কলকাতার গাছপালা
নন্দদুলাল পাড়িয়া
তিনশো বছবের কলকাতা আজ তার বার্ধক্যের প্রতীক নয়, বরং আধুনিক সভ্যতার ক্রম-পরিবর্তন, রূপ-লাবণ্য ও বৈচিত্রোর বহিঃপ্রকাশ। তাব বত্নভাণ্ডারে আজ অজস্র সম্পদ। সেই সম্পদের মাঝে অসংখ্য উদ্ভিদ এক বিশেষ স্থান অধিকাব করে বেখেছে। এখানকার আবহাওয়া ও পরিবেশ, বিশেষ কবে মাটির গুণ, আদ্রতা, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা এমন এক অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে যে, দেশ-বিদেশ থেকে নিয়ে আসা অসংখ্য গাছ স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে এখানকার দেশজ গাছপালার সঙ্গে মিশে এক অপূর্ব উদ্ভিদসম্ভার গড়ে তুলেছে। রাজপথের দুধারে, পার্কে, বাগানে, ময়দানে, অলিতে-গলিতে বাড়ির ছাদে, ঘরের কোণে-কলকাতার সর্বত্র আজ নতুন করে সবুজেব চর্চা লক্ষ্য করা যায়। রাজধানীর এই সবুজ আভরণ তার শৈশবের গৌরবকে স্মরণ করিয়ে দেয়, যদিও তা ছিল বন্য স্বভাবের। কলকাতার বর্তমান গাছপালার পরিচয় জানতে হলে তার অতীতের দিকে তাকাতে হবে। সেই পুরাতনের পটভূমিতে কলকাতার বর্তমান অসংখ্য গাছপালাব সার্থক রূপায়ণ সম্ভব।
জোব চার্নক যে সময়ে কলকাতার প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন, তখন সুতানুটি, গোবিন্দপুর এবং কলিকাতাব সমস্ত জায়গাই ছিল গভীর জঙ্গলে পরিপূর্ণ। চৌবঙ্গি ও বর্তমান গভর্নমেন্ট ভবন অঞ্চল ছিল এক সমযে জলাকীর্ণ, জঙ্গলময় এবং বাঘ ও শুযোরেব আবাসস্থল।
বস্তুত কলকাতা যে তার জন্মলগ্নে এবং শৈশবে বন-জঙ্গলে ভবা ছিল, এ-সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। একসময় কলকাতার জঙ্গলে সুদরী, গবাণ, গেও, খামো বা গর্জন, গবিয়া, কাঁকরা, বাইন, কেওরা, খলিস, বড়গোজা, হেঁতাল, গোলপাতা ইত্যাদি গাছের প্রাধান্য ছিল। বলা বাহুল্য এগুলি লোনামাটিব গাছ এবং বর্তমানে কলকাতার বাইরে সুন্দরবন অঞ্চলে পাওয়া যায়। লবণাম্বু উদ্ভিদ বা 'ম্যান গ্রোভ' নামেই এদের বিশেষ পরিচয়। জরায়ুজ (Viviparous germination) অঙ্কুরোদগম, বিশেষ ধরনের শ্বাসমূল (Pneumatophores) এবং লোনামাটিতে জন্ম এই ধরনেব গাছগুলির প্রধান বৈশিষ্ট্য। কিছু কিছু গেঁও এবং হাড়গোজা ছাড়া আর কোনো লবণাম্বু গাছ এখন অবশ্য কলকাতায় দেখা যায় না। তবে বর্তমানে রাজভবনের বাগানে গোলপাতা গাছ নজরে আসে। আর হাওড়ার শিবপুরে ভারতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে কিছু লবণাম্বু গাছ দেখতে পাওয়া যায়। এই সমস্ত লবণাম্বু উদ্ভিদ শুধু যে কলকাতার জন্মলগ্নে ছিল তা নয়, তারও অনেক আগে কলকাতাকে নিয়ে বঙ্গদেশের বুকে তার অস্তিত্বের নিদর্শন পাওয়া যায়। এবং সে নিদর্শন মেলে রবীন্দ্রসরোবরের খননকার্যের সময়ে। তাছাড়া সম্প্রতি কলকাতাব মেট্রোরেলের খননের কাজ চলার সময়ে ভবানীপুর ও দমদম সহ কয়েকটি অঞ্চলে মাটির গভীর থেকে যে পীটস্তর (Peat Layer) পাওয়া যায় তাতে মূল, পাতা, ফুল, ফল ও বিভিন্ন কাঠের টুকরোর মত কিছু কিছু উদ্ভিদের দেহাংশ নজরে আসে। ওই সব দেহাংশ নিয়ে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা গেছে, এগুলি বিভিন্ন লবণাম্বু গাছেব অংশবিশেষ। এখন থেকে প্রায় পাঁচ থেকে সাত হাজার বছর আগে এই সমস্ত গাছপালা নিয়ে যে অরণ্য বর্তমান ছিল তা এখনকার সুন্দববনের সঙ্গেই তুলনীয়। কাজেই এ-কথা অনস্বীকার্য যে, আজকেব মহানগরী কলকাতা এক বিশাল বনভূমির উপর গড়ে উঠেছে। আব বিবর্তন, প্রগতি ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে সেই বনভূমি ক্রমশ লুপ্ত হয়ে এসেছে। ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে অগাস্ট মাসে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আদেশে ফোর্ট উইলিয়াম সংলগ্ন বিশাল বনভূমি পরিষ্কার করে তৈরি হল কলকাতাব সববৃহৎ ও উন্মুক্ত অঙ্গন ব্রিগেড মযদান- 'কলকাতার ফুসফুস'।
গোড়ার দিকে কলকাতা শহরে বসতিহীন ফাঁকা জায়গা যখন বেছে নেওয়া হল তখন নামকরণের জন্য স্থানীয় উল্লেখযোগ্য গাছের নাম বেছে নেওয়া হয অনেক সময়ে। আর তার সঙ্গে 'তলা', 'বাগান', 'ডাঙ্গা' শব্দ যোগ করে এক একটি এলাকাব নাম নির্দিষ্ট হল। এইভাবে এল বর্তমান কলকাতার আতাবাগান, পেয়ারাবাগান, হরতুকিবাগান এবং বকুলবাগান, এছাডা ডালিমতলা, বটতলা, চাঁপাতলা, নেবুতলা, আমড়াতলা, বাঁশতলা, তালতলা, নিমতলা, বেলতলা, কেওডাতলা, কেযাতলা, নারকেলডাঙ্গা, পটলডাঙ্গা ইত্যাদি। এসব জায়গাব নামের পিছনে রযেছে আতা, পেযাবা, হরতকি, বকুল, ডালিম, বট,
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments