বিজয় দিবস : আমাদের অহংকারের দিন
একাত্তরের নভেম্বর। ঘুটঘুটে অন্ধকার। আমরা ক’জন মুক্তিযোদ্ধা গ্রামের পথে চলেছি অপারেশনে। হঠাৎ চারপাশ থেকে পাকিস্তানি বাহিনীর একটি দল গর্জে উঠল, 'হ্যান্ডস আপ, কৌন হ্যায়?' আমাদের দলনেতা এ ধরনের অবস্থার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত। বললেন, 'আপনা আদমি!' 'পাসওয়ার্ড?' 'এসএস ২'। এই গোপন পাসওয়ার্ড আমরা অপারেশনে যাওয়ার আগেই সংগ্রহ করে রেখেছিলাম। ওরা হেসে আমাদের দিকে হাত বাড়িয়ে দিল। ঠিক সেই সুযোগে আমাদের স্টেনগানগুলো গর্জে উঠল। ব্রাশফায়ারে এক নিমেষে ১১ পাকিস্তানি সেনা খতম!—তখন ক্লাস সেভেনে পড়ি। মুক্তিযুদ্ধের এই রোমাঞ্চকাহিনি শুনে শিহরিত হয়ে উঠেছিলাম আমি। আমার মুক্তিযোদ্ধা বাবা বলছিলেন। আজ আবার বিজয় দিবস সমাগত। মুক্তিযুদ্ধের সেই কাহিনিটা আজ তাই আবার মনে পড়ছে বলছিল বন্যা।
স্কুল, কলেজে ও পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা শুনে শুনেই নতুন প্রজন্ম দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়।
'বিজয় দিবসে সকালবেলা উঠেই আমি আর ভাইয়া মিলে চলে যাই ছাদে পতাকা ওড়াতে। ডিসেম্বর বলেই মাসজুড়ে থাকে বিজয়ের আনন্দ। প্রতিবছর স্কুলে খুব ভোরে অনুষ্ঠান করা হয়, কিন্তু ছুটির দিন এত সকালে অনেক সময়ই যাওয়া হয় না। তবে বাসা থেকে বিভিন্ন বিজয় মেলায় বেড়াতে যাই। কাগজের পতাকা লাগিয়ে বাসা সাজাই। গত বছর বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় পতাকা আঁকা একটি টি-শার্ট কিনেছিলাম। বাবা-মায়ের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অনেক গল্প শুনেছি। কিন্তু এবার কিছুই করা হবে না, এখনো পরীক্ষাই শেষ হলো না।'—হতাশ গলায় বলছিল পলা। এ বছর রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ঘিরে বিজয়ের মাসে আনন্দের পরিবর্তে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে চতুর্দিকে। তাই এ বছর বিজয়ের মাসের চিত্র অন্য বছরের থেকে ভিন্ন।
বিজয় দিবসে বর্তমান প্রজন্মের অনুভূতি জানতে চাইলে ব্যাংককর্মী রিয়া বলেন, 'স্বাধীনতা ও বিজয়ের এতগুলো বছর পার হতে চলেছে। বর্তমান প্রজন্মের সন্তানদের কাছে অনেক সময়ই মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ইতিহাস অস্পষ্ট, যা একটি কঠিন সত্য। লাখ লাখ শহিদের প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া এ স্বাধীনতা এবং বিজয়ের মাসের উপলব্ধি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে হালকা হয়ে চলেছে। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস শুধু একটি ছুটির দিনে পরিণত হয়েছে। এখন অনেক স্কুলেই বিজয় দিবস উপলক্ষে কোনো ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয় না। শিশুদের বাসায় বসে নিজ ঘরেই কাটে দিবসটি। বিজয় দিবসে বহু শহিদের জীবনের বিনিময়ে পাওয়া এ স্বাধীন দেশ বারবার আমাদের উপলব্ধি করায় দেশের প্রতি, নতুন প্রজন্মের প্রতি আমাদের কর্তব্য। আমাদের সন্তানদের মাঝে সে অনুভূতি ছড়িয়ে দিতে, দেশাত্মবোধ জাগিয়ে তুলতে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তাদের হাতে তুলে দিতে হবে। তাদেরকে স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের প্রকৃত অর্থ অনুধাবনে আমাদেরই এগিয়ে আসতে হবে। সে সময়কার সশস্ত্র সংগ্রামের দৃশ্য তাদের চোখে এমনভাবে দৃশ্যমান করতে হবে, যেন সে সময় উপস্থিত না থেকেও তারা অনুভব করতে পারে সে দিনগুলোর অনুভূতি।'
শিলা বলছিল, 'আমি এবার ক্লাস ফোরে উঠলাম। নানির কাছে গল্প শুনেছি, তিনি যখন ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দেবেন সে সময় মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। তার আগে মার্চ মাসের শুরুতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে রাইফেল ট্রেনিং নেন। তারপরই ২৫ মার্চের সেই ভয়াবহ রাত। বহু মানুষকে রাতের অন্ধকারে হত্যা করা হয়। সে সময় নানিদের টিনের বাসা ছিদ্র করে গুলি এসে পড়ে। চারপাশ থেকে সব সময়ই বোমার শব্দ, টানা গুলির আওয়াজ। হাজার হাজার মানুষ মেরে ফেলছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। সাধারণ মানুষ বিভিন্ন জায়গায় সশস্ত্র পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে নিরস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর বহু প্রাণের বিনিময়ে, লাখ লাখ মায়ের বুক খালি করে আমাদের অর্জন এ স্বাধীনতা। নানির কাছে তার জীবনের অভিজ্ঞতা শুনে মনে হয় আমিও যদি সে সময় থাকতে পারতাম! নানি বলেন, যে
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments