পোল্যান্ড
পূর্ব ইউরোপের প্রাচীন শ্লাভ দেশ পোল্যান্ডের আয়তন ৩ লাখ ১২.৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার। সাড়ে তিন কোটি মানুষের দেশ পোল্যান্ড ১৯৪৫ সালের জানুয়ারীতে ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্তি লাভ করে সমাজতন্ত্রের পথে অগ্রসর হয়। বিদেশীদের দ্বারা অনেক-বার পদানত হওয়া সত্ত্বেও পোল্যান্ডের বীর জনতা সংগ্রামে অটল থেকেছে অতি প্রাচীন কাল থেকে।
প্রাচীন ইতিহাস
পশ্চিম শ্লাভনিক গোষ্ঠীর দেশ পোল্যাণ্ডে দশম শতকে সামন্ত প্রভুদের সহযোগিতায় ডিউকের শাসন তথা ঐক্যবদ্ধ রাজতান্ত্রিক শাসন চালু হয়। কৃষি কাজ ও পশুপালকের এই দেশটিতে দ্বাদশ শতক থেকে নগর নির্মাণ শুরু হয়। এই ঐক্যবদ্ধ রাজতান্ত্রিক শাসন ত্রয়োদশ-চতুদ্দশ শতকে অচল হয়ে তার স্থলে কতগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বাধীন রাজ্য গড়ে ওঠে। এই সময়ে তাতার, লিথুয়ানিয়ান, প্রাসিয়ান প্রভৃতি জাতি আক্রমণ করে পোলভূমি। চতুৰ্দ্দশ শতকের শেষ দিকে আবার একতাবদ্ধ হলেও আঠার শতকে আবার আভ্যন্ত-রীণ গোলযোগে দুর্বল হয়ে পড়তে থাকে পোল্যান্ড।
আঠার শতকে রাশিয়া, সুইডেন প্রভৃতি দেশের আক্রমণ পোল্যান্ড প্রতিহত করতে পারেনা। শেষ পর্যন্ত পোল্যান্ডের এক তৃতীয়াংশ ভূমি রাশিয়া, প্রাসিয়া ও অস্ট্রিয়া নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। দেশের বিপর্যস্ত অবস্থায় সংস্কারবাদী আন্দোলন শুরু হয় বুদ্ধিজীবীদের উদ্যোগে। আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়, প্রশাসনের কিছুটা সংস্কার সাধিত হয় ও বুর্জোয়া বিকাশের পদক্ষেপ গৃহীত হয়। এতোদিন পর্যন্ত সামন্তরা রাজা নির্বাচন করতো। সংস্কার আন্দোলনের পরে এই ব্যবস্থার বদলে বংশানুক্রমিক রাজ-তন্ত্রের বিধান কার্যকরী হয়। এই সব সংস্কার সামন্ত অভিজাতরা মেনে নেয় না ও তারা তা রদ করার জন্য ষড়যন্ত্র শুরু করে। তাদের সৃষ্ট গোলযোগের সুযোগে রাশিয়া ও প্রাসিয়া আবার আগ্রাসন চালায় এবং পোল্যান্ডের আরও কিছু অংশ দখল করে নেয়। বার-বার বিদেশী আগ্রাসনে রাজার ব্যর্থতার প্রতিবাদে ১৭৯৪ সালে সাবেক সেনাপতির নেতৃত্বে অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। ফলে আবার আগ্রাসী বাহিনীর আগমন ঘটে। এবার তারা গোটা পোল্যান্ড দখল করে নেয় এবং পোল্যাণ্ডের নাম সাময়িকভাবে বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে দেয়।
রাশিয়া-প্রাসিয়ার সাথে নেপোলিয়নের যুদ্ধের সময় ১৮০৭ সালে পোল্যাণ্ডে জাতীয় অভুত্থান ঘটে। ঐ বছর ফ্রান্স ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি চুক্তির ফলে প্রাসিয়া অধিকৃত পোলাণ্ডে স্বাধীনতা স্বীকার করা হয়। ওয়ারশ কেন্দ্রীক স্বাধীন পোল্যান্ড রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। দুই বছরের মধ্যে অস্ট্রিয়া অধিকৃত অঞ্চলও স্বাধীন পোল ভূমির সাথে যুক্ত হয়। কিন্তু নেপোলিয়নের পরাজয়ের পর পোল্যান্ড আবার স্বাধীনতা হারায় এবং পোলিশ ভূমি বিভিন্ন শক্তির মধ্যে পুনর্বণ্টিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে রাশিয়া অধিকৃত অঞ্চলে কিংডম অব পোল্যান্ড গঠিত হয় রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে
১৮৩০ সালে পোলিশ-রাশিয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশে গণ-অভ্যুত্থান ঘটে। ১৮৪৬ সালের মধ্যে আরও চারবার সশস্ত্র অভ্যুত্থান সংগঠিত হয়। কিন্তু সবগুলো অভ্যুত্থানই নির্মমভাবে দমন করা হয়। ১৮৬৩ সালে ব্যাপকভিত্তিক অভ্যুত্থান ঘটে ও অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়। সংগ্রামী পোল্যান্ডের জনগণের সংগ্রামের সাথে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের গণতন্ত্রীরাও যোগ দেয়। কিন্তু ১ বছরের মধ্যে বিদ্রোহী বাহিনীর পরাজয় ঘটে।
আধুনিক পর্যায়
কৃষি প্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও ইউরোপের অঙ্গান্ডা দেশের মতো পোল্যান্ডে উনিশ শতকে পুজিবাদী বিকাশ বিস্তার লাভ করার ফলশ্রুতিতে শ্রমিক শ্রেণী সংগঠিত হতে থাকে এবং শ্রমিক বেদীর আন্দোলন দানা বাধতে থাকে। পুঁজিবাদী বিকাশের ফলে এস-দিকে বুর্জোয়া রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠে, অন্যদিকে জন্মলাভ করে শ্রমজীবী মানুষের সংগঠন।
জাতীয়তাবাদী ও রক্ষণশীলদের দল হিসেবে ন্যাশনাল ডেমো-ক্রেটিক পার্টি এবং কৃষকদের দেশপ্রেমিক দল হিসেবে পিজেন্ট পাটি গড়ে ওঠে উনিশ শতকের শেষ দিকে।
শ্রমিক শ্রেণীর সংগঠন গড়ে ওঠে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে।। প্যারি কমিউনে পোল্যাণ্ডের শত শত বিপ্লবী যোদ্ধা লড়াই করে-ছিল। প্রথম আন্তর্জাতিকের সাথেও প্রবাসী পোলিশদের যোগসূত্র গড়ে ওঠেছিল শুরু থেকেই। তাছাড়া রাশিয়া ও অন্যান্য ইউরো-পীয় দেশের গোপন মার্কসবাদী চক্রের সাথেও পোলিশ বিপ্লবীদের
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments