নগ্ন আওয়াজ
অনুবাদ: এ বি এম কামালউদ্দিন শামীম
ভুলু ও গামা দুই ভাই। খুবই পরিশ্রমী। ভুলু কুলিগিরি করতো। একটা টুকরি মাথায় নিয়ে, সারাদিন এখানে-সেখানে কুলিগিরি করতো। বিকেলে ঘরে ফিরে এলে দেখা যেতে৷ তার কোঁচার গিটে তিন-চার টাকা জমা হয়েছে।
গামা খাঞ্চা বিক্রি করতো। সারাদিনের ফেরী কাজে তিন-চার টাকা উপার্জন হতো। কিন্তু তার মদের নেশা ছিলো। রাতে দীনার হোটেলে খাবার আগে তাকে এক পোয়া মদ খেতেই হতো। সবাই জানতো যে সে পান করে আর এভাবেই বেঁচে থাকে।
ভুলু, গামার দু’বছরের বয়োজ্যেষ্ঠ। গামাকে সে অনেক করে বোঝালো যে, মদাসক্ততা খুবই খারাপ জিনিস। বিয়ে করেছ, অযথা কেন টাকা নষ্ট করছ? এক পোয়া মদের জন্যে যে টাকা খরচ করছ সে টাকা জমা করলে ভাবী ভালভাবে থাকতে পারে। ছেলে-মেয়েগুলোর কাপড়-জামা নেই, অথচ তুমি সেদিকে ভ্রূক্ষেপ করছ না। গামা, এক কান দিয়ে শুনতো, অন্য কান দিয়ে বের করে দিতো। ভুলু বিরক্ত হয়ে বলা-কওয়া ছেড়ে দিল।
উভয়ে ছিল উদ্বাস্তু। একটা বড় বিল্ডিং-এর সাথে সার্ভেন্ট কোয়ার্টারে অনেকের মতো দু’ভাইও থাকতে৷ ৷ দোতলায় অবস্থিত এ কোয়ার্টারে তারা শীতকাল ভালভাবেই কাটালো। গ্রীষ্মকাল এলে দারুণ অসুবিধে দেখা দিল। ভুলু একটা খাট পেতে শুয়ে থাকতো ৷ গামার অসুবিধে মারাত্মক হয়ে দেখা দিল। স্ত্রী রয়েছে অথচ পর্দার কোন ব্যবস্থা করতে পারছে না। শুধু গামারই একার অসুবিধে নয়, কোয়ার্টারে অন্য যারা বিবাহিত রয়েছে প্রত্যেকেরই ছিল একই অবস্থা ৷
কুল্লনের মাথায় এক বুদ্ধি এলো। সে এককোণে নিজের ও স্ত্রীর তক্তপোষের পাশে চটের পর্দা লাগিয়ে দিল। তার দেখাদেখি অন্যরাও এভাবে পর্দার ব্যবস্থা করলো। ভুলু ভাইয়ের সাহায্য করলো এবং বাঁশ গেড়ে চটের পর্দা লাগিয়ে দিল। এতে করে বাতাস বন্ধ হয়ে গেলো। কিন্তু নীচে কোয়ার্টারের জাহান্নাম থেকে অনেক ভালো ৷
উপরের কামরায় শোয়ার পর ভুলুর মনে এক আজব পরিবর্তন দেখা দিল। সে বিয়ে-সাদীর সপক্ষে ছিল না ৷ মনে মনে সে সংকল্প করেছিল যে এ আপদ কখনো গলায় ঝুলাবে না। গামা তাকে বিয়ের কথা বললে সে বলতো, না ভাই, এ আমার পোষাবে-না। আমি উপদ্রব বাড়াতে চাই না ৷
গ্রীষ্মকাল এলে উপরে কয়েকদিন খাট বিছানোর পরই তার মনোভাব পরিবর্তিত হলো। একদিন বিকেলে দীনার হোটেলে সে তার ভাইকে বললো, আমাকে বিয়ে দিয়ে দাও, না হলে আমি পাগল হয়ে যাব।
গামা এ কথা শুনে বলল, একি রসিকতা করছো?
ভুলু গম্ভীরভাবে বলল, তুমি জান না, পনেরদিন থেকে আমি ঘুমুতে পারছি না।
গামা জিজ্ঞেস করল, কিন্তু কেন?
ভুলু বলল, আরে কি আর বলব, ডানে-বামে যেদিকে তাকাই কিছু না কিছু হচ্ছে। অদ্ভুত ধরনের শব্দ শোনা যায়। কি ঘুমোবো ছাই!
গামা ঘন গোঁফের আড়ালে সশব্দে হেসে উঠল। ভুলু বলল, কুল্লন শাল৷ তো মাৎ করে দিয়েছে। সারারাত শুধু কথা বলে ৷ স্ত্রীর অবস্থাও তথৈবচ। বাচ্চা পড়ে কাঁদছে, কিন্তু ওরা—
অভ্যাসমাফিক গামা নেশায় চুর হয়ে আছে। দীনার হোটেলে গিয়ে চেনা-পরিচিত সবাইকে শুনিয়ে বলল, তার ভাইয়ের ইদানীং ঘুম হচ্ছে না ৷ তার বিশেষ বর্ণনাভঙ্গিতে সবাই হেসে লুটোপুটি খেল। ভুলুর সাথে দেখা হলে ওরা ঠাট্টা মস্করা করল। কেউ জিজ্ঞেস করল, হাঁ ভাই, কুল্লন তার স্ত্রীর সাথে কি কি কথা বলে? কেউ বলল, মিয়া মুফত মজা লুটছ, সারারাত সিনেমা দেখছ, গান ও নাচ সবই শুনছ!
কেউ কেউ আরো অশ্লীল রসিকতা করল। ভুলু রেগে গেল।—গামাকে বলল, তুমি তো দেখি আমাকে উপহাসের পাত্র বানিয়ে দিয়েছ। দেখো আমি যা বলেছি, মিথ্যে বলিনি। সত্যি আজ বিশ দিন হলো, আমি ঘুমুতে পারছি না। তুমি শিগগীর আমার বিয়ের ব্যবস্থা
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments