ঢাকায় কুস্তি এবং ব্যায়াম

কুস্তি সম্ভবত হিন্দুস্তানী বিষয়। কিন্তু তার দাও-পেঁচের নাম, যেমন 'নামাজবন্দ', 'একহাতি', 'কেইচি', 'দোহাতি', 'লঙ্গর' (শৃঙ্খল), 'কলাজং', 'মোযা" ইত্যাদি থেকে এটি পরিষ্কার বুঝা যায় যে, এটিকে মুসলমানরা তাদের নিজস্ব বিষয় করে নিয়েছে এবং আজও এই বিদ্যায় মুসলমানদের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। যদিও এটা সত্য যে, পাহলোয়ান শব্দটি প্রাচীনতম ফার্সি শব্দ এবং ফার্সি ও সংস্কৃত ভাষার সম্পর্কও প্রাচীনতম। ঢাকাতে এই বিদ্যাটি মোগল যুগে মুসলমানদের সাথে এসেছে। কিন্তু সে যুগের শুধুমাত্র একজন পাহলোয়ানেরই নাম আমাদের জানা আছে অর্থাৎ মির্জা মান্নার নামানুসারে মির্জা মান্নার দেউড়ি' আজও বর্তমান। তিনি সম্ভ্রান্ত শ্রেণির মধ্যে ছিলেন এবং নিজে ভীষণ পাহলোয়ান ও শক্তিশালী ছিলেন। কিন্তু ভাগীরথ ঠাকুর, যার নামানুসারে মাহুতটুলী মহল্লায় একটি গহ্বরের ('গড়হী') প্রসিদ্ধি রয়েছে, তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যুগের পাহলোয়ান ছিলেন এবং ঐ সময়কার আর একজন নামকরা পাহলোয়ান ছিলেন মাদহ্। যার আখড়া নওয়াব রশীদ খানের পুকুর পাড়ে ছিল। নওয়াব রশীদ খান' সম্রাট আলমগীর যুগীয় আমীরদের মধ্যে একজন ছিলেন এবং ভীষণ শক্তিশালী পাহলোয়ানও ছিলেন। আমি নিজের বাল্যকালে দেখেছি যে, ঢাকাতে কী হিন্দু, কী মুসলিম, কী আরমেনী, কী ধনী-গরিব সবারই কম বেশি কসরত এবং কুস্তির অনুরাগ ছিল। শহরের সব মহল্লাতেই ডান্ডাখানা খোলা হয়েছিল এবং প্রত্যেক ব্যক্তিও কিছু না কিছু তার ব্যবহার করত। সব সময়ই বাইরে থেকে কুস্তির জন্য পাহলোয়ান আসত, জোড় বদলানো হতো এবং একের পরিবর্তে কয়েক দল করে সপ্তাহ ধরে চলতে থাকত। যেখানে স্থানীয় পাহলোয়ান ছাড়াও বাইরের পাহলোয়ানদের মল্লযুদ্ধও হতো। শাসক শ্রেণির লোকেরা এর পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। শহরে কিশোরী লাল বাবু এবং হীরালাল বাবু, বলিয়াদীর প্রসিদ্ধ জমিদার, এর খুব বড় অভিভাবক এবং মুরব্বি ছিলেন এবং শুনেছি যে, প্রসিদ্ধ দানশীল জমিদার মির্জা গোলাম পীর মরহুমও কুস্তির বড় সম্মান দিতেন এবং তার সরকারেও কয়েকজন নাম করা পাহলোয়ান বেতনভুক্ত কর্মচারী ছিলেন। কিন্তু এটি আমার জন্মেরও পূর্বেকার কথা, যদিও তাঁর ওখানকার কয়েকজন পাহলোয়ানকে আমি নিজেও দেখেছি। শহরে বংশ পরস্পরায় পাহলোয়ানদের কয়েকটি পরিবার ছিল এবং ঐসব ঘরানার খুবই প্রতিপত্তি ছিল। আখড়ার মালিক এবং খলিফা অধিকাংশ মুসলমানই ছিল এবং কদাচিৎ হিন্দু। সুতরাং আমি শুধুমাত্র কয়েকজন হিন্দু পাহলোয়ানের নাম সম্পর্কে অবগত আছি। যার মধ্যে থেকে একজন রঘুনাথ শেখরি ছিলেন এবং আমাদের যুগে অধিকাংশ শিষ্যের ওস্তাদ পরেশ নাথ ঘোষও বড় খলিফা ছিলেন, যদিও কোথায়ও কুস্তি লড়েন নাই এবং না কখনও বাইরের কোন পাহলোয়ানের সঙ্গে লড়াই করেছেন, তথাপি নিজের সুন্দর ব্যবহার এবং সামর্থ্য হবার কারণে তাকে বড় পাহলোয়ানদের মধ্যে গণ্য করা হতো। তিনি অধীর ঘোষের শিষ্য ছিলেন এবং অধীর ঘোষ বিনু নামের একজন মুসলমান পাহালোয়ানের শিষ্য ছিলেন। আমাদের সময় বুচি খলিফা খুবই নাম করেছিলেন। খুব সুডোল গঠনের শরীর এবং সুন্দর রংয়ের মানুষ ছিলেন। যুবকদের খুব করে লড়াতেন এবং খুবই খোশ মেজাজের লোক ছিলেন। তাঁর বড় ভাই কালে খলিফা প্রসিদ্ধ এবং খানদানী আখড়াওয়ালা ছিলেন এবং খুবই ঠাণ্ডা মেজাজের ছিলেন। খলিফা আজীজ উদ্দীন যাকে দ্বীন খলিফা বলা হতো কুস্তি এবং 'সেপাহগিরি' উভয়েরই সম্ভ্রান্ত খলিফা ছিলেন। কিন্তু তিনি এই বিদ্যা মিয়া বাদল এবং শেখ ফয়েজ বক্স কানপুরীর কাছ থেকে অর্জন করেছিলেন। তার ভাল ভাল সাগরেদ তৈরি হয়েছিল। বেচারাম দেওড়ীতে হায়দার নামের পাহলোয়ান ছিল এবং সেখানেও ভাল ভাল সাগরেদ তৈরি হয়েছে। এখানে এক যুগে হিঙ্গু এবং লতিফ খুব নাম করেছিল। বেগম বাজারে শেষের দিকে আমি আগ্রার এনায়েত পাহলোয়ানকে দেখেছি এবং তার কুস্তিও আমি দেখেছি। খুব জবরদস্ত পাহলোয়ান ছিল কিন্তু অত্যন্ত বদমেজাজী, আগ্রার বাসিন্দা এবং জাতির কলংক কিন্তু এখানে অধিবাস গ্রহণ করেছিল। এরফান এবং আরমান

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice