ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে
সাক্ষাৎকার: মানিক সরকার
বাংলাদেশে বিএনপি শাসনামলে কখনও আমাদের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করা হয়নি। সেই সময়কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী একদিন বললেন, 'ত্রিপুরায় মুখ্যমন্ত্রীর যদি সন্দেহ হয়, তাকে আমরা নিয়ে আসব। নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়াব। উপরে থেকে তাকে দেখাব এখানে কোন ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ঘাঁটি-টাটি নেই।'
মানিক সরকার: ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য এবং আমাদের প্রতিবেশী ত্রিপুরায় মুখ্যমন্ত্রী তিনি। চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত হয়ে সততা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে সাক্ষাত করতে এসেছি জেনে সময় দিলেন। পাটভাঙ্গা পাঞ্জাবি-পায়জামা পরে দৃঢ় এবং তেজোদ্দীপ্ত ব্যক্তিত্ব মানিক সরকার সিপিএম কার্যালয়ে অতিথিদের বসার জন্য সংরক্ষিত ছোট্ট একটি রুমে বসেই তাঁর সঙ্গে আমার কথা হয়। সংক্ষিপ্ত সময়ের এই আলোচনায় আবারও উঠে এলো মহান মুক্তিযুদ্ধে এপার এবং ওপারের বাঙালীদের একাত্মতা এবং বাংলাদেশের জনগণের বীরোচিত ভূমিকার কথা। আলোচনায় উঠে আসে বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আলোচিত দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানে আইএসআইয়ের অর্থ বিনিয়োগের গোয়েন্দা তথ্যপ্রমাণও। অকপটে বললেন ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের উন্নয়নে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার বিরাগ এবং তাদের বৈরী অবস্থানের কথা। জানালেন, এখনও আইএসআই-এর পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশে অবস্থান করছে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। জনকণ্ঠের পাঠকদের জন্য সাংবাদিক সুমী খান এর নেয়া সাক্ষাতকার তুলে ধরা হলো।
জনকণ্ঠ: একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিপুরাবাসীর আন্তরিকতা, ত্যাগ এবং সহযোগিতার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা আমাদের। পরপর চারবার ত্রিপুরার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সফলতার সঙ্গে রাজ্য পরিচালনা করছেন। এর পেছনে কি আপনার শৈশব থেকে তারুণ্যের বেড়ে ওঠা সময়ের কোন প্রভাব কাজ করেছে? আপনার বই পড়ে জেনেছি, তারুণ্যে স্কুলের পরিচ্ছন্নতা, স্কুলে বাগান করা, মঞ্চনাটক এসবে নেতৃত্ব দিয়েছেন এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলবেন কি?
মানিক সরকার: ধন্যবাদ! নেতা হব বলে তো কখনও কাজ করিনি! স্কুল পরিচ্ছন্নতা, বাগান করা, মঞ্চনাটক-সবই শিক্ষকদের নির্দেশে করেছি। এখনও কোন ব্যক্তির জন্য নয়, যারা সর্বহারা, সমাজের সবচেয়ে পেছনে যাদের অবস্থান—বহুমুখী সমস্যায় যারা জর্জরিত—সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা সেসব জনগোষ্ঠীকে সামনে এগিয়ে নিতে বামফ্রন্ট শাসন ব্যবস্থায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকার কাজ করছে। আমরা উপজাতি-আদিবাসীদের নিয়ে ৫ বছর মেয়াদী 'পরিবার গুচ্ছ কর্মপ্রকল্প' নামে বিশেষ কর্মসূচী নিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছি তাদের দ্রুত এগিয়ে নেবার লক্ষ্য নিয়ে। এদের মধ্যে কিছু আদিবাসী সংখ্যালঘু মুসলিমও আছেন।
জনকণ্ঠ: নারীর ক্ষমতায়নে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে নারীকে এগিয়ে নিতে ত্রিপুরা রাজ্যসরকারের সফলতা ব্যাপক আলোচিত।
মানিক সরকার: হ্যাঁ। নারীর ক্ষমতায়নই শুধু নয়, নারীকে সাক্ষরতা সম্পন্ন এবং শিক্ষিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তিপুরা ভারতবর্ষে প্রথম। এটা বাদ দিয়ে তো আর ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়। মহিলাদের অর্থনৈতিক দিক থেকে স্বাবলম্বী করার কাজেও আমরা সফল। এই মুহূর্তে ত্রিপুরায় প্রায় ২০ হাজার সেলফ হেলপ গ্রুপ আছে, যা শুধু মহিলারা পরিচালনা করেন।
জনকণ্ঠ: ত্রিপুরা প্রেসক্লাবে নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছিল, জানলাম সেশন জজ হিসেবে নারীদের সংখ্যা খুব কম। বেশ কিছু ভুয়া ধর্ষণ মামলা হচ্ছে।
মানিক সরকার: সেশন জজ তো মেয়েদের মধ্যে থেকে আগ্রহী হয়ে আসতে হবে। আমরা চট করে বানিয়ে দিতে পারব না। পুলিশ হিসেবে প্রচুর মেয়ে নিয়োগ পাচ্ছে। থানায় মেয়েদের যে কোন অভিযোগ প্রথমেই মেয়ে অফিসাররা নেয়। উইমেন ডেস্ক আছে প্রতিটি থানায়। এসপি পদে অনেক নারী এসেছে। পুলিশে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াচ্ছি আমরা। মেয়েদের বিরুদ্ধে কোন অপরাধ সংঘটিত হলে যে কোন অভিযোগ কোন প্রশ্ন না করেই থানা সেই অভিযোগ নিতে বাধ্য। এই দৃষ্টান্ত ভারতবর্ষে কোথাও নেই। এ দায়িত্বে অবহেলা করার কারণে নারী পুলিশকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
জনকণ্ঠ: বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক নিয়ে আমাদের তরুণ সমাজের মধ্যে এক ধরনের সন্দেহ এবং উদ্বেগ কাজ করে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অকৃত্রিম বন্ধুত্বপূর্ণ ভূমিকা
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
আকর্ষণীয় মূল্য
এক বছর
এক মাস
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে
সাবস্ক্রাইব করেছেন? আপনার একাউন্টে লগইন করুন
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments