হাঙ্গেরী

পূর্ব ইউরোপে দানিউবের তীরে ১ কোটি ১০ লাখ মানুষের দেশ হাঙ্গেরী। ১৯১৯ সালে শ্রমিক কৃষকের সরকার ক্ষমতাসীন হয়ে প্রতিক্রিয়ার আক্রমণের কাছে ১৩৩ দিনের বেশি টিকতে পারেনি। ১৯৪৫ সালের ৪ এপ্রিল দেশটি ফ্যাসিবাদের কবলমুক্ত হয় এবং শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে ধীরে ধীরে সমাজতন্ত্রের পথে অগ্রসর হয়। ১৯৪৯ সালে হাঙ্গেরীয় গণপ্রজাতন্ত্র হিসাবে দেশটি শোষণ মুক্তির চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে এগোতে থাকে। বিশ শতকের মাঝা-মাঝিতে শ্রমিক শ্রেণীর রাজত্ব কায়েম হলেও দেশটিতে মেহনতি মানুষের সংগ্রামের আছে দীর্ঘ ঐহিহ্য।

পূর্ব কথন

মধ্য এশিয়া থেকে দলে দলে মানুষ এক সময় পৃথিবীর বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। তাদেরই 'একদল এলে। ইউরোপের পূর্ব প্রান্তের দানিউব তীরে। এরাই হাঙ্গেরীয়ানদের পূর্বপুরুষ-ম্যাগিয়ার। মূল ভূখণ্ড থেকে অনেক আগে যাত্রা শুরু করলেও ম্যাগিয়ারর। বর্তমান হাঙ্গেরী অঞ্চলে আসে নবম শতকে। প্রাক সামন্তযুগীয় রীতি নীতি এবং স্বতন্ত্র ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে আসলেও মাগিয়াররা শীঘ্রই অনুভব করে যে, ইউরোপে যদি তাদের স্থায়ীত্ব পেতে হয় তবে বাস্তবতার সাথে তাল মিলাতে হবে। তাই দশম শতাব্দীর শেষ দিকে তারা খ্রীষ্টধর্ম গ্রহণ করে এবং এক সময়ে সামন্ত প্রথাও চালু করে। ১২৪১ সালে তাতার আক্রমণের পূর্ব পর্যন্ত সাড়ে তিন শতকে ম্যাগিয়াররা এক স্থিতিশীল রাষ্ট্র 'হাঙ্গেরী' গড়ে তুলতে সমর্থ হয়ে-ছিল। কিন্তু ১ বছরের তাতার আক্রমণে দেশটি প্রায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। গাছের বাকল, জীবনধারণ করা কষ্টকর হয়। হওয়ায় দেশে জনসংখ্যাও কমে যায় অনেক। অবশ্য রাজা চতুর্থ বেলা বেশ পরিকল্পনা নিয়েই যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে পুনরুজীবনে মনো-নিবেশ করেন। কুকুর-বেড়াল ইত্যাদি খেয়েও মানুষের এছাড়া হাজার হাজার নিহত ও বন্দী হওয়ায় দেশে জনসংখ্যাও কমে যায় অনেক। অবশ্য রাজা চতুর্থ বেলা বেশ পরিকল্পনা নিয়েই যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে পুনরুজ্জীবনে মনোনিবেশ করেন।

প্রবল প্রতাপান্বিত তুর্কীদের উপর্যুপরি আক্রমণে হাঙ্গেরী দীর্ঘ দিনের জন্য ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পঞ্চদশ শতকের প্রথম থেকে বিভিন্ন সময়ে তুর্কীরা দেশটির ওপর আক্রমণ চালায়। শেষ পর্যন্ত ১৫৪১ সালে উত্তর ও পশ্চিম হাঙ্গেরী হ্যাপসবার্গ রাজার (অস্ট্রিয়ার রাজার) অধীনে যায় ও বাকি অংশ চলে যায় তুর্কীদের নিয়ন্ত্রণে। পরবর্তী কয়েক শতাব্দী উভয় শক্তির পদানত থাকে হাঙ্গেরী। উভয় শক্তির মাঝে হাঙ্গেরীর দখল নিয়ে অনেকবার শক্তি পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

তুর্কী আগ্রাসনের মুখে দেশে বিরাট বিরাট কৃষক অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। যুদ্ধ সব সময়ই সাধারণ মানুষের ওপর শোষণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। হাঙ্গেরীতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রাজা যুদ্ধের সময় কৃষকদেরকে যুদ্ধে যেতে বাধ্য করে। অতিরিক্ত কর আদায় করে ও যুদ্ধে শত্রু-মিত্র যে কোন বাহিনীর হামলার প্রথম শিকার হয় কৃষক-জনতা। হাঙ্গেরীতে তুর্কী আক্রমণের সূচনা পর্বে ১৪৩৭সালে ভূস্বামীদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে তারা রুখে দাঁড়ায়। অবশ্য রাজ সৈন্যবাহিনী ও সামন্ত প্রভুদের সেনাবাহিনী কর্তৃক সে বিদ্রোহ নির্মমভাবে দমন করা হয়। প্রায় এক শতাব্দী পর হাঙ্গেরীর কৃষকরা আবার অস্ত্র ধারণ করেন ১৫১৪ সালে। তুর্কী আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য গঠিত সেনাবাহিনীতে ব্যাপক সংখ্যক কৃষক ও সাধারণ মানুষ যোগদান করে। কিন্তু সামন্ত প্রভুরা এতে বাধ সাধে। এই বাদ প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে যুদ্ধের মূল সেনাপতি সাধারণ পরিবারের সন্তান জর্জ ডোজা কৃষকদের পক্ষালম্বন করেন ও সামন্ত নায়কদের রুখে দাঁড়ান। তুর্কী বিরোধী ক্রুসেড শেষ পর্যন্ত সামন্ত প্রভু বিরোধী লড়াইয়ে রূপান্তরিত হয়ে যায়। কিন্তু বিশাল কৃষক বাহিনী শেষ পর্যন্ত পরাজয় বরণ করতে বাধ্য হয়। জর্জ ডোজা সহ অনেক যোদ্ধা নির্মম মৃত্যুর শিকারে পরিণত হন। ১৫৭০ সালে ঘটে আরেক দফা কৃষকের সংগ্রাম। কিন্তু বাস্তব অবস্থার কারণেই সেই সব সশস্ত্র কৃষক অভ্যুত্থানের কোনটাই জয়লাভ করতে পারেনি। সামন্ত প্রভুদের শক্তি সামর্থ ও জোটবদ্ধতার তুলনায় কৃষকদের অসংগঠিত স্বতঃস্ফূর্ত সংগ্রামের জয়লাভ ছিল আসলেই কঠিন ব্যাপার।

স্বাধীনতা সংগ্রাম

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice