-
গাছ পোকা খায়! কী সাংঘাতিক কাণ্ড! তবে কি উদ্ভিদজগতেও আছে মাংসাশী আর নিরামিষাশীর দল? হ্যাঁ আছে বটে। আজ আমরা সেই মাংসাশী গাছের কথা জানবো, যাদেরকে বলা হয় পতঙ্গভুক উদ্ভিদ। এগুলো সাধারণত গুল্ম জাতীয়।
এটুকু আমরা সবাই জানি, গাছ সাধারণত সবুজ পাতায় সূর্যের আলোর সাহায্যে (সালোকসংশ্লেষণ) নিজের খাবার নিজেই তৈরি করে। কিন্তু এমন কিছু গাছ আছে, যাদের শুধু এভাবে পেট ভরে না! আমাদের যেমন শুধু ভাত বা রুটি খেলে চলে না, পুষ্টির জন্য বাড়তি আরও কিছু খেতে হয়। গাছেরও ক্ষেত্রেও তাই। গাছ সূর্যের আলোর সাহায্যে শর্করা তৈরি করে। শর্করা থেকে কার্বন, অক্সিজেন আর হাইড্রোজেন পাওয়া যায়। এ ছাড়াও গাছের বেঁচে থাকার
-
ফুল আর প্রজাপতি বাদে পৃথিবীতে যদি সুন্দর কিছু থাকে, তা হচ্ছে পাখি। তবে পাখির রাজ্যে কোনটি সবচেয়ে সুন্দর তা বলা কঠিন। কারণ, একেকটি পাখি একেক দিকে সুন্দর। এদেশের অনেক পাখির মেলায় সুন্দর পাখির সংখ্যাও নেহাত কম নয়। কিন্তু কোনটি সুন্দরতম? সৌন্দর্য বিবেচনায় এদেশের পাখিদের মধ্যে মৌটুসি-নীলটুনিরাই শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। কারণ, এদের সৌন্দর্য সবখানেই ছড়িয়ে আছে কি গায়ের রঙে, কি ওড়ার ঢঙে, কি গান গাওয়ায়। সৌন্দর্য এদের বাসা তৈরিতে, খাদ্য সংগ্রহে, জীবনযাত্রায়। আর মৌটুসিদের মধ্যে সুন্দরতম হলো নীলটুনি।
নীলটুনিরা এদেশে প্রচুর সংখ্যায় আছে। শহর-বন্দর-গ্রাম-বন-জঙ্গল সবখানেই দেখা যায়। এরা দূর্গাটুনটুনি, বেগুনটুনি, মধুচুষকি নামেও পরিচিত। ইংরেজি নাম Purple Sunbird ও বৈজ্ঞানিক নামCinnyris asiaticus
-
দিশি ও দেয়া দুইবোন। দুজনই পিঠাপিঠি একজন ক্লাস ফাইভে, আরেকজন ক্লাস ফোরে। সারাদিন লেগে থাকে একজন আরেজনের পেছনে। দিশি একটু শান্ত স্বভাবের, বড়রা সাধারণত যেমন হয়; আর দেয়া একটু চঞ্চল, ছোটরা যেমন হয় আরকি।
বাসায় বাবা-মা আর তারা দু’বোন ছাড়াও আরো একজন থাকেন। তিনি হলেন তাদের নানী সম্পর্কের। দীর্ঘদিন ধরেই বাসায় আছেন। বাসার কাজকর্ম করেন, তবুও তিনি এ পরিবারেরই একজন। তার কোনো নাম নেই। অবাক হলে! হুম অবাক হওয়ার মতোই কথা। নাম একটা ছিল বৈকি, কিন্তু কালক্রমে তা হারিয়ে গেছে সময়ের সাথে সাথে। খুব ছোটবেলাতেই তার বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের আগে বাপ-মা-অন্যরা ‘কেনী’ বলে ডাকতো; আর বিয়ের পর শ্বশুর-শাশুড়ি ‘বৌমা’
-
গল্পে গল্পে বিজ্ঞান: বায়োস্কোপ পর্ব
সুবীর বৈরাগী
দিশি ও দেয়ার কথা মনে আছে তো? ভুললে চলবে না। আজও তাদের কথাই বলবো। ওরা আজ সক্কাল সকাল বেরিয়েছে। বাসায় তাদের বাবু ভাইয়া একা-একা ঘুমুচ্ছে আর ভেলুমাও কখনো কাজ করছে কখনোবা টিভি দেখছে।
বিকেলের দিকে ওরা ফিরে এল। আর এসেই হামলে পড়ল ওদের বাবু ভাইয়ার উপর। আসলে ওদের ছাড়া সারাটাদিন তারও ভালো লাগছিল না, তাই সুকুমার রায়ের ‘আবোল তাবোল’ নেড়ে দেখছিল সে। ওরা এসে মাথা দুলিয়ে বলতে লাগল—ভাইয়া, জানো আজকে আমরা সিনেমা দেখেছি?
—তাই নাকি? কী সিনেমা দেখেছিস?
দুজনে সমস্বরে চেঁচিয়ে উঠল—কুংফু পান্ডা।
—আচ্ছা। বেশ ভালো।
দেয়া বলল—এতদিন শুধু ঘরে বসে ছোট ছোট
-
আমরা পাঁচ বন্ধু এ পাড়ায় ক্ষুদে বিজ্ঞানীর দল হিসেবে পরিচিত। আমরা সবসময়ই নানা ধরনের গবেষণা নিয়ে মেতে থাকি। এসব গবেষণা করতে গিয়ে প্রতিদিনই কারো না কারো বাসায় কিছু না কিছু অঘটন ঘটছেই। তাই আমাদের নিয়ে বাবা মায়েদের অভিযোগের শেষ নেই। আমাদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট রিমঝিম এবার ক্লাস ফোরে পড়ে। সেদিন রিমঝিম ডিমের উপর দিয়ে হাঁটার পরীক্ষা করতে গিয়ে বেশ কিছু ডিম নষ্ট করেছিল, সেজন্য সাজাও পেয়েছে। আমাদের নানা প্রশ্নের অত্যাচারে স্কুলের শিক্ষকরাও বিরক্ত। আমার বড় হয়ে অ্যাস্ট্রনট হওয়ার ইচ্ছা। মহাকাশচারী হয়ে গ্রহ থেকে গ্রহে ঘুরে বেড়াব আর গবেষণা করব।
আমাদের মধ্যে প্রকৃত বিজ্ঞানী সায়ন। ওর ঘরে ঢুকলেই তা বুঝতে পারা
-
পরীক্ষার হলে খাতায় লিখতে লিখতে আজকে সুমির মনে হচ্ছে, ঘড়ির কাঁটা কীভাবে এত দ্রুত ঘুরছে। এখন তার আরও তিনটা উত্তর দিতে হবে এদিকে যতবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে বুঝছে মিনিটের কাঁটাটা যেন দৌড়নো শুরু করেছে। পাঁচ মিনিট গেল মনে করে ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে আর দেখছে প্রায় পঁচিশ মিনিটই চলে গেছে। তার ইচ্ছা করছে কোনভাবে ঘড়ির গতিটা যদি ধীর করে দিতে পারত। কবে শুনেছিল আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার বিশেষ সূত্র থেকে পাওয়া এক অবাক করা তথ্য হল, গতিশীল অবস্থায় ঘড়ির কাঁটা নাকি স্থির ঘড়ির চেয়ে ধীরে চলে, একেই বলে সময়ের ধীরতা বা টাইম ডায়লেশন (Time Dilation)। এর অর্থ তখন বা এখনও ঠিক বুঝতে না
-
মানুষের কল্যাণে কাজ করলেও অনেকসময় সইতে হয় একরাশ নিন্দা ও গঞ্জনা। তবুও কিছু কিছু উদারমনা মানুষ নিরলস কাজ করে যান মানুষের জন্য, মানবতার জন্য, সভ্যতার জন্য। সমকালে মূল্যায়িত না হলেও ইতিহাস কিন্তু মূল্যায়ন করতে ভুল করে না। এ প্রসঙ্গে ড. হুমায়ুন আজাদের “আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে" কবিতার কথা মনে আসে।
ঠিক এমন একজনের কথাই জানবো, যিনি প্রকৃতপক্ষেই জন্মেছিলেন অন্যদের সময়ে, বেঁচে ছিলেন অন্যদের সময়ে। তিনি হলেন ডা. রেনে হিউফিল হায়াসিনথি লেনেক। ঊনিশ শতকের শুরুতে ১৮১৬ সালে তিনি ছিলেন প্যারিসের বিখ্যাত ন্যাক্কারে হাসপাতালে কর্মরত। এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল ফুসফুস ও শ্বাস-প্রশ্বাসের রোগাক্রান্ত। একদিন হঠাৎ করে অতিকায় এক
-
সেদিন বেশ কয়েক মাস পর আমার এক বন্ধুর সাথে দেখা। শরীর খারাপ, ঠাণ্ডাজনিত সর্দিকাশি। জানতে চাইলাম, কিরে সর্দি-কাশি ছাড়ে না কেন তোকে? শেষ যেদিন দেখা হয়েছিল একই অবস্থা ছিল তোর। ডাক্তার দেখাসনি? ও বললো, রাখ তোর ডাক্তার। কোনো ওষুধেই কাজ হচ্ছে না।
বিষয়টা সত্যি ভাববার! কোনো ওষুধ বা এন্টিবায়োটিক কেন কাজ করছে না? তাহলে কি সামনে এমন দিন আসছে যে আমাদের সামান্য সর্দি-কাশি হবে, হাত- পা কাটবে, জ্বর উঠবে তারপর টুপ করে মারা যাবো? কোনো এন্টিবায়োটিকই আর কাজ করবে না? এন্টিবায়োটিক আবিষ্কার করেছিলেন আলেকজান্ডার ফ্লেমিং। ফ্লেমিং বলেছিলেন, “এই এন্টিবায়োটিকের কারণে আজ কোটি কোটি মানুষ বেঁচে যাবে। অনেক বছর পর এগুলো
-
অনেক দিন ধরেই দার্জিলিং যাওয়ার ইচ্ছে ছিল আমার। গতবার গ্রীষ্মের ছুটিতেই কাজটা সেরে ফেলার প্ল্যান করছিলাম বন্ধু মিজানের সাথে বসে। সব কিছু ঠিক-ঠাকও করে রেখেছিলাম মনে মনে। কিন্তু তখনও দুশ্চিন্তা ছিল—কিভাবে যাব, কোথায় থাকব-তা নিয়ে। বাস না ট্রেন, ট্রেন না এরোপ্লেন—এই তেটানা নিয়ে ফেসবুকের নিউজফিড স্ক্রল করতে করতে এক ট্রাভেল এজেন্সির দারুণ অফারওয়ালা একটা স্পন্সরড এড চোখে পড়ল। খুশিতে ডগমগ হয়ে সেবারে দার্জিলিং ভ্রমণের একটা বিহিত করে ফেললাম সেই ট্রাভেল এজেন্সি থেকে। দার্জিলিং যাওয়ার পরেও থাকা-খাওয়াসহ আরো অনেক ব্যাপারে সাহায্য পেলাম ফেসবুক মারফত।
গল্পটা এখানেই শেষ হতে পারত। কিন্তু হঠাৎ করেই একটা প্রশ্ন সব চিন্তা-ভাবনা ওলট-পালট করে দিল। ফেসবুক জানল
-
বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা বাঙালি বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা (১৮৯৩-১৯৫৬)। বিজ্ঞান জগতে তাঁর সেরা অবদান হলো ‘তাপীয় আয়নন তত্ত্ব’। আর তাপীয় আয়নন ব্যাখ্যা করার জন্য যে সূত্র প্রণয়ন করেন তা ‘সাহা সমীকরণ’ নামে খ্যাত। জ্যোতিপদার্থবিজ্ঞানে একাধিক জটিল রহস্য উদঘাটনের জন্য তার সার্থক প্রয়োগ রয়েছে। ফলে এ-তত্ত্বটি বিজ্ঞান জগতে নতুন যুগের সূচনা করেছিলো। তার সুদূর প্রসারী প্রভাব ও পরবর্তীকালে লক্ষ্য করা গেছে। ১৯২০ সালে এ-তত্ত্বটি উদ্ভাবনকালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করতেন এবং তাঁর বয়স ছিলো ২৭ বছর। তাঁর এ-গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বটি সম্পর্কে সেকালের প্রতিথযশা জোতির্বিজ্ঞানী আর্থার স্ট্যানলি এডিংটন মন্তব্য করে বলেছিলেন যে, ‘গ্যালিলিওয়ের পর থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে যে ১২টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের উল্লেখ
-
লেখক: পাভেল পার্থ
পরিবেশ ও প্রতিবেশ
বাংলাদেশের নিম্নবর্গের প্রতিবেশ দর্শনের নিশান ও ইশারাগুলো বোঝার নিয়তে একটা প্রাথমিক জায়গা থেকে চলতি আলাপখানির বিস্তার শুরু হচ্ছে। নিম্নবর্গের চিন্তাপদ্ধতির প্রতিবেশীয় মেজাজ ও এর জটিল বিন্যস্ত দার্শনিকতার বৈচিত্র কোনোভাবেই এই এক বিঘত আলাপ তলে জারি করা সম্ভব নয়। এর জন্য যে প্রস্তুতি ও চর্চা দরকার তা চলতি আলাপের শরীর কি মগজে খুব একটা নাই। আলাপখানি নিম্নবর্গের প্রতিবেশ দর্শনের ঐতিহাসিকতা ও এর সংগ্রামী বিকাশমানতার প্রতি আজন্ম দায়বদ্ধ ও নতজানু হয়েই এখানে সামিল হয়েছে। রাষ্ট্রের ইতিহাস কাঠামো ও প্রবল চিন্তাপদ্ধতি থেকে এর নাভীমূল কি পত্রপল্লব আন্দাজ করা সম্ভব নয়। এর জন্য অন্যতম মৌলিক শর্ত দেশ ও
-
দেশের স্থান-ভুগোল ও জাতিগত পরিসর ভিন্নতায় কৃত্যের স্বর ও ভঙ্গিমা ভিন্ন ভিন্ন। কিন্তু দেশের বাঙালি কি আদিবাসী জীবনে কৃত্যের দার্শনিক ভিত্তি একই। নিম্নবর্গের কৃত্য-র্দশন হলো, প্রাণ ও প্রকৃতির আরাধনা। প্রাণবৈচিত্র্য ঘিরেই আমাদের জীবনের গতি। প্রাণের বৈচিত্র্য বিনা আমরা কোনোভাবেই আমাদের জগত সংসারের উন্নয়ন বিকাশ চিন্তা করতে পারি না। কিন্তু তাই ঘটে চলেছে, নির্দয়ভাবে দেশের প্রাণের অসীম বিস্তার ও সম্ভবনাকে জোর করে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হচ্ছে। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশ এমন এক পুঁজিবাদী করপোরেট অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে বেছে নিয়েছে যা কোনোভাবেই দেশের প্রাণ ও প্রকৃতির ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি। তারপরও ৩০টি কৃষিপ্রতিবেশ, ১৭টি হাইড্রলজিক্যাল অঞ্চল, ২৩০টি নদ-নদী, দুনিয়ার বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য, দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত,
ট্যাগ
লেখক
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.