কীর্তিমান বাঙালি বিজ্ঞানী : মেঘনাদ সাহা
বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা বাঙালি বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা (১৮৯৩-১৯৫৬)। বিজ্ঞান জগতে তাঁর সেরা অবদান হলো ‘তাপীয় আয়নন তত্ত্ব’। আর তাপীয় আয়নন ব্যাখ্যা করার জন্য যে সূত্র প্রণয়ন করেন তা ‘সাহা সমীকরণ’ নামে খ্যাত। জ্যোতিপদার্থবিজ্ঞানে একাধিক জটিল রহস্য উদঘাটনের জন্য তার সার্থক প্রয়োগ রয়েছে। ফলে এ-তত্ত্বটি বিজ্ঞান জগতে নতুন যুগের সূচনা করেছিলো। তার সুদূর প্রসারী প্রভাব ও পরবর্তীকালে লক্ষ্য করা গেছে। ১৯২০ সালে এ-তত্ত্বটি উদ্ভাবনকালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করতেন এবং তাঁর বয়স ছিলো ২৭ বছর। তাঁর এ-গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বটি সম্পর্কে সেকালের প্রতিথযশা জোতির্বিজ্ঞানী আর্থার স্ট্যানলি এডিংটন মন্তব্য করে বলেছিলেন যে, ‘গ্যালিলিওয়ের পর থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে যে ১২টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের উল্লেখ করা যেতে পারে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সাহা প্রতিষ্ঠিত ‘তাপীয় আয়নন তত্ত্ব’। তাছাড়াও তিনি আরো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব উদ্ভাবন করেছেন। বিজ্ঞানী হয়েও তিনি দেশের নানাবিধ সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৮৯৩ সালের ৬ অক্টোবর এবং দিল্লিতে হঠাৎ হৃদযন্ত্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে ১৯৫৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মারা যান। তখন তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর, আর মৃত্যুর পর ৬০ বছর পেরিয়ে গেছে।
মেঘনাদ সাহার জন্ম তৎকালীন পূর্ববঙ্গে (বর্তমান বাংলাদেশের) ঢাকা জেলার (বর্তমান গাজীপুর) শেওড়াতলি গ্রামে। তাঁর পিতার নাম জগন্নাথ সাহা এবং মা ভুবনেশ্বরী দেবী। তিনি ছিলেন পিতামাতার তৃতীয় ছেলে। তাঁদের আর্থিক অবস্থা তেমনটা ছিল না। তাঁর বাবা সামান্য মুদির দোকান করে সংসার চালাতেন। একসময়ের মেঘনাদকেও দোকানের কাজকর্মে নিয়োজিত করেছিলেন। কিন্তু মেঘনাদের তা মোটেও পছন্দ ছিল না। তাঁকে গ্রাম্য পাঠশালায় ভর্তি করে দেয়া হয়। গ্রাম্য পাঠশালায় কৃতিত্বের পরিচয় রাখেন মেঘনাদ। শিক্ষকরাও তাঁর মেধা দেখে বিস্মিত হন এবং তাঁর পড়াশোনা অব্যাহত রাখার ব্যাবস্থা করার জন্য অনুরোধ করেন। তাঁর বড় দু’ভাই পরামর্শ করে তাকে সাভার থানার শিমুলিয়া স্কুলে ভর্তি করে দেন। স্কুলটি ছিল ১৪ মাইল দূরে। তাই দৈনিক ১৪ মাইল দূরে যাওয়া-আসা করে পড়াশোনা করা সম্ভব ছিল না। তাই ডা. অনন্ত দাসের বাড়িতে কাজের বিনিময়ে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হল। ১৯০৫ সালে শিমুলিয়ার মিডল ইংলিশ স্কুল থেকে মধ্য পরীক্ষায় ঢাকা বিভাগের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন। তারপর তাকে ঢাকা কলেজিয়ট স্কুলে ভর্তি করা হয়। কিন্তু স্বদেশী আন্দোলনে তাঁর সম্পৃক্ততার কারণে স্কুল থেকে বিতাড়িত করা হয়। তাঁকে ভর্তি করা হয় ঢাকার বিখ্যাত কিশোরীলাল জুবেলি স্কুলে। সেখান থেকে তিনি ১৯০৮ সালে পূর্ববঙ্গের সকল ছাত্রদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৯১১ সালে ঢাকা কলেজ থেকে আইএসসি পরীক্ষায় তিনি তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। ১৯১৩ সালে তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে গণিতে বিএসসি সম্মান পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন এবং ১৯১৫ সালে মিশ্র গণিতে এমএসসি পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতেও দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন। কর্মজীবনের শুরুতেই তিনি ১৯১৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। কিন্তু পদার্থবিজ্ঞানে বিশেষ আগ্রহের কারণে কিছুদিনের মধ্যে তিনি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে বদলি হন এবং বিজ্ঞান গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন। এক বছরের মধ্যে ১৯১৭ সালে ‘ফিলোসফিক্যাল ম্যাগাজিন’ ও ‘ফিজিক্যাল রিভিয়ু’ নামক দুটি নামকরা বিজ্ঞান গবেষণা পত্রিকায় তাঁর দুটি গবেষণা পত্র প্রকাশিত হয়। ১৯১৮ সালে বিকিরণ-চাপ ও বিদ্যুৎচৌম্বকীয় তত্ত্ব সম্পর্কিত গবেষণার জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ডিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। অধ্যাপক সতেন্দ্রনাথ বসুর (১৮৯৪-১৮৭৪) সঙ্গে যুক্তভাবে তিনি ‘অবস্থার সমীকরণ’ প্রণয়ন করেন এবং তা ‘ফিলোসফিক্যাল ম্যাগজিন’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সে বছরেই রাধারানী রায়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। ১৯১৯ সালে বর্ণালী সম্পর্কিত গবেষণা পত্রের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘প্রেমচাঁদ-রায়চাঁদ’ (পিআরএস)
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments