ইসলামী দুনিয়া
অবশ্য ইতিমধ্যেই আমরা ইসলামী দুনিয়ার কথ। শুনতে পাচ্ছি। বাংলাদেশও সেই ইসলামী দুনিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। ইসলামী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলন সেই ঘনিষ্ঠতাকে আরো ব্যাপক করে তুলছে। কিন্তু কোন্ ভিত্তির উপর এই ঘনিষ্ঠতা? কোন্ সূত্র ধরে এই ইসলামী মৈত্রী বন্ধন গড়ে উঠেছে? এ কি শুধু ইসলামী ঐতিহ্যের সোনালী স্বপ্ন? বাস্তব জীবনের সমস্যার সাথে এর কি কোনো যোগ নেই? যদি তাই হয়, তা হলে তো ইসলাম এখানে পরিপূর্ণ জীবন বিধান হিসাবে গৃহীত হয়নি। আর যদি হয়েই থাকে, তা হলে তার স্বরূপ কী? সে কি শোষণ অনাচার অবিচারের বিরুদ্ধে, না পক্ষে? শুধু ইসলামী সংস্থা, ইসলামী ব্যাংক আর ইসলামী সম্মেলন তো এ প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেনা। এর জন্য সুস্পষ্ট বক্তব্য থাকা দরকার; দর্শনীয় ভিত্তি গড়ে তোলা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে এর কোনো কিছুই তো দেখতে পাচ্ছিনা। বরং দেখে শুনে মনে হচ্ছে, ইসলাম এখানে একটা আচার সর্বস্ব ধর্মমত ছাড়া অন্য কিছু নয়। যে সব দেশের অধিকাংশ অধিবাসী মুসলমান কিংবা মুসলমান অধিবাসীরা সংখ্যায় স্বল্প হয়েও উল্লেখযোগ্য, সে সব দেশের অনেকগুলিকেই ইসলামী দুনিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একমাত্র সকলের ধর্মমত ইসলাম ছাড়া এ সকল দেশের সুস্পষ্ট কোনো রাজনৈতিক মতৈক্য বা আদর্শের ভিত্তি নেই। এখানে নির্বিশেষে মুসলমান অধ্যুষিত সবগুলি দেশের নাম উল্লেখ করা প্রয়োজন। অবশ্য এ সকল দেশের মধ্যে মাত্র চল্লিশটি দেশ ইস-লামী দুনিয়ার অন্তর্গত। তবু এ সকল দেশের রাজনৈতিক চরিত্র বিশ্লেষণ করলেই এ কথার সত্যতা বেরিয়ে আসবে।
(ক) শতকরা আশি ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত
১. আফগানিস্তান, ২. আলজেরিয়া, ৩. বাহরাইন, ৪. বাংলাদেশ, ৫. গাম্বিয়া, ৬. মিশর, ৭. ইন্দোনেশিয়া, ৮. ইরান, ৯. ইরাক, ১০. জিবুতি, ১১. জর্ডন, ১২. কুয়েত, ১৩. লিবিয়া, ১৪. মালদ্বীপ, ১৫. মরক্কো, ১৬. মউরিতানিয়া, ১৭. নাইজার, ১৮. ওমান, ১৯. পাকিস্তান, ২০. ইয়ামেন, ২১. কাতার, ২২. সউদী আরব, ২৩. সিনেগাল, ২৪. সিরিয়া, ২৫. সোমালিয়া, ২৬. তিউনিসিয়া, ২৭. তুরস্ক, ২৮. সংযুক্ত আরব আমীরাত, ২৯ গণতন্ত্রী ইয়ামেন,
(খ) শতকর। পঞ্চাশ থেকে আশি ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত
৩০. আলবানিয়া, ৩১. ব্রুনাই, ৩২. গিনি, ৩৩. লেবানন, ৩৪. মালয়েশিয়া, ৩৫. মালি, ৩৬. সুদান, ৩৭. চাদ,
(গ) শতকরা দশ থেকে পঞ্চাশ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত
৩৮. বেনিন, ৩৯. বুলগেরিয়া, ৪০. বার্মা, ৪১-ক্যামারুন, ৪২০ সাইপ্রাস, ৪৩. ইথিউপিয়া, ৪৪. ঘানা, ৪৫. ভারত, ৪৬. আইভরী কোস্ট, ৪৭. গিনি বিসাও, ৪৮. লাইবেরিয়া, ৪৯. নাইজেরিয়া, ৫০. সিয়ারা লিউন, ৫১. সিঙ্গাপুর, ৫২. তাঞ্জানিয়া, ৫৩. আপার ভোল্টা, ৫৪. যুগোশ্লাভিয়া,
(ঘ) শতকরা দশ ভাগের কম অথচ উল্লেখযোগ্য মুসলমান অধ্যুষিত
৫৫. মধ্য আফ্রিকা, ৫৬. ইস্রাইল, ৫৭. কেনিয়া, ৫৮. লাওস, ৫৯. মালাবী, ৬০. মোজাম্বিক, ৬১ চীন, ৬২. ফিলিপাইন, ৬৩. রুয়ান্দা, ৬৪. শ্রীলংকা, ৬৫. থাইল্যান্ড, ৬৬. টগো, ৬৭. উগান্ডা, ৬৮. জায়ারে এবং অন্যান্য আরো কিছু সংখ্যক দেশ।
এর সঙ্গে আমরা সোভিয়েত ইউনিয়নের পাঁচটি মুসলমান অধ্যু-যিত অঞ্চলকে মিলিয়ে নিতে পারতাম; তবে তারা কি আর মুসলমান আছে!! সমাজতন্ত্রের জোয়াল কাঁধে নিয়ে তারা মুসলমানী থেকে খারিজ হয়ে গেছে! অবশ্যি চীন, আলবানিয়া কিংবা যুগোশ্লাভিয়ার কথা স্বতন্ত্র। কারণ তারা বোধ হয় এখনো পুরোপুরি খারিজ হয়নি!
সে যা হোক, আপাততঃ যে সকল দেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, এগুলির রাজনৈতিক আদর্শ ও অবস্থান বিচার করলেই বোঝা যাবে যে, ইসলামী দুনিয়ার বন্ধন সূত্রটি কতো ঠুনকো শুধুমাত্র ইসলামের নাম। এজন্যই আমরা বলেছিলাম যে, এখানে ইস-লামকে অন্যান্য ধর্মের মত একটি ধর্মমত হিসাবেই ব্যবহার করা হয়েছে। ইসলামের শিক্ষা, তার ঐতিহ্য এই বন্ধন সূত্রের উপর কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।
তা হলে কেন, কোন্ উদ্দেশ্যে এই ইসলামী দুনিয়ার সৃষ্টি? যদি কোনো জাতীয়তাবাদের
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments