-
দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনাম ১৯৪৫ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামে জয়লাভ করে সমাজ পরিবর্তনের পথে অগ্রসর হওয়ার কর্মসূচী নিলেও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ লড়াই পরিচালনা করতে বাধ্য হয়েছে আরও তিন দশক কাল। কৃষি প্রধান এই দেশের আয়তন ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৬ শত বর্গ কিলোমিটার এবং লোকসংখ্যা ৫ কোটি ৭০ লাখ (১৯৮৩ সালের তথ্য)।
পূর্ব ইতিহাস
অতি প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান ভিয়েতনামের ভূখণ্ডে মনুষ্য বসতি ছিল বলে জানা যায়। ব্রোঞ্জ যুগে হ্যাং রাজবংশের শাসনামলে ভিয়েতনামে জাতীয় রাষ্ট্র গড়ে ওঠে। খ্রীষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকে কাও ব্যাং প্রদেশের একজন স্থানীয় রাজা গোটা দেশ অধিকার করেন। এরপর একের পর এক ঘটে চীনা আক্রমণ এবং হাজার বছর ধরে
-
দ্য জাকার্তা মেথড: ওয়াশিংটন’স অ্যান্টি-কমিউনিস্ট ক্রুসেড অ্যান্ড দ্য মাস মার্ডার প্রোগ্রাম দ্যাট শেপড আওয়ার ওয়ার্ল্ড (The Jakarta Method: Washington's Anticommunist Crusade and the Mass Murder Program that Shaped Our World)
লেখক: ভিনসেন্ট বেভিনস (Vincent Bevins)
প্রকাশক: পাবলিক অ্যাফেয়ার্স (PublicAffairs)
প্রকাশকাল: মে ২০২০
নিজেকে সমাজতন্ত্রী বলে পরিচয় দেওয়া যে কাউকে জীবনের কোনো না কোনো সময় একটি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। প্রশ্নটি হলো, ‘সমাজতন্ত্রের নামে এ পর্যন্ত কত মানুষের প্রাণ গেছে?’ উত্তরে তারা একথা বলতে পারেন যে সোভিয়েত ধাঁচের রাষ্ট্রীয় সমাজতন্ত্রের সঙ্গে জেরেমি করবিনের মতো হাল আমলের রাজনীতিবিদদের উপস্থাপিত গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের পার্থক্য প্রায় ঠিক ততটাই, যতটা পার্থক্য রয়েছে প্রায় দেখতে একই রকম
-
অবশ্য ইতিমধ্যেই আমরা ইসলামী দুনিয়ার কথ। শুনতে পাচ্ছি। বাংলাদেশও সেই ইসলামী দুনিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। ইসলামী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলন সেই ঘনিষ্ঠতাকে আরো ব্যাপক করে তুলছে। কিন্তু কোন্ ভিত্তির উপর এই ঘনিষ্ঠতা? কোন্ সূত্র ধরে এই ইসলামী মৈত্রী বন্ধন গড়ে উঠেছে? এ কি শুধু ইসলামী ঐতিহ্যের সোনালী স্বপ্ন? বাস্তব জীবনের সমস্যার সাথে এর কি কোনো যোগ নেই? যদি তাই হয়, তা হলে তো ইসলাম এখানে পরিপূর্ণ জীবন বিধান হিসাবে গৃহীত হয়নি। আর যদি হয়েই থাকে, তা হলে তার স্বরূপ কী? সে কি শোষণ অনাচার অবিচারের বিরুদ্ধে, না পক্ষে? শুধু ইসলামী সংস্থা, ইসলামী ব্যাংক আর ইসলামী সম্মেলন তো এ প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেনা।
-
ছায়া কালোই হয়। কাজেই ঈগলের ছায়া কালো হবে এ আর বিচিত্র কী! কিন্তু আমাদের ভাষায় এই কালো ছায়ার একটি ভিন্নতর ব্যঞ্জনা রয়েছে। এর সাথে মিশে থাকে আতঙ্ক আর সর্বনাশ। ঈগল যখন তার প্রসারিত পাখার ছায়া ফেলে ঘুরে বেড়ায় তখন অনেক জীব-জন্তই আতঙ্কে শিউরে উঠে। কারণ ঈগলের ঘুরে বেড়ানো সখের পাড়া বেড়ানো নয়। সে ঘুরে শিকারের খোঁজে। কখন কার উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে, তার কোনো স্থিরতা নেই।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতীক এই ঈগল, যার থাবায় ধরা আছে মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র। সাধারণ ঈগল হয়তো তার তীক্ষ্ণ চক্ষু আর ধারাল নখর নিয়ে সন্তুষ্ট; কিন্তু মার্কিন ঈগল এ নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। সে অস্ত্রশস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার বীভৎস
-
রেবতীমোহন বর্মণআর আমাদের ভিতরে নেই। ৬ মে (১৯৫২) তারিখে তিনি ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা শহরে মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছেন। সুদীর্ঘ বারো বৎসর কাল দুরারোগ্য কুষ্ঠ-ব্যাধির সহিত সংগ্রাম করে শেষ পর্যন্ত এই ব্যাধির হাতেই তিনি নিজের জীবনকে সঁপে দিতে বাধ্য হয়েছেন।
তাঁর মৃত্যুতে আমরা যে শুধু একজন বিশিষ্ট বিপ্লবীকে হারালাম তা নয়, মার্কসবাদের একজন একনিষ্ঠ ছাত্রও আজ চিরদিনের মতো আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। এদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনকে তাঁর আরো অনেক অবদান দেওয়ার ছিল, কিন্তু দুষ্ট ব্যাধি তা থেকে আমাদের বঞ্চিত করে দিল।
তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কৃতী ছাত্র ছিলেন। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় একজন সুলেখকও ছিলেন তিনি। কিন্তু এই পরিচয় তাঁর একমাত্র পরিচয়
-
শত বছর পূর্বে রাশিয়ায় ঘটে এক বিশ্বকাঁপানো ঘটনা, যা মানব সভ্যতার গতিপথ পাল্টে দেয়। দুনিয়াটা আর অতীতের ধারাবাহিকতায় অক্ষুণ্ন থাকে না, ছেদ ঘটায়। হাজার বছরের শোষণ-বঞ্চনা-অত্যাচার থেকে নিজেদের মুক্ত করার এক মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করে রুশ দেশের মেহনতি মানুষ। শোষণহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সমতার সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। বহু যুগের অন্যায়-অবিচার-জুলুম-নিপীড়ন-ভেদাভেদ-অমর্যাদা-অধিকারহীনতার অবসান হয়। গোটা বিশ্বকে এক নয়া উন্নত মানবিক সভ্যতার পথ দেখায় তারা, যার নাম 'সমাজতন্ত্র'। ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর রাশিয়ায় এই সমাজতন্ত্র কায়েমের মহাকর্মযজ্ঞ দুনিয়া কাঁপানো ‘রুশ বিপ্লব’ রূপে খ্যাত। অতীতে নানা দেশে আরও অনেক বিপ্লব ঘটেছে। কিন্তু এসব বিপ্লব অধিকাংশ মানুষের ওপর মুষ্টিমেয়ের শোষণ-শাসন-নিপীড়নের অবসান ঘটায়নি। কেবল এসবের ধরন
-
দীর্ঘ সংগ্রামের পতাকাবাহী বুলগেরিয়ার শ্রমজীবী মানুষ ১৯৪৪ সালে রাষ্ট্রক্ষমতা অধিকার করে। ১১০,১০০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই বলকান দেশটিতে ১ কোটির কাছাকাছি সংখ্যক মানুষ বসবাস করে।
সংগ্রামের প্রাচীনকাল
সুদূর অতীত থেকে বুলগেরিয়ার মানুষ বিদেশী আধিপত্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে এসেছে। বর্তমান বুলগেরিয়ানদের প্রাচীন পূর্বপুরুষ থেসিয়ানরা ছিল ইন্দো-ইউরোপীয় গোষ্ঠীর মানুষ। খ্রী.পূ. ৫ম শতকের মধ্যেই তাদের কয়েকটি শক্ত রাষ্ট্র গড়ে ওঠে। সে সময়ে প্রতিনিয়তই গ্রীস, রোমসহ বিভিন্ন বিদেশী শক্তির সাথে তাদেরকে সংগ্রামে লিপ্ত হতে হয়। খ্রী.পূ. ২য় শতাব্দীতে তারা রোমানদের অধীনে চলে যেতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে রোম সাম্রাজ্য দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেলে বুলগেরিয়া পূর্ব রোম তথা বাইজানটাইন সাম্রাজ্যের অধীনস্থ হয়। দাস সমাজের ধারক রোম সাম্রাজ্যের
-
চেক ও শ্লোভাক প্রজাতন্ত্রদ্বয়ের ফেডারেশন চেকোশ্লোভাকিয়া ১৯৪৫ সালের ১ মে নাৎসী দখলদারদের কবল থেকে মুক্তি লাভ করে। দেশটির আয়তন ১ লাখ ২৮ হাজার বর্গ কিলোমিটার, জনসংখ্যা ১ কোটি ৫০ লাখ । চেক ও শ্লোভাক জাতির আবাসভূমি চেকোশ্লোভাকিয়া নাৎসী দখলদারদের কবল থেকে মুক্ত হওয়ার পর ধীরে ধীরে সমাজতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করে। ইউরোপের প্রাচীন দেশ হওয়া সত্ত্বেও চেকোশ্লোভাকিয়াকে দীর্ঘদিন পর্যন্ত বিদেশী আগ্রাসনের শিকার হয়ে থাকতে হয়েছিল।
শোষণের দীর্ঘ পথ
চেকোশ্লোভাকিয়ার প্রাচীন ইতিহাস আলোচনায় দেখা যায় যে, শ্লাভ জাতির এই দেশটিতে সপ্তম শতকে সামো সাম্রাজ্য ও অষ্টম শতকে মোরাভিয়া সাম্রাজ্য বেশ প্রবল প্রতাপান্বিত ছিল। এরপর বোহেমিয়া সাম্রাজ্য তথা চেক রাষ্ট্র গড়ে ওঠে।
-
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ অবসানের পর্যায়ে জাপান সাগর ও হলুদ সাগর বিধৌত পূর্ব এশীয় দেশ—কোরিয়া স্বাধীনতার ঝাণ্ডা উড্ডীন করার সংকেত শুনলেও ১৯৪৮ সালে সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্রে খণ্ডিত কলেবর প্রাপ্ত হতে বাধ্য হয়। ৩৮ অক্ষরেখা বরাবর উত্তরাংশের জনগণ ১৯৪৮ সালে শ্রমিক-কৃষকের মুক্তির পতাকা উত্তোলন করেন। উত্তর কোরিয়া তথা কোরিয় জনগণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের আয়তন ১ লাখ ২১ হাজার বর্গ কিলোমিটার এবং লোক সংখ্যা ১ কোটি ১১ লাখ (১৯৮৩ সালের তথ্য)।
স্বাধীন-পরাধীন
পুরাতন পাথরের যুগ থেকে জনবসতির ধারক কোরিয় উপদ্বীপে খ্রীষ্টের জন্মের চার-পাঁচ শতক আগে থাকতেই রাষ্ট্র গড়ে উঠেছিল।
খ্রীষ্টের জন্মের এক শত বছরের মধ্যে পুরাতন দাস রাষ্ট্রের বদলে উপদ্বীপটিতে তিনটি সামন্তবাদী রাষ্ট্রের পত্তন হয়। অবশ্য সপ্তম
-
আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ১০ মাইলের মধ্যে অবস্থিত পশ্চিম গোলার্ধের একমাত্র সমাজতান্ত্রিক দেশ কিউবা। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার সন্ধিস্থলে আটলান্টিক মহাসাগর বিধৌত ১৬০০ দ্বীপের দেশ কিউবার আয়তন ১ লাখ ১১ হাজার বর্গ কিলোমিটার। তবে এই দ্বীপমালার মধ্যে কিউবা দ্বীপের আয়তনই সবচেয়ে বড় (৯৪%)। ১৭ লাখ জনসংখ্যার এই দেশটিতে ১৯৫৯ সালে বিপ্লবীদের শাসন কায়েম হয়।
আগের কথা
কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের (১৪৯২) আগে কিউবার আদি অধিবাসীরা ছিল রেড ইণ্ডিয়ান। দেশটিতে সোনা-রূপার সন্ধান না পাওয়ায় ইউরোপীয় অনুসন্ধানী ও বসতি স্থাপনকারীরা কিউবাকে ছাড়িয়ে চলে যায় উত্তর আর দক্ষিণ আমেরিকায়। কিন্তু কালক্রমে স্পেনীয়রা এই দ্বীপের দেশে ঘাঁটি গেড়ে বসে। তাছাড়া অনেক ভাগ্যান্বেষী এবং উদ্বাস্তু ইউরোপ থেকে এখানে
-
কমরেড মণি সিংহ আজন্ম সংগ্রামী এক বাঙালি বীর পুরুষ। তিনি ছিলেন এ দেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের স্থপতি। তিনি ছিলেন এ দেশের প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক আন্দোলনের অগ্রসেনা। সারা জীবন আন্দোলন করেছেন নিপীড়িত-নির্যাতিত-মেহনতি মানুষের মুক্তির জন্য।
মেহনতি শ্রমিক-কৃষকের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে কমরেড মণি সিংহ জীবনের বহু সময় থেকেছেন আত্মগোপনে। বহুদিন তিনি বন্দি থেকেছেন জেলে। ১৯৬৭ সালে বন্দি হয়ে দীর্ঘদিন তিনি জেলে ছিলেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনের চাপে পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তাঁকেও মুক্তি দেয়। কিন্তু ১৯৬৯ সালের মার্চ মাসে জেনারেল ইয়াহিয়া সামরিক শাসন জারি করে ক্ষমতা দখল করলে সে বছরই জুলাই মাসে কমরেড মণি সিংহকে গ্রেপ্তার করা
-
হেগেল বিশ্ব ইতিহাসের দর্শন রচনা করিয়াছেন। এই আলোচনায়ই তাহার দর্শনের মর্ম সহজে ফুটিয়া উঠিয়াছে। কি করিয়া আত্মা (spirit) সত্যের আলোকে উদ্ভাসিত হয়, তাহা দেখানোই বিশ্ব ইতিহাসের কার্য। বিশ্ব ইতিহাসেই ‘প্রজ্ঞার’ (reason) উদয় হয়; ইহারই ভেতরে ‘প্রজ্ঞা’ তাহার বিকাশ ও স্বতস্ফূর্ততার পথ খুঁজিয়া লয় এবং পরিশেষে আত্মোপলব্ধির আনন্দে সার্থক হয়। হেগেল লিখিত ইতিহাস পর্যালোচনায় এই মূল কথাটি মনে রাখিতে হইবে।
ইতিহাসকে দেখা হইয়াছে তিন রকমে (১) মৌলিক ইতিহাস (Original History) (২) ভাবমূলক ইতিহাস (Reflective History) (৩) দার্শনিক ইতিহাস (Philosophical History). হিরোটাস এবং থুসিডিডস্ লিখিয়াছেন প্রথম শ্রেণীর ইতিহাস। তাঁহাদের রচনা সম-সাময়িক তথ্য এবং ঘটনাদি বর্ণনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। তাহারা এমন জিনিস রচনা করিয়াছেন
ক্যাটাগরি
আর্কাইভ
লেখক
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.