-
১৯২৫ সালের দিকে বগুড়া জেলার রোহাদহ গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে উম্মে হানী খানমের জন্ম। আদর্শ মা হিসেবে তিনি তার সব সন্তানকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। বৃদ্ধ বয়সেও একটি সুস্থ সমাজের স্বপ্ন তার চোখের তারায় ভাসছে। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ছিল ব্যাপক। তার বাবা চাইতেন যেন তার ছেলেরা উচ্চশিক্ষিত হয় এবং মনে করতেন মেয়েদের পড়াশোনার প্রয়োজন নেই। তিনি প্রাথমিক স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েন। সব পরীক্ষাতেই খুব ভালো করতেন। অঙ্কে সব সময় ১০০-তে ১০০ পেতেন। তবু শুধু নারী বলেই তিনি পড়া চালিয়ে যেতে পারেননি। তিনি বাড়িতে সারাদিন সাহিত্য-রাজনীতিসহ নানাবিধ বই পড়তেন দেখে মায়ের বহু বকা শুনতেন। নারী
-
দাম্পত্য জীবনে মান-অভিমান, ঝগড়া-বিবাদ চিরসঙ্গী। বাবা-মায়ের এ বিবাদেরই নির্মম বলি হতে হলো ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী হৃদিতাকে। বাবা ও মায়ের মধ্যে ঝগড়া এবং তারই সূত্রে আলাদা বসবাসের কারণে অভিমান থেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিল হৃদিতা। একটি নিষ্পাপ কিশোরীর জীবন ঝরে পড়ল অসময়ে। কীভাবে এ জীবন রক্ষা করা সম্ভব?
দিন দিন বাংলাদেশে বিবাহবিচ্ছেদের হার যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি নানা কারণে দাম্পত্যজীবনে অশান্তি লেগেই রয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের প্রতি সম্মান, বিশ্বাসের অভাব থেকেই সাধারণত বিবাদের শুরু এবং সম্পর্কে টানাপড়েন। বাবা-মায়ের মধ্যকার ভুল বোঝাবুঝি, ডিভোর্স সন্তানের মানসিক বিকাশে খুবই খারাপ প্রভাব ফেলে এবং এক্ষেত্রে সন্তানের লেখাপড়া, জীবন সবকিছুই হয়ে ওঠে অনিশ্চিত। অনেক
-
ভারতে বহুল আলোচিত ও সমালোচিত বিষয় হচ্ছে একটি ব্যতিক্রমী পেশা। ভারতের গুজরাটের একটি ছোট শহরই এ পেশার কেন্দ্রবিন্দু। শহরের দরিদ্র বাসিন্দা গৃহবধূ শবনম এখন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অনাগত সন্তানকে ঘিরে তার অনেক স্বপ্ন। তবে এই স্বপ্ন আর সব মায়ের থেকে ভিন্ন। এই সন্তানকে তিনি চার লাখ রুপিতে বিক্রি করে নিজের জন্য বাড়ি করবেন। এক কথায় বলতে গেলে তিনি তার গর্ভাশয় ভাড়া দিচ্ছেন। গর্ভাশয় ভাড়া দেওয়াই তার পেশা। শহরের বিখ্যাত চিকিৎসক নয়না পাটেলের ক্লিনিকে সে সন্তান জন্ম দেওয়া হবে। শুধু তিনি নন, আরও দুই শ নারী তার ক্লিনিকে তালিকাভুক্ত আছেন। ওই ক্লিনিকে গর্ভাশয় ভাড়া দিয়ে প্রথম সন্তান জন্ম দেওয়া হয় পাঁচ
-
কয়েক দিন ধরে নিলুফার ইয়াসমীন খুব চিন্তায় আছেন। তাদের একমাত্র ছেলে বর্ণকে খুব অন্যমনস্ক মনে হচ্ছে। হঠাৎ করেই ও একধরনের দূরত্ব রেখে চলছে। আগে এসেই স্কুলের সব গল্প করত। তার পাশে বসে থাকত। এখন ও ক্লাস নাইনে উঠেছে। একটু বড় বড় ভাব। তাকে এড়িয়ে চলছে। শুধু তা-ই নয়, খাওয়ার সময়ও নিজের ঘরে গিয়ে দরজা আটকে একাই খাচ্ছে। তার মনে হচ্ছে, তিনি নিজের ছেলেকেই আর চিনতে পারছেন না।
হঠাৎ করে কেন এই দূরত্ব তৈরি হলো তাদের মাঝে? এই ছেলেকেই তিনি কিছুদিন আগে নিজ হাতে খাইয়েও দিয়েছেন। তিনি বুঝতে পারছেন যে ছেলেটা মানসিকভাবে এখন একটা কঠিন সময় পার করছে। কিন্তু তিনি কোনো
-
‘কখন থেকে মেয়েটা কেঁদে যাচ্ছে। অথচ আমি ওই ঘরে যেতেই পারছি না। অপারেশনের ব্যথার কারণে অনেক সময় লাগছে যেতে। ওর কান্না বন্ধই হচ্ছে না। আমি প্রায় চিৎকারই করছি, আমার স্বামীকে ডাকছি। এমন সময় ঘুমটা ভেঙে গেল।’ যেন মেয়েটা ক্ষুধায় কান্না না শুরু করে, সেজন্য রাতে বেশ কয়েক ঘণ্টা পরপরই অ্যালার্ম দিয়ে ঘুমাই। তবে চিন্তায় অ্যালার্মের আগেই ঘুম ভেঙে যায় আমাদের। এই প্রবাসে সন্তান জন্ম, লালন পালন এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা। একজন মা হিসেবে একাকী লালন-পালন, খাওয়ানো সব করা আসলেই খুব কঠিন। মাত্র পাঁচ মাস হতে চলল আমার মেয়ের। এই আমেরিকাতেই ওর জন্ম। আমি আর ওর বাবা মিলে ওর জন্মের বহু আগে
-
আমাদের চিরচেনা জগৎ ধীরে ধীরে হারিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে চলেছে ধ্বংসের দিকে। এর মূল কারণ পরিবেশদূষণ। পবিবেশদূষণ, গাছপালার নিধন আমাদের জলবায়ুকে করে তুলছে প্রতিকূল। গ্লোবাল ওয়ার্মিং আজ সারা বিশ্বের জন্যই ভয়াবহ অভিশাপ। এ পরিবেশদূষণ ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে করে তুলছে বসবাসের অযোগ্য; তাদের ভবিষ্যৎ জীবনকে করে তুলছে অনিশ্চিত।
পৃথিবীর অন্য বহু দেশের তুলনায় বাংলাদেশ অতি ক্ষুদ্র। তবে আমাদের পৃথিবীকে বাঁচাতে হলে প্রতিটি দেশকে হতে হবে পরিবেশ-সচেতন এবং পৃথিবীকে করে তুলতে হবে চিরসবুজ ও দূষণমুক্ত। একজন মানুষের মধ্যে মানবজাতি রক্ষার্থে এই পরিবেশ-সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ-দূষণ রোধের মূল্যবোধ তৈরিতে মায়ের চেয়ে বড় শিক্ষক আর কেউ নন। একজন মা-ই পারেন তার সন্তানের মধ্যে পরিবেশ-সচেতনতা
-
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাঙালি নারীর প্রতিবাদী মুখ আবার সারা বিশ্বের কাছে উদ্ভাসিত হলো শাহবাগে গণজাগরণের মধ্য দিয়ে। শাহবাগ আন্দোলনে প্রায় প্রতিদিন এই আন্দোলনকে চাঙ্গা রেখেছে নারীদের জ্বালাময়ী কণ্ঠের স্লোগান। পৃথিবীতে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর—কাজী নজরুল ইসলামের এই বাণীর যথার্থতা প্রমাণের মধ্য দিয়ে পুরুষের পাশাপাশি এক মঞ্চে স্লোগান দিয়ে নারীরা বীরের মতো নেতৃত্ব দিয়েছে এ আন্দোলনে। স্লোগানকন্যা লাকি আক্তারের পাশাপাশি দিন-রাত স্লোগানের ঝড় তুলেছে মুক্তা বাড়ৈ, প্রগতি বর্মন, সুস্মিতা রায় সুপ্তি, জয়শ্রী রায়, তানিয়া, সামিয়া রহমান, উম্মে হাবিবা বেনজির, তানজিদা তুবা প্রমুখ। তাদের এই
-
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের নারীদের রয়েছে ঐতিহাসিক ভূমিকা। বহু নারী যুদ্ধের সময় জীবন দিয়েছেন। অস্ত্র হাতে পুরুষের পাশাপাশি লড়াই করেছেন, নানা অপারেশনে অংশগ্রহণ করেছেন। তেমনি সে সময় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা দিয়ে সুস্থ করে তুলেছেন নারী মুক্তিযোদ্ধারা। বহু নারী মুক্তিযোদ্ধা বেতার কেন্দ্রে কাজ করেছেন শিল্পী হিসেবে, যা প্রতি ক্ষণে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে খবর, অস্ত্র আদান-প্রদানের কাজ করেছেন তারা। মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি পর্ব থেকেই নারীসমাজ পালন করে আসছিল অগ্রণী ভূমিকা। তেমনি তিন মহীয়সী নারী মুক্তিযোদ্ধার কথাই বলছি।
নাসরীন রব রুবা
১৯৭১ সালের ১০ মার্চ। তখন তিনি হলি ক্রস কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। সেদিনই হঠাৎ করে জানতে পারেন ১৪
-
‘এ্যাই, সাবলেট থাকতে কেমন রে? অসুবিধা হয় না?’
রাত দশটা না বাজতেই গৃহকর্তার বজ্রকণ্ঠের হাঁক, ‘এত রাতে লাইট জ্বলে কেন? বিদ্যুৎ বিলের রেইট বেড়েছে, জানো না?’—এইসব আর কী! ক্যাম্পাসে একটা হাসির ঢেউ উঠল। ইডেন কলেজে ক্লাসের ফাঁকে বান্ধবীদের আড্ডা চলছিল।
পরিবার থেকে দূরে ঢাকায় পড়তে আসা শিক্ষার্থী বা অবিবাহিত কর্মজীবী নারীদের জন্য আবাসস্থল এক বড় সংকট। কারণ, ঢাকায় তাদের থাকার জন্য চাহিদা অনুযায়ী হল বা মেসের সংখ্যা খুবই কম। এজন্য গড়ে উঠেছে সাবলেট প্রথা। এ ক্ষেত্রে কোনো পরিবার বাড়ির একটি বা দুটি ঘর ভাড়া দেয় নিজেদের প্রয়োজনে। সম্পূর্ণ নতুন পরিবারের সঙ্গে থাকতে নারীরা যেমন নিরাপত্তার অভাব অনুভব করে, তেমনি কঠিন
-
নারী নির্যাতন এখন বিশ্বজুড়ে বহুল আলোচিত ইস্যু। কিন্তু তবু এর প্রতিরোধ ও প্রতিকারের ক্ষেত্রে অগ্রগতি ঘটেছে সামান্য। বরং নারী নির্যাতনের নানারূপী ভয়াবহতা উদ্বেগজনকভাবে ক্রমবর্ধমান। এর অন্যতম কারণ হলো নারী নির্যাতনের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ব্যর্থতা কিংবা অনীহা। কেননা অধিকাংশ রাষ্ট্র আর দশটা অপরাধের মতো নারী নির্যাতনকে দেখে থাকে। একে সাদামাটা শাস্তিযোগ্য অপরাধরূপে চিহ্নিত করে এবং এ জন্য আইন-কানুন ও নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি কিছু প্রতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেয়। অথচ এখানে নারী নির্যাতনের মূল কারণগুলো যথাযথভাবে সনাক্ত না হওয়ায় সদিচ্ছা সত্ত্বেও সকল প্রচেষ্টা অবশেষে কাগুজে তৎপরতায় পযবেসিত হয়। ফলে নির্যাতিত নারীর অসহায়, নিরূপায় ও দুর্বল ভাবমূর্তি তার ন্যায়বিচার প্রাপ্তিকে সমাজের করুণার বিষয়ে পরিণত করে।
উৎস
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.