-
সুবহে কাযেবের' আভাস দৃশ্যমান হওয়া শুরু হয়েছে আর দেখুন রুটি বিক্রেতারা তন্দুরে আগুন জ্বেলে দিয়েছে এবং অগ্নিশিখা প্রজ্বলিত হওয়া শুরু করেছে। ঢাকায় পূর্বে ঘরে ঘরে ঘড়ি ছিল না। এজন্য চক থেকে দুধ এবং দুধের সর বিক্রেতাদের দোকান উঠে যাওয়া রাত বারোটা বাজার সুনির্দিষ্ট চিহ্ন মনে করা হতো এবং ভোর হবার নিশ্চিত পরিচয় ছিল তন্দুরের অগ্নি প্রজ্বলন। শীত হোক অথবা বর্ষা, এই দুই পেশার লোকেরা নিজেদের অভ্যাসে এত দৃঢ় এবং মজবুত ছিল যে তাদের কার্যকলাপ দলিল হিসেবে বিবেচিত হতো। সমগ্র বাংলার মধ্যে ঢাকার এই আশ্চর্যজনক বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং যদিও বাংলার সাধারণ খাদ্য চাউল অর্থাৎ ভাত, কিন্তু ঢাকায় সাধারণভাবে বাজারসমূহে এত ধরনের
-
ঢাকার খেলাধুলা
আজ থেকে পঞ্চাশ বৎসর পূর্বে ঢাকাবাসীরা যে সকল খেলাধূলা', আমোদ-প্রোমদে লিপ্ত ছিল বর্তমানে তাতে বিরাট পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। কিছু বিলুপ্ত হয়েছে এবং কিছু বিলুপ্তির পথে। এদের সংখ্যা অনেক। সময়ে যতটা কুলাবে বর্ণনা করব।
এখানে 'মোরগ লড়াই' এর শখ খুবই জনপ্রিয় ছিল। শহরের আরমেনীয় এবং মুসলমান ধনাঢ্য ব্যক্তিরা এর পৃষ্ঠপোষকতা করতেন এবং এটিকে 'শাহী' শখ বলা হতো। শুধু শুনেছি তাই নয় ছবিতেও দেখেছি, কোম্পানি আমলের ফিরিংগি শাসকরাও জমায়েতের মধ্যে উপস্থিত থেকেছেন এবং মোরগ লড়াই করেছেন। আমাদের বাল্যকালে এই শখ পূর্ণতার পর্যায়ে পৌঁছেছিল এবং এর যৌবন গত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তবুও মোরগ লড়াইএর জমায়েত অব্যাহত ছিল এবং মুন্সী গোলাম মাওলা
-
শবেবরাতের পরেই প্রত্যেক জায়গায় পবিত্র রমজানের আগমন হয়েছে বলে মনে করা হতো এবং বিশ তারিখের পর সব ধরনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ততা পরিলক্ষিত হতো। আলহামদুলিল্লাহ্! শহরে মসজিদের সংখ্যা অনেক বেশি এবং মাশাআল্লাহ, অধিকাংশগুলিতেই নামাজ পড়া হয়। মসজিদের চুনকাম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং ধনীদের বাড়িতে রাজমিস্ত্রি এবং মজুরদের আগমন রমজান শরিফের প্রকাশ্য পূর্বাভাস ছিল। গরিব লোকেরাও রমজানের চাঁদের পূর্বে নিজেদের ঘর স্বচ্ছ মাটি দিয়ে মুছে লেপে ঝক ঝকে তক তকে বানিয়ে ফেলত। প্রত্যেক বাড়িই ক্ষমতা অনুসারে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা করত এবং করাতো। ঘোড়োঞ্চি'বা জলকান্দা পর্যন্ত পরিষ্কার করা হতো। নতুন ঘড়া, মাটির নতুন হুক্কা, নতুন নৈচা ইত্যাদি আনা হতো এবং সুরভিত করে নেয়া হতো। তামাকের বিশেষ বন্দোবস্ত
-
গত সাক্ষাৎকারে ঢাকার বিশিষ্ট খাবারের মধ্যে পোলাও, কাবাব, কোস্তা এবং কোরমার উল্লেখ করা হয়েছিল কিন্তু কোরমার বর্ণনা অনেক কিছু বাকি থাকতেই সময় শেষ হয়ে গিয়েছিল। বলার কথা এই যে, ঢাকায় কোরমার বিশেষ মসলা রয়েছে এবং ঢাকার বিশিষ্ট পরিবারে বিশেষ বিশেষ ভাবে রান্না হয়। দম পোস্তকে কোরমার মধ্যেই গণ্য করা উচিৎ। ঢাকায় দম পোস্ত যেমন সাধারণভাবে রান্না হয় তেমনটি অন্যত্র কম দেখা যায়। বড় আলুর দম পোস্ত অতি সাধারণ, কিন্তু বাঁধাকপির দম পোস্ত এখানকার বিশেষ আবিষ্কার। আমি বাঁধাকপির এর চেয়ে উত্তম কোনো ব্যবস্থা আর কোথাও দেখিনি এবং প্রকৃতই এটি উপযুক্ত খাবার জিনিস। এর স্বাদ অনেক দিন পর্যন্ত ভোলা যায় না। যদিও
-
ঢাকায় সঙ্গীতপ্রিয়তা অতি সাধারণ হয়ে যাবার কারণসমূহ গত বৈঠকে আমি সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছিলাম। এ থেকে আপনাদের জানা হয়ে গেছে যে, এখানে গান বাদ্যের প্রচলন প্রাচীন যুগ থেকেই রয়েছে এবং এখানকার বাসিন্দারা এ বিষয়ের অনুরাগী। সাধারণ রেওয়াজের এক কারণ সঙ' বের করা এবং এই শখের প্রকাশ বছরে কয়েকবার ঘটত, যেমন চৈত্র-পর্ব। চৈত্র মাসের শেষ দিন অর্থাৎ চৈত্রসংক্রান্তির দিন দুপুর থেকে শুরু করে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত মসজিদগঞ্জের চরে এই মেলা বসত। প্রথমত এই চর মোগলানীর চর বলা হতো। অতঃপর কামরাঙ্গীর চর বলা হতো এবং এখন মসজিদগঞ্জের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবার কারণে মসজিদগঞ্জের চর বলা হয়। এটি হিন্দু মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের যৌথ মেলা। এখানে
ক্যাটাগরি
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.