- প্রক্রিয়াধীন
- ১৯৯০
- ২৭০
পিতৃ উপদেশ
এক ছিল ময়দাকলের মালিক। তার ছিল তিন ছেলে। নিজের বয়স হয়েছে, মরার সময় হয়েছে বুঝতে পেরে সে বড় ছেলেকে কাছে ডেকে বলল: ‘আমি মরতে বসেছি। উত্তরাধিকার হিসাবে কি চাস তুই আমার কাছে—ধনসম্পদ না পিতৃ উপদেশ?’
‘ধনসম্পদ ছাড়া আবার কি!’ বলল সে ছেলে। ‘শুধু উপদেশ কি আর পেট ভরে।’
‘ঠিক আছে। তুই পাবি আমার ময়দাকল, আর আমার ধনের অর্ধেক, যেমন চাস তেমনি ভাবেই থাকবি।’ বলল তার বাবা।
তারপর লোকটি মেজ ছেলেকে ডেকে জিজ্ঞাসা করল সেই একই কথা।
‘ধনসম্পত্তি দিও, বাবা। শুধু উপদেশ নিয়ে বাঁচা যায় না এ জগতে।’
‘ঠিক আছে আমি মরলে তুই পাবি আমার বাড়িটা আর আমার ধনের অর্ধেক, যেমন ভাল মনে করিস তেমনি ভাবে থাকিস।’ বলল তার বাবা।
তারপর লোকটি সবার ছোট ছেলেকে ডেকে বলল: ‘আমার মরার সময় এসেছে, বাবা। তোর জন্য কি রেখে রেখে যেতে বলিস—ধনসম্পদ না উপদেশ?’
‘তুমি যদি মরে যাও, বাবা, তোমার উপদেশ ছাড়া আমি বাঁচব কি করে?’ বিষণ্ণ মুখে বলল ছোট ছেলে। ‘ধনসম্পত্তি চাই না আমার। আমার জন্য রেখে যেও উপদেশ, জীবনে অনেক প্রয়োজনে কাজ করব তোমার উপদেশ মত।’
‘ভালো ছেলে তুই!’ বলল বাবা। ‘শোন তাহলে আমার উপদেশ: আমি যখন মরে যাব, তিন রাত পরপর যাবি আমার কবরের কাছে, তখনই বুঝতে পারবি কি করতে হবে তোকে।’
সে রাতেই মারা গেল লোকটি।
কান্নাকাটি করল ভাইরা, বাবাকে কবর দিয়ে ধনসম্পত্তি ভাগাভাগি করে নিল। ছোট ভাইয়ের ভাগে কিছুই পড়ল না, এমনকি মাথা গোঁজার জায়গাও রইল না তার একটুও।
বড় ভাই তাকে বলল, ‘আমার কাছে থাক আপতত।’
মেজ ভাই বলল, ‘ইচ্ছে হলে আমার কাছেও থাকতে পারিস।’
বড় দুই ভাইকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ছোট ভাই বলল:
‘শুধু শুধু তোমাদের ঘাড়ে বসে খাব না। তোমাদের ভেড়ার পাল চরাব আমি।’
বাবার মৃত্যুর পরে প্রথম রাতে ছোট ছেলে গেল বাবার কবরের কাছে, তখনও ঘোর অন্ধকার, ভোর হতে বাকি আছে বেশ। বাবা আর নেই সে কথা মনে করে কাঁদল বসে বসে। হঠাৎ ঘোড়ার ডাক শুনে মুখ তুলে দেখে তার সামনে দাঁড়িয়ে এক চমৎকার কালো ঘোড়া, ঘোড়ার ঘন কেশর আর লম্বা লম্বা লেজ। তার জিনটা সোনার আর সাজ রূপোর আর পিঠে তার পাখনা।
‘বস আমার পিঠে, যেখানে চাও উড়িয়ে নিয়ে যাব।’ বলল ঘোড়াটি।
‘উড়ে চলে যেতে তো পারি না আমি, ভেড়া চরাবে কে তাহলে আমার বদলে!’
‘আমার ঘাড় থেকে এক গোছা চুল ছিঁড়ে নাও, লুকিয়ে সাবধানে রাখবে। যদি কখনও আমার সাহায্য প্রয়োজন হয় তো ওই গোছা থেকে একটি চুল নিয়ে পোড়াবে—তখনি আমি উড়ে চলে আসব তোমার কাছে।’
ঘোড়ার ঘাড় থেকে এক গোছা চুল ছিঁড়ে নিল ছেলেটি রুমালে বেঁধে লুকিয়ে রাখল চুলগুলি, ঘোড়াটা তখন অদৃশ্য হয়ে গেল।
দ্বিতীয় রাতেও ভোর হবার আগে ছোট ছেলে গেল বাবার কবরের কাছে, বাবার কথা মনে করে কাঁদল বসে। হঠাৎ আবার ঘোড়ার ডাক শুনল। মুখ তুলে দেখে তার সামনে দাঁড়িয়ে একটা বাদামী ঘোড়া দাঁড়িয়ে, ঘাড়ের চুল ফোলান-ফোঁপান, লম্বা লেজ। তার পিঠের জিনটা সোনার, সাজ রূপোর আর পিঠে পাখনা।
‘বোস আমার পিঠে, যেখানে চাও উড়িয়ে নিয়ে যাব!’ বলল ঘোড়া।
‘উড়ে যাবার সময় নেই আমার। আমার ভাইদের ভেড়ার পাল চরাই আমি।’ বলল ছেলেটি।
‘আমার ঘাড় থেকে এক গোছা চুল ছিঁড়ে নাও, লুকিয়ে যত্ন করে রেখে দিও। যখনি আমার সাহায্য দরকার হবে ঐ গোছার থেকে একটা চুল নিয়ে পোড়াবে অমনি আমি উড়ে চলে আসব।’
ছেলেটি বাদামী ঘোড়ার ঘাড় থেকে এক গোছা চুল ছিঁড়ে নিল, ঘোড়াটি
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
প্রক্রিয়াধীন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments