পুরুষরা কেন নারী নির্যাতন করে
নারী নির্যাতন এখন বিশ্বজুড়ে বহুল আলোচিত ইস্যু। কিন্তু তবু এর প্রতিরোধ ও প্রতিকারের ক্ষেত্রে অগ্রগতি ঘটেছে সামান্য। বরং নারী নির্যাতনের নানারূপী ভয়াবহতা উদ্বেগজনকভাবে ক্রমবর্ধমান। এর অন্যতম কারণ হলো নারী নির্যাতনের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ব্যর্থতা কিংবা অনীহা। কেননা অধিকাংশ রাষ্ট্র আর দশটা অপরাধের মতো নারী নির্যাতনকে দেখে থাকে। একে সাদামাটা শাস্তিযোগ্য অপরাধরূপে চিহ্নিত করে এবং এ জন্য আইন-কানুন ও নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি কিছু প্রতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেয়। অথচ এখানে নারী নির্যাতনের মূল কারণগুলো যথাযথভাবে সনাক্ত না হওয়ায় সদিচ্ছা সত্ত্বেও সকল প্রচেষ্টা অবশেষে কাগুজে তৎপরতায় পযবেসিত হয়। ফলে নির্যাতিত নারীর অসহায়, নিরূপায় ও দুর্বল ভাবমূর্তি তার ন্যায়বিচার প্রাপ্তিকে সমাজের করুণার বিষয়ে পরিণত করে। অন্যদিকে আবার তাত্ত্বিকভাবে নারী নির্যাতনের উৎস অনুসন্ধানের বিদ্যমান মূল প্রবণতা হলো নারী-কেন্দ্রিক। অর্থাৎ নারীর দিক থেকেই নারী নির্যাতনের কারণ খোঁজার চেষ্টা চলে।
যেমন ক্ষমতাহীনতার কারণেই নারীর ওপর নির্যাতন ঘটে। এ ধরনের ব্যাখ্যার সঠিকতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন না থাকলেও, তা একরৈখিক ও সরলীকৃত। কেননা নারীর ক্ষমতাহীনতাকে কেবল নারী নির্যাতনের কার্য-কারণ রূপে শনাক্ত করার ফলে এর সমাধান আশা করা হয় নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বেশ কিছু অগ্রগতি সাধিত হলেও, নারী নির্যাতন সেই অনুপাতে কমছে না। বরং নারীর ক্ষমতায়নের নানামাত্রিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি নারী ও পুরুষের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এর প্রতিফলস্বরূপ নানা ধরনের নারী নির্যাতন তীব্র আকার ধারণ করছে। এ সংক্রান্ত জাতীয় ও বৈশ্বিক তথ্য-উপাত্ত তার প্রমাণ। সে জন্য সাম্প্রতিককালে পুরুষের দিক থেকে নারী নির্যাতনের কারণ অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন সমাজবিজ্ঞানীরা। কেননা পুরুষরাই নারী নির্যাতন চালায়। তাই পুরুষরা কেন নারী নির্যাতনকারী হয় বা হয়ে উঠে, সে বিষয়টি বিশ্লেষণ করাটা জরুরি। তা না হলে নারী নির্যাতনকে কেবল নারীর ক্ষমতাহীনতা ও অসহায়ত্বের পরিণতি হিসেবে চিহ্নিত করে এর প্রতিকারের জন্য যতই উদ্যোগ নেওয়া হোক না কেন, সেটা হবে রোগের মূল কারণের বদলে নিছক রোগের উপসর্গ বা লক্ষণের চিকিৎসা। এ ধরনের দাওয়াইয়ে এই সামাজিক ব্যাধির সাময়িক উপশম হলেও, এই রোগ থেকে সমাজের চিরতরে মুক্তি লাভ সম্ভব হবে না।
এটা ঠিক যে নারী নির্যাতনকারী হিসেবে পুরুষরা অভিযুক্ত হলেও, অনেক পুরুষই নারী নির্যাতনকারী নয়। কিন্তু তবুও নারী নির্যাতনকারী হয়ে ওঠার নেতিবাচক প্রবণতা কম-বেশি প্রতিটি পুরুষ ধারণ করে। আর এই মন্দ বৈশিষ্ট্য পুরুষেরা কোনো আত্মগত ক্রুটি-বিচ্যুতি নয়, বরং তা পুরুষের সামাজিক নির্মিতর কুফল। কারণ পুরুষতান্ত্রিক সমাজ এবং তার উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ভাবাদর্শ, সংস্কৃতি, রীতি-নীতি, প্রথা এসবই পুরুষের মধ্যে এই নির্যাতনকারিহবার বীজ বপন করে। পুরুষতন্ত্র তার রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি সব কিছু দিয়ে এমন এক পুরুষত্বের তৈরি করে, যা পুরুষকে নির্যাতক এবং বিশেষ করে নারী নির্যাতক হতে মদদ যোগায়। আর পুরুষত্বের এই ধারণা ক্রমে হাজার হাজার বছর ধরে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে গ্রাস করে স্থায়িত্ব পায়। অবশেষে এই পুরুষত্বের ধারণায় তাড়িত হয়ে পুরুষরা নারীর উপর নির্যাতন চালায় এবং পুরুষের এই অত্যাচারক ভাবমূর্তি সমাজ, সংসার, রাষ্ট্র কর্তৃক প্রশ্রয় ও অনুমোদন লাভ করে।
বিদ্যমান পুরুষত্ব সংক্রান্ত ধারণা অনুযায়ী পুরুষরা হলো শ্রেষ্ঠ, শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান। পুরুষ তাই এ সবের প্রতীক। শুধু তাই নয়, বলপ্রয়োগের মাধ্যমে অন্যের উপর নিজের এই শ্রেষ্ঠত্ব, ক্ষমতা বা শক্তি প্রয়োগ করাটাই পৌরুষ বা পুরুষত্বের লক্ষণ। ফলে এই পুরুষত্ব হলো আগ্রাসী, আক্রমণাত্নক এবং আধিপত্য বা প্রাধান্য বিস্তারকারী। এ ছাড়াও যুদ্ধংদেহী বা যুদ্ধবাজ, নিয়ন্ত্রণকারী, বেপরোয়া, কঠোর, নিষ্ঠুর, রুক্ষ, নির্যাতক, ধর্ষক, কর্তৃত্বপরায়ণ, অনমনীয়, প্রতিযোগী, আবেগহীন, দৃঢ়, প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধপরায়ণ, অপরাধী, একনায়ক ইত্যাদি বিষয়কেও পুরুষত্বের ধারণার আন্তর্ভূক্ত করা হয়। তবে বিদ্যমান পুরুষত্বের
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
৳৯৯
এক মাস
৳৩০
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments