পিতৃ উপদেশ

এক ছিল ময়দাকলের মালিক। তার ছিল তিন ছেলে। নিজের বয়স হয়েছে, মরার সময় হয়েছে বুঝতে পেরে সে বড় ছেলেকে কাছে ডেকে বলল: ‘আমি মরতে বসেছি। উত্তরাধিকার হিসাবে কি চাস তুই আমার কাছে—ধনসম্পদ না পিতৃ উপদেশ?’

‘ধনসম্পদ ছাড়া আবার কি!’ বলল সে ছেলে। ‘শুধু উপদেশ কি আর পেট ভরে।’

‘ঠিক আছে। তুই পাবি আমার ময়দাকল, আর আমার ধনের অর্ধেক, যেমন চাস তেমনি ভাবেই থাকবি।’ বলল তার বাবা।

তারপর লোকটি মেজ ছেলেকে ডেকে জিজ্ঞাসা করল সেই একই কথা।

‘ধনসম্পত্তি দিও, বাবা। শুধু উপদেশ নিয়ে বাঁচা যায় না এ জগতে।’

‘ঠিক আছে আমি মরলে তুই পাবি আমার বাড়িটা আর আমার ধনের অর্ধেক, যেমন ভাল মনে করিস তেমনি ভাবে থাকিস।’ বলল তার বাবা।

তারপর লোকটি সবার ছোট ছেলেকে ডেকে বলল: ‘আমার মরার সময় এসেছে, বাবা। তোর জন্য কি রেখে রেখে যেতে বলিস—ধনসম্পদ না উপদেশ?’

‘তুমি যদি মরে যাও, বাবা, তোমার উপদেশ ছাড়া আমি বাঁচব কি করে?’ বিষণ্ণ মুখে বলল ছোট ছেলে। ‘ধনসম্পত্তি চাই না আমার। আমার জন্য রেখে যেও উপদেশ, জীবনে অনেক প্রয়োজনে কাজ করব তোমার উপদেশ মত।’

‘ভালো ছেলে তুই!’ বলল বাবা। ‘শোন তাহলে আমার উপদেশ: আমি যখন মরে যাব, তিন রাত পরপর যাবি আমার কবরের কাছে, তখনই বুঝতে পারবি কি করতে হবে তোকে।’

সে রাতেই মারা গেল লোকটি।

কান্নাকাটি করল ভাইরা, বাবাকে কবর দিয়ে ধনসম্পত্তি ভাগাভাগি করে নিল। ছোট ভাইয়ের ভাগে কিছুই পড়ল না, এমনকি মাথা গোঁজার জায়গাও রইল না তার একটুও।

বড় ভাই তাকে বলল, ‘আমার কাছে থাক আপতত।’

মেজ ভাই বলল, ‘ইচ্ছে হলে আমার কাছেও থাকতে পারিস।’

বড় দুই ভাইকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ছোট ভাই বলল:

‘শুধু শুধু তোমাদের ঘাড়ে বসে খাব না। তোমাদের ভেড়ার পাল চরাব আমি।’

বাবার মৃত্যুর পরে প্রথম রাতে ছোট ছেলে গেল বাবার কবরের কাছে, তখনও ঘোর অন্ধকার, ভোর হতে বাকি আছে বেশ। বাবা আর নেই সে কথা মনে করে কাঁদল বসে বসে। হঠাৎ ঘোড়ার ডাক শুনে মুখ তুলে দেখে তার সামনে দাঁড়িয়ে এক চমৎকার কালো ঘোড়া, ঘোড়ার ঘন কেশর আর লম্বা লম্বা লেজ। তার জিনটা সোনার আর সাজ রূপোর আর পিঠে তার পাখনা।

‘বস আমার পিঠে, যেখানে চাও উড়িয়ে নিয়ে যাব।’ বলল ঘোড়াটি।

‘উড়ে চলে যেতে তো পারি না আমি, ভেড়া চরাবে কে তাহলে আমার বদলে!’

‘আমার ঘাড় থেকে এক গোছা চুল ছিঁড়ে নাও, লুকিয়ে সাবধানে রাখবে। যদি কখনও আমার সাহায্য প্রয়োজন হয় তো ওই গোছা থেকে একটি চুল নিয়ে পোড়াবে—তখনি আমি উড়ে চলে আসব তোমার কাছে।’

ঘোড়ার ঘাড় থেকে এক গোছা চুল ছিঁড়ে নিল ছেলেটি রুমালে বেঁধে লুকিয়ে রাখল চুলগুলি, ঘোড়াটা তখন অদৃশ্য হয়ে গেল।

দ্বিতীয় রাতেও ভোর হবার আগে ছোট ছেলে গেল বাবার কবরের কাছে, বাবার কথা মনে করে কাঁদল বসে। হঠাৎ আবার ঘোড়ার ডাক শুনল। মুখ তুলে দেখে তার সামনে দাঁড়িয়ে একটা বাদামী ঘোড়া দাঁড়িয়ে, ঘাড়ের চুল ফোলান-ফোঁপান, লম্বা লেজ। তার পিঠের জিনটা সোনার, সাজ রূপোর আর পিঠে পাখনা।

‘বোস আমার পিঠে, যেখানে চাও উড়িয়ে নিয়ে যাব!’ বলল ঘোড়া।

‘উড়ে যাবার সময় নেই আমার। আমার ভাইদের ভেড়ার পাল চরাই আমি।’ বলল ছেলেটি।

‘আমার ঘাড় থেকে এক গোছা চুল ছিঁড়ে নাও, লুকিয়ে যত্ন করে রেখে দিও। যখনি আমার সাহায্য দরকার হবে ঐ গোছার থেকে একটা চুল নিয়ে পোড়াবে অমনি আমি উড়ে চলে আসব।’

ছেলেটি বাদামী ঘোড়ার ঘাড় থেকে এক গোছা চুল ছিঁড়ে নিল, ঘোড়াটি

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice