-
চিকিৎসা শাস্ত্র যুগে যুগে
লেখক: ড. অশোককুমার বাগচী
প্রকাশক: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্যদ
বাংলা ভাষার প্রকাশনার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্ষদ বিগত কয়েক বছরে নিজেদের মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠা করেছেন। বঙ্কিমচন্দ্র, রামেন্দ্রসুন্দর, রবীন্দ্রনাথ, জগদীশচন্দ্র প্রমুখের সান্তর প্রয়াসে জ্ঞানবিজ্ঞানের নানা গভীর জটিল তত্ত্ব আলোচনার যে সমৃদ্ধ ঐতিহ্যে বাংলাভাষার উত্তরাধিকার, সাম্প্রতিক সেই ধারাটি ক্ষীয়মাণ। এই সেদিন পর্যন্ত বাংলায় গুরুগম্ভীর বিষয়ের সরস প্রাঞ্জল আলোচনা আমাদের নজর কেড়েছে। সম্প্রতি, কয়েকটি উজ্জ্বল ব্যতিক্রমের কথা ছেড়ে দিলে, তন্নিষ্ঠ শাস্ত্র আলোচনা বাংলায় দুর্লক্ষ্য। এই পরিবেশে, সরকারি আনুকূল্যে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুস্তক পর্যদ জ্ঞানবিজ্ঞানের বহুধাবিস্তৃত শাখার বই বাংলায় প্রকাশ করার দায়িত্ব নিয়েছেন। প্রথম দিকে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের টেক্সট বই
-
ঢাকার বাজার ঠাঠারি বাজার।
ঠাঠারি বাজারই বটে। কানে তালা লেগে যেতো এখানে। পিতল কাঁসার বাসন তৈরী হতো। ঠন ঠন ঠাঁইঠাঁই ঠনাঠন। এই ঠনাঠনঠনের সঙ্গে তাল দিতেই বুঝিবা ঢাকা শহরের এই এলাকায় গোটা কয়েক স্টীল ট্রাঙ্ক তৈরীর ছোট ছোট কারখানা ঘর চালু হয়েছিল। ঠাঁই ঠাঁই ঠনাঠনের সঙ্গে একটা বাড়তি শব্দ যোগ হয়েছিল। চড় চড় চড়াৎ।
হারমোনিয়মের চড়া পর্দার রীড টেপার মতো গলা চড়িয়ে কথা বলার অভ্যেস হয়ে গিয়েছিল কারখানাগুলোর তাবৎ কর্মীদের। এই চড়া পর্দাতেই হরদম কথা বলার রেওয়াজ এমনকি খরিদ্দারদেরও। ঠন ঠন ঠাঁই ঠাঁই। চড় চড় চড়াৎ। সামনের ঘরটিতে বসে মহাজন আর তার সহকারী। খরিদ্দারেরা এখান থেকে কেনে স্টীল ট্রাঙ্ক। কয়েকটা
-
লেখক গ্রিন—আলেক্সান্দর স্তেপানভিচ গ্রিনেভস্কির মৃত্যু হয় ১৯৩২ সালের জুলাই মাসে, প্রাচীন ক্রিমিয়ায়—প্রাচীন বাদাম গাছের বনাকীর্ণ এক ছোট শহরে। গ্রিনের জীবন ছিল কঠিন। সে জীবনের মধ্যে সব কিছুই যেন একটা বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে এমনভাবে গড়ে উঠেছিল যা গ্রিনকে একজন অপরাধী কিংবা হীন কূপমণ্ডক করে তুলতে পারত। এই বিষণ্ন প্রকৃতির মানুষটি যে কীভাবে যন্ত্রণাদায়ক অস্তিত্বের মধ্য দিয়ে বিপুল ক্ষমতাসম্পন্ন কল্পনার প্রতিভা, অনুভূতির বিশুদ্ধতা ও সলজ্জ হাসিকে অকলঙ্কিত অবস্থায় বহন করে আনেন তা দুর্বোধ্য।
বিপ্লব-পূর্ব সমাজব্যবস্থায় যে-ধরনের মানবিক সম্পর্ক ছিল আলেক্সান্দর গ্রিনের জীবনী তার বিরুদ্ধে কঠোর দন্ডবিধান। সেকালের রাশিয়া গ্রিনকে নিষ্ঠুর পরস্কারে পুরস্কৃত করে—শিশুকাল থেকেই ছিনিয়ে নেয় বাস্তবতার প্রতি তাঁর ভালোবাসা। পরিমণ্ডল ছিল
-
ছায়া কালোই হয়। কাজেই ঈগলের ছায়া কালো হবে এ আর বিচিত্র কী! কিন্তু আমাদের ভাষায় এই কালো ছায়ার একটি ভিন্নতর ব্যঞ্জনা রয়েছে। এর সাথে মিশে থাকে আতঙ্ক আর সর্বনাশ। ঈগল যখন তার প্রসারিত পাখার ছায়া ফেলে ঘুরে বেড়ায় তখন অনেক জীব-জন্তই আতঙ্কে শিউরে উঠে। কারণ ঈগলের ঘুরে বেড়ানো সখের পাড়া বেড়ানো নয়। সে ঘুরে শিকারের খোঁজে। কখন কার উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে, তার কোনো স্থিরতা নেই।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতীক এই ঈগল, যার থাবায় ধরা আছে মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র। সাধারণ ঈগল হয়তো তার তীক্ষ্ণ চক্ষু আর ধারাল নখর নিয়ে সন্তুষ্ট; কিন্তু মার্কিন ঈগল এ নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। সে অস্ত্রশস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার বীভৎস
-
বলতে গেলে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এসে প্রবেশ করেছে মধ্য প্রাচ্যে। এসেছে বৃটিশের সহযোগী হয়ে। বৃটিশের তখন দৌর্দণ্ড প্রতাপ; তাদের সাম্রাজ্যে সূর্য অস্ত যায় না। কিন্তু সেই সাম্রাজ্যের মূল ভিত্তি ছিলো সামন্তবাদী আগ্রাসন। তারি ছত্রচ্ছায়ায় বৃটিশ বেনিয়ারা সমস্ত পৃথিবী লুণ্ঠন করে পুঁজিবাদের সূত্রপাত করেছে। সেই লুণ্ঠনের বখরা নিয়েই প্রথম ও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। এর প্রভাবে যখন বৃটিশ সাম্রাজ্যে সূর্য অস্তমিত হচ্ছে, তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দেখা দিয়েছে নতুন সাম্রাজ্যের সূর্যোদয়। এ সাম্রাজ্য পুঁজিবাদের আর এ সূর্য মধ্য প্রাচ্যের তেলসম্ভারে প্রদীপ্ত।
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় বৃটিশের সহযোগাঁ হয়ে মধ্য প্রাচ্যে ঘুরতে ঘুরতেই এই তেল সম্পদের সন্ধান পেয়েছিলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এরই লোভে
-
দুর্ভাগ্যের কথা হলেও সত্য যে, প্রায় আদিকাল থেকেই শিল্পসাহিত্যের মার্কসবাদী দৃষ্টি ভ্রান্তি ও বিচ্যুতির মধ্যে যতটা প্রকাশ্য, তার সঠিক ও নির্ভুল ব্যবহারে ততটা নয়। আমরা ভিত ও ওপরতলার উপমাসূত্রে বস্তুজীবন ও শিল্পসাহিত্যমনের পরোক্ষ, জটিল ও দূরান্বয়ী সম্পর্কের কথা বলাবলি করেছি অনেক—কিন্তু কার্যত শিল্পসাহিত্যের বিচারে সেই ভারসাম্যের প্রমাণ রেখেছি সামান্যই। শুধু স্তালিন যুগের ঝ্দানভীয় অন্ধতাকে দোষ দিলে কী হবে, স্বয়ং মার্কস বা এঙ্গেলসকেও তো অনেক সাবধানবাণী উচ্চারণ করে যেতে হয়েছে, নিজেদেরই আবিষ্কৃত তত্ত্বের ভ্রান্ত প্রয়োগের জন্য খেদ করতে হয়েছে। আর এখনও পর্যন্ত, অনেক ঠেকে, অনেক জেনেও, মার্কসীয় শিল্পতত্ত্বের প্রথম ভ্রান্তির পুনরাবৃত্তি দেশে দেশে।
আমাদের দেশের অভিজ্ঞতাতেই আসা যাক। এখনও, এমন কী
-
অগ্রগমনের স্তরে, নিজেকে ক্রমশ বদল করতে করতে, এক ব্যাপকতর সামাজিক চৈতন্যময়তায় সংযুক্তি লাভ করে শিল্প—এইরকমই এক অনুভবের মধ্যে মার্কসবাদ ও কমিউনিজমে বিশ্বাসী সমস্ত শিল্পীদের শিল্পচেতনা চিরকাল ভর পেয়ে এসেছে। এই বিশ্বাসের মধ্যেই তাঁদের নতুন বাস্তবচেতনার আশ্রয়, এর মধ্যেই তাঁরা খুঁজে নেন তাঁদের শিল্পসৃষ্টির অন্বিষ্টকে, যদিও এই বাস্তবতার চরিত্র ও মাত্রা সময়ের বিবর্তনে বদলে যায়। তাই পোশাক বদলের সঙ্গে সঙ্গে আভ্যন্তরীণ শিল্পকাঠামো নতুন নাড়ীর স্পন্দনে জেগে ওঠে, তাপ ও নিশ্বাস গ্রহণের পালাবদলের মধ্যে তার সম্পূর্ণ অবয়বটি ধরা দিতে থাকে তখন, আরো বিস্তৃত কোনো সংযুক্তির তাগিদে ৷ রাস্তবতা সম্পর্কে এই জাতীয় বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ লক্ষ করা যাবে মেক্সিকোর ম্যুরাল শিল্পী ডেভিড সেকেরাসের
-
অবশ্য ইতিমধ্যেই আমরা ইসলামী দুনিয়ার কথ। শুনতে পাচ্ছি। বাংলাদেশও সেই ইসলামী দুনিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। ইসলামী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলন সেই ঘনিষ্ঠতাকে আরো ব্যাপক করে তুলছে। কিন্তু কোন্ ভিত্তির উপর এই ঘনিষ্ঠতা? কোন্ সূত্র ধরে এই ইসলামী মৈত্রী বন্ধন গড়ে উঠেছে? এ কি শুধু ইসলামী ঐতিহ্যের সোনালী স্বপ্ন? বাস্তব জীবনের সমস্যার সাথে এর কি কোনো যোগ নেই? যদি তাই হয়, তা হলে তো ইসলাম এখানে পরিপূর্ণ জীবন বিধান হিসাবে গৃহীত হয়নি। আর যদি হয়েই থাকে, তা হলে তার স্বরূপ কী? সে কি শোষণ অনাচার অবিচারের বিরুদ্ধে, না পক্ষে? শুধু ইসলামী সংস্থা, ইসলামী ব্যাংক আর ইসলামী সম্মেলন তো এ প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেনা।
-
৬৮ সালের একেবারে শেষের দিকে সারা পাকিস্তানে গণতন্ত্রের দাবিতে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে যে মিটিং মিছিলের আন্দোলন শুরু হলো তা চরমে উঠলো ৬৯-এর জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারীতে গণ অভ্যুত্থানে। শহীদের রক্তের রেখায় বাংলাদেশের মানচিত্র আলাদা করে আঁকা হয়ে গেলো।
২০শে জানুয়ারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মিছিলের ওপর গুলী চললে আসাদ শহীদ হলো ৷
এই হত্যার বিরুদ্ধে ২৪শে জানুয়ারী হরতাল, মিছিল, জমায়েত করার জন্য সারা বাংলাদেশে সংযুক্ত ছাত্র সংগ্রাম কমিটি জনসাধারণকে আহ্বান করলো। সামরিক শাসক আইয়ুব খানের বশংবদ গভর্ণর মোনায়েম খাঁ ব্যবসায়ীদের কেন্দ্রে কেন্দ্রে হরতালের বিরুদ্ধে হেঁটে হেঁটে বললেও ২৪শে জানুয়ারী সমস্ত দোকান পাট বন্ধ হলো। গাড়ীর চাকা ঘুরলো না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী তরু
-
যশোর জেলের নিরাপত্তা বন্দীদের দোতলা ওয়ার্ডের নীচতলায় জানালার কাছে কি যেন ঘটেছে। দূর থেকে দালাল গোছের বিশেষ সুবিধাভোগী কয়েদীরা চীৎকার করছিল। ভরদুপুর। এইমাত্র ছোট যশোর জেলে চৌকার বারান্দায় ডিউটি জমাদার সফদর আলী জুতো-মোজা-জামা ছেড়ে দুই জবরদস্ত চেহারার কয়েদীকে দিয়ে হাত-পা টেপাচ্ছিল। সে আঁতকে উঠে দাঁড়ালো খালি গায়েই কাছে রাখা রুলটা হাতে নিয়ে। যারা পা টিপছিল তারা জমাদার সাহেবকে জামা পরিয়ে দিল।
একটা ছুটোছুটি হচ্ছিল চারদিকে। কিন্তু জমাদারকে বিস্মিত করে সেই দালাল কয়েদীরা কোত্থেকে দৌড়ে এসে সামনেই নিরাপত্তা বন্দীদের ওয়ার্ডের জানালার কাছে গিয়ে উঁকি দিল। তারপর জানালার নীচে বাইরে বসে পড়া এক ছোকরা কয়েদীকে টেনে তুলে তার নাকে মুখে থাপ্পর কষতে
-
'৪৮ সালের প্রথম ভাষা আন্দোলনের পরে তখনকার মুক্তিসংগ্রামী রাজ- নৈতিক কর্মীদের যে ধরপাকড় শুরু হয়, তার ধারাটা '৭১ পর্যন্ত প্রায় একই রকম ছিল। একবার ঢোকালে আর বের করার নাম নেই। দরকার হয়েছে বড় বড় ঠেলার। তবে জেলের দরজা খুলেছে। যেমন '৫২-র ২১শে ফেব্রুয়ারীর ঠেলা, '৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের জয়ের ঠেলা, '৬২ সালের এন, ডি, এফ'এর ঠেলা, '৬৯ এর এগারো দফার ঠেলা। তারপর '৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে কত জেলের রাস্তা তো সদর রাস্তা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু প্রথম প্রথম জেলবন্ধের সময়টা বেশী হতো। ভেতরে যারা থাকতো তারা মনে করতো সারা পৃথিবীটা নিঝুম। কবে জাগবে ছাত্র-জনতা? নোয়াখালির কৃষকনেতা মমতাজ মিঞা গাঁয়ের চেয়ারম্যান, প্রথম
-
দীর্ঘকাল সফরের পর বেরিং বাড়ি ফিরে আসার আগে আগে তার ছেলে, ছোট্ট টম বেরিং কর্ণেলিয়া-পিসি আর তার স্বামী কার্ল-পিসেমশাইয়ের কাছে নাস্তানাবুদ হল।
টম অন্ধকার লাইব্রেরী-ঘরে সাবানের ফেনার রঙিন বুদ্বদ ছাড়ছিল। এর চেয়েও বড় বড় অপরাধ অবশ্য সে করেছে: যেমন, আতসকাচ দিয়ে হলুদ পর্দা ফুটো করে দেওয়া ‘দেকামেরন’ বই খুলে তার ছবি দেখা, পড়শীর ছেলের সঙ্গে মারামারি—তবে কর্ণেলিয়াকে বিশেষ করে উত্তেজিত করে তোলে সাবানের বুদ্বুদ। বিশাল, কেতাদুরস্ত বাড়িতে এরকম চাপল্য অসহ্য, তাই কার্ল -পিসেমশাই গম্ভীর ভাবে বালকের কাছ থেকে সাবানের ফেনাসুদ্ধ পাত্রটা কেড়ে নিলেন, আর কর্ণেলিয়া-পিসি কাচের নলটা।
কর্ণেলিয়া অনেকক্ষণ ধরে টমকে নষ্ট ছেলেদের নিদারুণ ভাগ্য সম্পর্কে—ভবিষ্যদ্বাণী করে বললেন যে তারা
ক্যাটাগরি
ট্যাগ
লেখক
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.