ঘটনাপঞ্জী: ডিসেম্বর ১৯৭০–মার্চ ১৯৭১
৭ ডিসেম্বর
জাতীয় পরিষদের নির্বাচন। সারা দেশে ২৯০টি আসনের জন্যে ১,৫৪৭জনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বাংলাদেশের বাত্যাবিধ্বস্ত অঞ্চলে জাতীয় পরিষদের ৯টি ও প্রাদেশিক পরিষদের ২১টি আসনের নির্বাচন স্থগিত।
৮ ডিসেম্বর
প্রাথমিক ফলাফলে সারা পাকিস্তানে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন। পশ্চিম পাকিস্তানে পাকিস্তান পিপলস পার্টির সর্বাধিক সংখ্যক আসন লাভ। বাংলাদেশে ২টি আসন ছাড়া বাকী সব আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিজয়।
৯ ডিসেম্বর
ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিপ্রধান মওলানা ভাসানী-কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট গ্রহণের জন্যে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার কাছে আহ্বান।
১১ ডিসেম্বর
নির্বাচনে দলগত সাফল্যের জন্যে আওয়ামী লীগপ্রধান শেখ মুজিবুর রহমান ও পাকিস্তান পিপলস পার্টিপ্রধান জুলফিকার আলী ভুট্টোর কাছে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার অভিনন্দন বাণী প্রেরণ।
১২ ডিসেম্বর
চট্টগ্রামের দুর্গত এলাকা সফরকালে এক জনসভায় শেখ মুজিবের ঘোষণা—শাসনতন্ত্র ৬-দফার ভিত্তিতেই প্রণীত হবে।
১৩ ডিসেম্বর
নির্বাচনে ভরাডুবির পরিপ্রেক্ষিতে আইয়ুব খানপন্থী কনভেনশন মুসলিম লীগপ্রধান ফজলুল কাদের চৌধুরীর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণা।
১৪ ডিসেম্বর
ইয়াহিয়ার অভিনন্দন বাণীর জবাবে মুজিবের উক্তি একমাত্র ৬-দফা ভিত্তিক একটি শাসনতন্ত্রই বিভিন্ন এলাকার মধ্যে ন্যায্য অধিকার ও মানুষে মানুষে সাম্য নিশ্চিত করবে।
পাঞ্জাব ও সিন্ধু প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্যে মুজিব-কর্তৃক ভুট্টোর কাছে অভিনন্দন বার্তা প্রেরণ।
জামাতে ইসলামপন্থী কেন্দ্রীয় তথ্যমন্ত্রী নওয়াবজাদা শের আলী খানের পদত্যাগ।
১৫ ডিসেম্বর
১৭ই জানুয়ারী বাংলাদেশের দুর্গত এলাকায় নির্বাচন—এ মর্মে নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা।
১৭ ডিসেম্বর
দেশব্যাপী প্রাদেশিক পরিষদসমূহের নির্বাচন। বিভিন্ন প্রাদেশিক পরিষদের ৫৭৯টি আসনের জন্যে ৪,৫৫৪ জনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বাংলাদেশের দুর্গত এলাকার প্রাদেশিক পরিষদের ২১টি আসনের নির্বাচন স্থগিত।
১৯ ডিসেম্বর
বাংলাদেশ প্রাদেশিক পরিষদের জন্যে অনুষ্ঠিত ২৭৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের ২৬৮টি আসন লাভ। বাকী ১১টি আসনের মধ্যে নিরপেক্ষ ৬টি, পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি ২টি, নেজামে ইসলাম ১টি, জামাতে ইসলাম ১টি ও মস্কোপন্থী ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির ১টি আসন লাভ।
জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করানোর জন্যে শেখ মুজিব-কর্তৃক জনগণকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন। ৬-দফার ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র প্রণয়ন সম্পর্কে পুনরুক্তি।
বাংলাদেশের দুর্গত অঞ্চলের অধিবাসীদের জন্যে দেশী ও বিদেশী যত সাহায্য পাওয়া গেছে তার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের জন্যে সরকারের কাছে শেখ মুজিবের দাবী।
২০ ডিসেম্বর
তাঁর দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ ব্যতিরেকে কোন শাসনতন্ত্র প্রণয়ন এবং কেন্দ্রীয় সরকার কার্যকরী হ’তে পারবে না বলে ভুট্টার উক্তি। তাঁর মতে, ‘পাঞ্জাব ও সিন্ধুই সকল ক্ষমতার উৎস।’
২১ ডিসেম্বর
আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র প্রণয়ন ও একটি কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করতে সক্ষম—বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিনের ঘোষণা। এ প্রসঙ্গে ভুট্টোর দম্ভোক্তির জবাবে তাজউদ্দিনের এ উক্তি।
২২ ডিসেম্বর
বিভিন্ন অঞ্চলের সর্বাধিক স্বায়ত্তশাসন ও অর্থনৈতিক সুবিচার একান্ত প্রয়োজনীয় বলে ভুট্টোর অভিমত।
পাবনার আওয়ামী লীগ দলীয় নব নির্বাচিত প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য আহমদ রফিক আততায়ী-কর্তৃক নিহত।
২৫ ডিসেম্বর
কায়দে আজমের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার উক্তি—জাতি এক নতুন উৎসাহে এবার জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী পালন করছে। জাতি গণতন্ত্রের আদর্শের প্রতি চরম আনুগত্য প্রদর্শন করেছে এবং প্রজ্ঞার প্রমাণ দিয়েছে।
রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে তথাকথিত বিপ্লবীদের চরম উস্কানির মুখেও জনগণকে শান্ত থাকার জন্যে পাবনায় এক জনসভায় বক্তৃতা দান কালে শেখ মুজিবের আহ্বান।
২৬ ডিসেম্বর
করাচীতে মওলানা মহম্মদ আলী জওহর পার্কে এক জনসভায় বক্তৃতা-দান কালে জুলফিকার আলী ভুট্টো বলেন, দেশের সব অঞ্চলের আশা আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হবে এমন একটি শাসনতন্ত্র প্রণয়নে তাঁর দল সর্বতোভাবে সহায়তা করবে। তাঁর দলের পক্ষ থেকে শাসনতন্ত্র প্রণয়নে কোন বাধা আসবে না বলে তিনি আশ্বাস দেন। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের প্রতি যে কলোনী-সুলভ ব্যবহার করা হয়ে আসছে তার অবসান না ঘটলে দেশের দু’ অংশ এক সঙ্গে থাকতে পারবে না—এ
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments