প্রতিভাবানের প্রতিক্ষায়
চীন বিপ্লবের আগে চীনের সমাজ যখন আমাদের দেশের এখনকার সমাজের মতই এক ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে বিকশিত হচ্ছিল, তখন পিকিংএর এক সুধী সমাবেশ বক্তৃতা দানকালে ১৯২৪ সালে লুসুন বলেছিলেন, "যে অভাবটি সম্পর্কে বর্তমানে চীনের শিল্পী-সাহিত্যিকগণ সবচেয়ে উচ্চকণ্ঠে রব উঠিয়েছেন, তা হল একজন প্রতিভাবানের অভাব। এ থেকে দুটো বিষয় প্রমাণিত হয়: প্রথমত, এই মুহূর্তে চীনে কোন প্রতিভান নেই; দ্বিতীয়ত আমাদের আধুনিক শিল্পকলা প্রত্যেককেই এখন রুগ্ন ও ক্লান্ত করে তুলেছে। সত্যই কি কোন প্রতিভাবান নেই? থাকতে পারেন কিন্তু আমরা তাঁর সাক্ষাত পাইনি, অন্য কেউও পায়নি। কাজেই যা আমরা চোখে দেখছি ও কানে শুনছি, তার ভিত্তিতে আমরা 'বলতে পারি, কোন প্রতিভাবান নেই। কেবলমাত্র প্রতিভাবানই যে নেই তাই নয়, প্রতিভাবানের জন্ম দিতে পারে তেমন জনসাধারণও নেই।"
পূর্ব বাঙলার এখানকার সৃজনশীল অঙ্গনের দিকে যদি তাকাই তাহলে দেখতে পাব, ১৯২৪ সালের চীন সম্পর্কে লুসুন যে কথাগুলো বলেছিলেন, এই দশকের পূর্ব বাংলা সম্পর্কেও যেন সে কথা গুলো হুবহু প্রযোজ্য। রাজনীতি সাহিত্য, শিল্পকলা, বিজ্ঞান, দর্শন যে দিকেই তাকাই না কেন, সর্ব ক্ষেত্রেই পূর্ব বাংলা আজ শূন্য, সত্যিকার অর্থে কোথাও একজন প্রতিভাবানকেও আমরা দেখতে পাচ্ছিনা শুনতেও পাচ্ছিনা কারও কথা। চারদিকে আজ যা আমরা দেখছি ও শুনছি, তা হল হাহাকার আর হতাশা-সংশয় আর আত্মবিশ্বাসের অভাব। জনসাধারণ ভুগছে এই হতাশায়। যাঁরা জন-সাধারণের অভিভাবকের আসন দখল করে আছেন তাঁরাও হতাশায় আচ্ছন্ন, এখং জনসাধারণের মধ্যে বিভিন্ন ভাবে হয় তাঁরা কেবলমাত্র হতাশাই প্রচার করেছেন, না হয় এমন সব কাজ করেছেন যাতে জনসাধারণ আশা করার মত কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না।
সত্যই কি আমাদের সমাজে এমন কোন প্রতিভাবান নেই যিনি আশার আলো ছড়াতে পারেন? হয়তো আছেন, কিন্তু তাঁর পরিচয় এখনও আমরা পাইনি—যেমন চীনের জনগণ সেদিন লুসুনের মত প্রতিভারও পরিচয় পায়নি, পরিচয় পায়নি মাও সেতুংএরও। অথচ এই দুই শ্রেষ্ঠ প্রতিভা সেই অন্ধকার যুগের চীনেই আলো ছড়াবার সংগ্রামে লিপ্ত ছিলেন। আমাদের সমাজে কোন প্রতিভাবানের সাক্ষাত আজও আমরা পাইনি বলেই এক জন প্রতিভাবানের জন্য আমাদের এত উৎকণ্ঠা।
প্রতিভাবানের আবির্ভাব কি কোন আকস্মিক ব্যাপার? প্রতিভাবান কি প্রকৃতির খেয়ালী সৃষ্টি? এ সম্পর্কে লুসুনের বক্তব্য, "প্রকৃতির কোন উদ্ভট খেয়ালে প্রতিভাবান আপনিতেই কোন অরণ্যে কিংবা নির্জন প্রান্তরে আবির্ভূত হননা। এক বিশেষ ধরনের জনসাধারণই প্রতিভাবানের জন্ম দান করে এবং তাকে লালন করে। তেমন জনসাধারণ ছাড়া প্রতিভাবানের উদ্ভব সম্ভব নয়। আল্পস্ পর্বত অতিক্রমনের সময় নেপোলিয়ন বলেছিলেন 'আমি আল্পসের চেয়েও উঁচু।' কী বীরত্বপূর্ণ উক্তি! কিন্তু আমাদের ভুললে চলবে না, তাঁর পশ্চাতে ছিল এক বিপুল সৈন্য বাহিনী। এই বিপুল সৈন্য বাহিনী না থাকলে হয় তিনি শত্রুদের হাতে ধরা পড়তেন, না হয় শত্রুরা তাঁকে তাড়িয়ে নিয়ে যেত অন্য দিকে। আর তা হলে তার ঐ আচরণ বীরত্বব্যঞ্জক মনে না হয়ে, মনে হত নিছক পাগলামী বলে। এ জন্যই মনে করি, একজন প্রতিভাবানের আবির্ভাব আশা করার আগে আমাদের কর্তব্য এমন একটি জনসাধারণ গড়ে তোলা, যে জনসাধারণ প্রতিভাবানের জন্মদানে সক্ষম হবে। আমরা যদি সুদর্শন বৃক্ষ ও সুন্দর পুষ্পের জন্ম দিতে চাই, তাহলে প্রথমে অবশ্যই তৈরী করতে হবে ভাল মাটি। প্রকৃত পক্ষে ফুল ও গাছের চেয়ে মাটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মাটি ছাড়া কোন কিছুরই জন্ম হতে পারে না। নেপোলিয়নের পশ্চাতে বিপুল বাহিনী যেমন অপরিহার্য ছিল তেমনি ফুল ও গাছের জন্য ও যে প্রয়োজন অপরিহার্য তা হল মাটি।'
'প্রতিভাবানের প্রতিক্ষায়' শীর্ষক বক্তৃতায় লুসুন যখন এসব কথা বলছিলেন সম্ভবত তখনও তিনি চীনের শিল্পী সাহিত্যিকদের মহলে সে যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্য প্রতিভা বলে স্বীকৃতি লাভকরেননি। অথচ আজকের সাংস্কৃতিক
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
আকর্ষণীয় মূল্য
এক বছর
এক মাস
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে
সাবস্ক্রাইব করেছেন? আপনার একাউন্টে লগইন করুন
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments