- প্রক্রিয়াধীন
- ১৯৮৮
- ১৮৯
বেড়াল আর মোরগছানা
এক-যে বেড়াল আর মোরগছানা। দুজন দুজনকে ভারি ভালোবাসত, সর্বদাই থাকত একসঙ্গে, একটা চাষিবাড়িতে। কাঠ আনবার জন্যে বেড়াল একদিন বনে যাবে, মোরগছানাকে বললে: ‘দেখিস পেতেন্কা, চুল্লির তাকে বসে থাকবি, মিঠে রুটি খাবি, কাউকে বাড়িতে ঢুকতে দিবি না। নিজেও বেরবি না, যতই কেউ ডাকাডাকি করুক। আমায় বনে যেতে হবে কাঠ আনতে।’
‘বেশ,’ বললে মোরগছানা, বেড়াল বেরিয়ে যেতেই দরজা বন্ধ করে দিল ভালো করে।
ছুটে এল শেয়ালি দিদি, কচি মুরগির মাংস সে সাঙ্ঘাতিক ভালোবাসে।
মোরগছানাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে বার করে আনতে চাইল বাড়ি থেকে: ‘আয় বেরিয়ে মোরগছানা! আমার আছে মিষ্টি দানা, জল আছে বেশ টলটলে, নইলে যাব জানলা গলে।’
মোরগছানা জবাব দেয়: ‘কোঁকর-কোঁ, কোঁকর-কোঁ, বেড়াল হুকুম দেয় নিকো!’
শেয়াল দিদি তখন জানলা ভেঙে মোরগছানার টুঁটি ধরে টেনে নিয়ে যেতে লাগল। মোরগছানা বেড়ালকে ডাকে, করুণ সুরে গান ধরে: ‘ও ভাই বেড়াল, ও-রে, আমায় বাঁচাও-রে! শেয়াল ধরে ঘাড়ে আঁধার বনের পারে, সবুজ মাঠ ছাড়িয়ে, উঁচু পাহাড়ে চড়িয়ে, তরতরে জল পেরিয়ে যাচ্ছে নিয়ে কোথাও। আমায় তুমি বাঁচাও!’
সে গান শুনতে পেল বেড়াল, ছুটে এসে শেয়ালির হাত থেকে মোরগ-ছানাকে ছাড়িয়ে নিয়ে এল বাড়িতে। ফের হুকুম করলে: ‘নজর রাখিস, শেয়ালি এলে সাড়া দিবি না, আমি এবার অনেক দূরে যাচ্ছি।’ এই বলে চলে গেল।
আর শেয়ালি দেখল বেড়াল চলে যাচ্ছে; অমনি ছুটে এল।
জানলার কাছটিতে এসে ভারি মিষ্টি করে বোঝায়: ‘আয় বেরিয়ে মোরগছানা! আমার আছে মিষ্টি দানা, জল আছে বেশ টলটলে, নইলে যাব জানলা গ'লে।’
মোরগছানা আর পারল না, সাড়া দিলে: ‘কোঁকর-কোঁ, কোঁকর-কোঁ, বেড়াল হুকুম দেয় নিকো!’
শেয়ালিও অমনি ভেতরে ঢুকল জানলা দিয়ে, পেট পুরে খেল সুরুয়া আর জাউ, মোরগছানার ঘাড় ধরে টেনে নিয়ে যেতে থাকল। মোরগছানাও গান ধরলে: ‘ও ভাই বেড়াল, ও-রে, আমায় বাঁচাও-রে! শেয়াল ধরে ঘাড়ে আঁধার বনের পারে, সবুজ মাঠ ছাড়িয়ে, উচু পাহাড়ে চড়িয়ে তরতরে জল পেরিয়ে যাচ্ছে নিয়ে কোথাও। আমায় তুমি বাঁচাও!’
একবার গাইল, কেউ আসে না, আবার গাইল ছুটে এল বেড়াল। ফের সে মোরগছানাকে শেয়ালের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে এল বাড়িতে। আরো কড়া করে হুকুম দিলে: ‘বসে থাকবি পেতেন্কা, চুল্লির তাকে, মিঠে রুটি খাবি, আর শেয়ালি যখন আসবে, তোকে ডাকাডাকি করবে, দেখিস সাড়া দিস নে! আমি যাচ্ছি দূরে, অনেক দূরে, তখন যতই চেঁচাস, শুনতে পাব না!
চলে গেল বেড়াল, বাস, শেয়ালিও অমনি হাজির: ‘আয় বেরিয়ে মোরগছানা! আমার আছে মিষ্টি দানা, জল আছে বেশ টলটলে, নইলে যাব জানলা গলে।’
এবারেও মোরগছানা আর পারল না, সাড়া দিলে: ‘কোঁকর-কোঁ, কোঁকর-কোঁ, বেড়াল হুকুম দেয় নিকো।’
জানলা দিয়ে লাফিয়ে ঢুকল শেয়ালি, সুরুয়া আর জাউ খেল পেট পুরে, মোরগছানার ঘাড় ধরে টেনে দিয়ে যেতে লাগল। মোরগছানা একবার গাইল, তিন বারের বারও ডাকল গান গেয়ে... না, বেড়াল চলে গেছে দূরে, অনেক দূরে, কানে গেল না তার।
মোরগছানাকে বাড়িতেই এনে ফেলল শেয়ালি।
বন থেকে বেরল বেড়াল—মোরগছানা নেই। ভারি দুঃখু হল তার। ভাবতে লাগল। ভেবে, ভেবে এক বৃদ্ধি করল: বান্দুরা⛤ আর রঙচঙে থলি নিয়ে রওনা দিল শেয়ালির বাড়ির দিকে।
শেয়ালি বাড়ি ছিল না, শিকারে বেরিয়েছে। ঘরে ছিল তার চারটি মেয়ে আর ছেলে ফিলিপক।
তা বেড়াল গেল জানলার কাছটিতে, বান্দুরা বাজায় আর ভারি মোলায়েম করে বলে: ‘আহা, শেয়ালির নতুন ঘরের জন্যে ফুটফুটে চার কন্যে, আরো একটি মোহন, ফিলিপক খোকন। দ্যাখো বেরিয়ে এসে, আঙিনাটায় কে সে, বাজায় কেমন বাজন!’
বড়ো মেয়ে আর থাকতে পারল না, ছোটোদের বললে।
‘তোরা বসে থাক, আমি গিয়ে একটু দেখি কে এমন
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
প্রক্রিয়াধীন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments