলো। এর পর তেল কোম্পানীগুলি হাতছাড়া হয়ে গেলে সেই স্নেহ পরিণত হলো প্রেমে নির্ভেজাল তৈলিক প্রেম!
কিন্তু যাকে তেল চুকচুকে নাদুস নুদুস হাবাগোবা বলে ভেবে-ছিলো, তার মধ্যেও যে একটা প্রচণ্ড শক্তি আছে, সেটি বুঝিয়ে দিলো ইরান। সে নাকে মুখে এক প্রচণ্ড থাপ্পড় মেড়ে চোখে সর্ষে ফুল দেখিয়ে দিলো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই বেমওকা থাপ্পড় খেয়ে রাগে গো গো করলেও মনে মনে খুশীই হয়েছে। কারণ ইরান আরেক থাপ্পড় উচিয়ে রেখেছে তারই মহাশত্রু সোভিয়েত ইউনিয়-নের দিকে। শত্রুর শত্রু মিত্র-সুতরাং ইরান তো মহা বন্ধু! মারুক খাপ্পড়; সমাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে শুধু আমাকে কেন, সারা দুনিয়াকে থাপ্পড় মারুক—আমি কিছু বলবো না। তাই সে বৈষ্ণবী আবেগে দূর থেকে বলতে লাগলো, 'মেরেছো কলসীর কানা, তাই বলে কি প্রেম দেবো না'! ইরাক-ইরান যুদ্ধে সে নিরপেক্ষ থাকার ভান করে সেই প্রেমই দিচ্ছে।
তা যা দেয় দিক; কিন্তু এই থাপ্পড় খেয়েই সে ইসলাম সম্পর্কে নতুন ভাবে চিন্তা করতে আরম্ভ করেছে। এই চিন্তার দুটি দিক। মার্কিনী স্বার্থের জন্য এর একটি ইতিবাচক আর অন্যটি নেতিবাচক।
ইতিবাচক দিকটি হলো—
(ক) ইসলামী বিধান শাশ্বত হবার দাবী নিয়ে ইতিহাসের ধারা থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করে নেয় এবং আধুনিক জীবন প্রক্রি-য়াকে গ্রহণ করতে অনীহা প্রকাশ করে। এর ফলে সমাজের বিবর্তন ধারা, শোষণের বিচিত্র পথ ও মানুষের সংগ্রাম সম্পর্কে সে অবহিত হতে চায় না। একটা কূপমণ্ডুকৃতা তাকে ঘিরে রাখে।
(খ) এর ফলে সামন্তবাদ, পুজিবাদ, সমাজতন্ত্র সম্পর্কে তার অজ্ঞতা স্বাভাবিক হয়ে উঠে। বিশেষ করে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের বিজ্ঞান সম্মত বিশ্লেষণ শুনে সে আৎকে উঠে; ধর্মনাশের ভয়ে সে গুটিয়ে যায়। স্বার্থান্বেষীরা তার এই আবেগকে অতি সহজেই ব্যবহার করতে পারে।
(গ) এভাবেই স্বার্থান্বেষী শোষকের দল একটা অন্ধ আবেগের ছত্রচ্ছায়ায় এমন এক বিষাক্ত চক্র গড়ে তোলে, যা পুঁজিবাদের সাথে যুক্ত হতে বাধ্য। কারণ পুজিবাদ ছাড়া তাদেরকে আশ্রয় দেবার মতো অন্য কোনো শক্তি পৃথিবীতে নেই। পরিণামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লাভ হয়।
ইসলামী চিন্তায় তাদের নেতিবাচক দিকটি হলো—
(ক) ইতিহাসের ধারা বিচ্যুতির গোঁড়ামি সত্ত্বেও ইসলামের শিক্ষা জীবনমুখী। সে সমাজ-জীবনকে কলুষ মুক্ত করে পবিত্র করতে চায়। এজন্যই সামন্তবাদী অনাচার
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments