সময় নষ্ট না করে কাজে লাগান
সোমার বয়স একত্রিশে পড়ল। আজকে তার জন্মদিন। নিজের জীবনের দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছে এভাবে আর কতদিন? বিশ বছর বয়সে সংসারজীবনে প্রবেশ। তাদের তিনজনের পরিবার। মেয়ের বয়স আট। সংসার করতে গিয়ে পড়াশোনা আর হয়ে ওঠেনি। সারাদিন কাটে কখন স্বামী বাড়ি আসবে, তার সেবা করবে, সে অপেক্ষায়। পাড়া-প্রতিবেশীদের সাথে গল্প-আড্ডায় আর বাড়িতে বসে মেয়েকে পড়াতে পড়াতেই জীবন পার হয়ে যাচ্ছে। পাশের বাড়ির মেয়েটি রোজ সকালে অফিসে চলে যাচ্ছে সন্তানকে মায়ের কাছে রেখে; সন্ধ্যায় এসে বাচ্চাকে পড়ানোসহ সব কাজই করছে। তার মনে হয় সে-ও কি নিজের ইচ্ছেমতো কিছু করতে পারে না? নিজ টাকায় চলার স্বাধীনতা অর্জন করতে পারে না? তার মন চাইলেও মেয়েটির জন্য কোনো খেলনা কিনতে পারে না, তার জন্যও তাকে স্বামীর কাছে হাত পাততে হবে। সে কি কখনোই তার এই পরনির্ভরশীলতাকে দূর করতে পারবে না? নতুন করে জীবন শুরু করার সময় শেষ মনে করে সে মনের স্বপ্ন মনেই চেপে রাখে।
জীবনে কখনোই হাল ছেড়ে দেওয়ার কিছু নেই। যেকোনো সময় নতুনভাবে জীবন শুরু করা সম্ভব। তাই অযথা নষ্ট না করে সময়কে কাজে লাগাতে হবে। নতুন করে জীবন শুরু করার ভয়ে ভীত হওয়ার কিছু নেই। শিক্ষাজীবন শেষ হওয়া মানেই সে জীবনের সমাপ্তি নয়। যেকোনো সময় জীবনযুদ্ধে নেমে অতৃপ্ত বাসনা পূরণ করা সম্ভব। যেমনটি রিনা করছে।
রিনার বিয়ে হয় ইন্টারমিডিয়েট পাসের পরপরই। বিয়ের এক বছর পরই বাচ্চা। সে এক মেয়ের পর আর কোনো সন্তান নেয়নি। এরপর সন্তানের জন্য পাঁচ-ছয় বছর পড়াশোনা বন্ধ রাখে। মেয়েকে স্কুলে দিয়ে আবার তার শিক্ষাজীবন শুরু করে। ইডেন কলেজ থেকে নিউট্রিশনে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে। বর্তমানে এক এনজিওতে কর্মরত, পাশাপাশি কম্পিউটারের ওপর ডিপ্লোমা কোর্সও করছে। তার আধুনিক জ্ঞান আয়ত্ত করার প্রবণতা এবং এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা তাকে কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে সাহায্য করছে, তেমনি মেয়ে প্রমারও নিত্যদিনের খেলার সঙ্গী। মেয়েকে যথেষ্ট সময় দিতে পারছে। তার মানসিক জোর, সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার পারদর্শিতাই তাকে আজকের পর্যায়ে এনে দিয়েছে।
জীবনে এগিয়ে যেতে হলে মানসিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে। কিছু সময় যেমন সংসার ও পরিবারের জন্য রাখতে হবে, তেমনি কিছু সময় নিজের জন্যও রাখতে হবে। নইলে পরনির্ভরশীলতা জীবনে এনে দেবে হতাশা।
শিক্ষাজীবনের কোনো বয়স নেই। যেকোনো সময় একজন নারী যেমন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যবসা শুরুর মধ্য দিয়ে আর দশজন নারীর জীবন গড়তে পারে, পিএইচডি সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে গবেষকও হতে পারে। ফ্রি-ল্যান্সার হিসেবে ঘরে বসে আয়ও করতে পারে। বর্তমানে নানা জায়গায় ফ্রি-ল্যান্সার হিসেবে লেখালেখি করেও অর্থ উপার্জন সম্ভব, তাতে খুব বেশি প্রশিক্ষণ নেওয়ারও প্রয়োজন পড়ে না। তাই অজানাকে ভয় না পেয়ে এগিয়ে যেতে হবে। সময়কে বৃথা নষ্ট না করে কাজে লাগাতে হবে। অনেক সময় সংসারে অফিসের চিন্তা আর অফিসে সংসারের চিন্তায় কোনো কাজই ঠিকমতো করা হয়ে ওঠে না। সব কাজ ঠিকভাবে সম্পন্ন করতে সারা সপ্তাহের কাজের পরিকল্পনা সপ্তাহের শুরুতেই করতে হবে। সারা সপ্তাহের শেষের জন্য কাজ ফেলে রাখলে চলবে না। সময়ের কাজ সময়ে করলে সব দিক সামলাতে আর সমস্যা হবে না। কোনো কাজ করার ক্ষেত্রে সেদিকেই পূর্ণ মনোনিবেশ করতে হবে। সাংসারিক কাজের চাপে কিছুদিনের জন্য কর্মজীবন বা শিক্ষাজীবন ব্যাহত হতে পারে, তার মানে এই নয় যে তা কর্মজীবন বা শিক্ষাজীবনে সমাপ্তি ডেকে আনবে। হাল না ছেড়ে যেকোনো দিন নতুন জীবনের পরিকল্পনা করে তা শুরু করার মধ্য দিয়ে জীবনকে অর্থবহ করে তুলতে হবে।
কে আমি?, সামিহা সুলতানা অনন্যা, দ্যু প্রকাশন, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০২০
সামিহা সুলতানা অনন্যা
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
সেকালে মেয়েরা বাহুতে যেসব অলঙ্কার পরিধান করিত তাহার পরিচয় সাহিত্যে পাওয়া যায়। বাহুর সকল প্রকার ভূষণকে বলে অঙ্গদ। অঙ্গদ হয় নানাপ্রকার—(১) তাড়, (২) কেয়ুর, (৩) বাজু বা ৰাজুবন্দ, (৪) মাদুলি।
বাহুর উপরিভাগে দুই ইঞ্চি পরিমিত একজোড়া সরল সোনার পাতযুক্ত গহনাকে বলে তাড় বা তাগা। এখন ইহার বদলে অনন্ত, বাঁক প্রভৃতি অন্যবিধ গহনা পরিয়া থাকে। কবি নারায়ণদেব এই গহনাটির খুব ভাল বর্ণনা করিয়াছেন। বেহুলার সাজসজ্জা নামক অংশে দেখি বেহুলা বাহুতে পরিয়াছে—
“সুবর্ণের চাইর-তাড়”
যদি আমরা জনকরাজের অন্তঃপুরে উঁকি মারি তাহা হইলে দেখি আসন্ন বিবাহের আনন্দে উদ্ভাসিত সীতাকে ঘেরিয়া সখীদের বিপুল কলোচ্ছ্বাস, তাহারা সীতাকে সাজাইতে ব্যস্ত—
উপর হস্তেতে দিল তাড়ক ৷
—কৃত্তিবাসী
-
আজ থেকে প্রায় ৭০ বছর আগের কথা। এদেশ সবেমাত্র ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হয়েছে। এদেশের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন এখনকার চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে। এমন সমাজে যৌনতা ভীষণ নিষিদ্ধ একটি বিষয়। সে সময়ে আমাদের দেশে এ বিষয়ে কথাবার্তা বা আলাপ-আলোচনা অত্যন্ত গর্হিত একটি ব্যাপার বলে পরিগণিত হত। শুধু এদেশেই নয় ইয়োরোপ-আমেরিকাতেও ১৯৬০-এর দশকে ‘যৌন বিপ্লব’-এর ধাক্কায় গোটা সমাজে যৌনতা সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাপকভাবে পাল্টে যাবার আগে যৌন বিষয়ে কিংবা নরনারীর যৌন সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা আলোচনাকে সহজভাবে নেয়া হত না। ভাবতে খুব অবাক লাগে, ওরকম একটি সময়ে বয়সে অত্যন্ত তরুণ একজন মানুষ এই বিষয়ে লিখতে দৃঢ় হাতে কলম ধরেছেন। শুধু যৌনতা নয়,
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments