আলবেনিয়া

আড্রিয়াটিক সাগরের তীরে ইউরোপীয় ক্ষুদ্র দেশ আলবেনিয়ার আয়তন ২৯ হাজার বর্গ কিলোমিটার। ২৫ লাখ ১১ হাজার (১৯৭৯’র তথ্য) মানুষের এই দেশটি ১৯৪৪ সালের নভেম্বর মাসে ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্তি লাভ করে সমাজতন্ত্রের পথে যাত্রা করে। দেশের অধিকাংশ মানুষ (৭০%) মুসলিম ধর্মাবলম্বী। বাকিদের ২০% অর্থোডক্স ও ১০% রোমান ক্যাথলিক। সুদূর অতীত থেকে দেশের মানুষ বিদেশী আধিপত্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে এসেছে।

বিদেশী আধিপত্য

পর্বত ঘেরা, সাগর ধোয়া এই দেশটির সাথে ভৌগলিক কারণেই বাইরের যোগাযোগ খুব ক্ষীণ। দেশের প্রাচীন ইতিহাসও বাইরের দুনিয়ার কাছে অনেকটা রহস্যাবৃত। তবে ইউরোপের বিশেষত বলকান অঞ্চলের অন্যান্য দেশের ইতিহাসের সাথে সঙ্গতি রক্ষা করে একথা ধারণা করা হয় যে, আলবেনিয়ার প্রাচীন অধিবাসীরা সম্ভবত ইন্দো ইউরোপীয় গোষ্ঠীর মানুষ এবং প্রাচীন ইলিরিয়ানদের সমগোত্রীয়। গেগ ও টসক—এই দুই জনগোষ্ঠীতে বিভক্ত আলবেনিয়ার মানুষ সুদূর অতীত থেকে বিদেশী আক্রমণের শিকারে পরিণত হয়েছে।

খ্রীষ্টের জন্মের অনেক আগে থাকতেই প্রবল পরাক্রান্ত রোম সাম্রাজ্য এই ক্ষুদ্র অঞ্চলে আগ্রাসনের হাত প্রসারিত করে। অনেক বার রোমান আক্রমণ প্রতিহত করলেও খ্রীষ্টপূর্ব ১৬৮ সালে তারা রোমের পদানত হয়ে যায়। পঞ্চদশ শতকের মাঝামাঝিতে ১৪৬৭ সালে তুর্কী সাম্রাজ্যের অধীনে চলে যায় আলবেনিয়া। বর্তমান শতকের প্রথম ভাগ (১৯১২) পর্যন্ত দেশটি তুরস্কের দখলে থেকে যেতে বাধ্য হয়। ১৯১২ সালে বলকান যুদ্ধে তুরস্কের পরাজয়ের পর আলবেনিয়া স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯১৪ সালে আবার দেশ চলে যায় ইতালীর দখলে। ১৯২০ সালে স্বাধীন হলেও ১৯৩৯ সালে ইতালী এবং ১৯৭৩ সালে গ্রীস কর্তৃক ইতালীর পরাজয়ের পর জার্মানীর হাতে পরাধীনতা প্রাপ্তি ঘটে আলবেনিয়ার।

জাতীয়তাবাদী আন্দোলন

বাস্তব অবস্থার কারণে আলবেনিয়ায় জাতীয়তাবাদী চেতনার সূত্রপাত হয় অনেক দেরিতে। যুগ যুগের পরাধীনতার ফলে কৃষি-ভিত্তিক প্রাচীন ধারার অর্থনীতিই ছিল দেশের প্রধান বৈশিষ্ট্য। ভৌগলিক বিচ্ছিন্নতার কারণেও ইউরোপীয় আধুনিকতার হাওয়া থেকে আলবেনিয়া বঞ্চিত ছিল দীর্ঘকাল। শেষ পর্যন্ত উনিশ শতকের শেষদিকে জাতীয় চেতনার দোলা লাগে আলবেনিয়ার সচেতন মহলে।

দেশের দক্ষিনাংশের সাগর বিধৌত অঞ্চলে টসক গোষ্ঠির মানুষগুলোর বিত্তশালী ঘর থেকে অনেকেই ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্ঞান আহরণ ও কর্মোদ্দেশ্যে যাতায়াত শুরু করেন। তাদের মারফত ইউরোপীয় অগ্রসর চেতনা বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী চেতনার আমদানী হয় আলবেনিয়ায়, গড়ে ওঠে প্রথম জাতীয়তাবাদী সংগঠন লীগ অব প্রিজেন। এই সংগঠন তুর্কী সাম্রাজ্যের অধীনে আলবেনিয়ার জন্য স্বায়ত্তশাসন দাবি করে। কিন্তু সংস্কারবাদী এই সংগঠনটিকেও তুর্কী শাসকরা সহ্য করতে পারল না। জন্মের অল্পকালের মধ্যেই সংগঠনটিকে বেআইনী করা হয়। তবে লীগের জন্ম বৃথা যায়নি। দেশের সচেতন মহলে ও প্রবাসী আলবেনিয়দের মধ্যে জাতীয় চেতনা বিশেষ উৎসাহের সৃষ্টি করে এবং জাতীয় স্বাধীকার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে।

বর্তমান শতকের প্রথম দিকে তুরস্কে তরুণ তুর্কীরা দেশের শাসনব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করলে গোটা সাম্রাজ্যের মধ্যে ‘অস্থিতিশীলতা’ দেখা দেয়। তুর্কী সাম্রাজ্যের অধিনস্থ বিভিন্ন জাতির জাতীয় অধিকারের সংগ্রাম এই সময়ে বিশেষভাবে বেগবান হয়ে ওঠে। আলবেনিয়ার জাতীয়তাবাদীরা এই সংগ্রামের জোয়ার থেকে পিছিয়ে থাকে না। ১৯১২ সালে প্রথম বলকান যুদ্ধে তুরস্কের পরাজয়ের পর বিভিন্ন বলকান জাতির সাথে তাল মিলিয়ে আলবেনিয়াও স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ইউরোপীয় বৃহৎ শক্তিবর্গের যোগসাজশে আলবেনিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হলো রাজতন্ত্র।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে আলবেনিয়া বিদেশী আধিপত্যে চলে যাওয়ার পর জাতীয়তাবাদী আন্দোলন আবার সংগঠিত হতে থাকে। ইতিমধ্যে রুশ বিপ্লবের হাওয়া এসে আলবেনিয়ার দরিদ্র জনগোষ্ঠীকেও ধাক্কা দেয়। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠরত ছাত্রদের মারফত রুশদেশের শ্রমিক-কৃষকের বিজয়ের সংবাদ এসে পৌঁছে আলবেনিয়ায়। সেই নতুন আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে গড়ে ওঠে বামপন্থী সংগঠন। টসক গোত্রীয় বিশপ ফন নুলির নেতৃত্বে গঠিত পপুলিস্ট পার্টির মধ্যেই বামপন্থীরা অবস্থান গ্রহণ করেন এবং স্বাধীন স্বদেশ ভূমির জন্য

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice