প্রাণবৈচিত্র্য, বাহাদুরি ও ন্যায়বিচার
দেশের স্থান-ভুগোল ও জাতিগত পরিসর ভিন্নতায় কৃত্যের স্বর ও ভঙ্গিমা ভিন্ন ভিন্ন। কিন্তু দেশের বাঙালি কি আদিবাসী জীবনে কৃত্যের দার্শনিক ভিত্তি একই। নিম্নবর্গের কৃত্য-র্দশন হলো, প্রাণ ও প্রকৃতির আরাধনা। প্রাণবৈচিত্র্য ঘিরেই আমাদের জীবনের গতি। প্রাণের বৈচিত্র্য বিনা আমরা কোনোভাবেই আমাদের জগত সংসারের উন্নয়ন বিকাশ চিন্তা করতে পারি না। কিন্তু তাই ঘটে চলেছে, নির্দয়ভাবে দেশের প্রাণের অসীম বিস্তার ও সম্ভবনাকে জোর করে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হচ্ছে। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশ এমন এক পুঁজিবাদী করপোরেট অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে বেছে নিয়েছে যা কোনোভাবেই দেশের প্রাণ ও প্রকৃতির ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি। তারপরও ৩০টি কৃষিপ্রতিবেশ, ১৭টি হাইড্রলজিক্যাল অঞ্চল, ২৩০টি নদ-নদী, দুনিয়ার বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য, দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত, হাজারো ধানের জাত, ৪৫ জাতিসত্তা নিয়ে টিকে থাকার লড়াই করে চলেছে বাংলাদেশ। মাতৃদুনিয়ার বৈষম্যহীন বিকাশই যার দর্শন। জাতিসংঘের সাধারন সভার দ্বিতীয় কমিটিতে প্রথম উত্থাপিত হয় ‘আন্তজার্তিক প্রাণবৈচিত্র্য দিবসের’ কথা। ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত এটি পালিত হয় প্রতি বছরের ২৯ ডিসেম্বর। ২০০০ সালের ডিসেম্বর মাসে আন্তজার্তিক প্রাণবৈচিত্র্য দিবসের তারিখটি পরিবর্তিত হয়ে পুনরায় এটি ২২ মে নির্ধারিত হয়। ২০১০ সালকে আন্তজার্তিক প্রাণবৈচিত্র্য বর্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিবছর এ দিবসের জন্য একটি প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়। ২০১৫ সনের জন্য প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে ‘প্রাণবৈচিত্র্য ও উন্নয়ন’। এর আগেও ২০১০ সনে প্রাণবৈচিত্র্য দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছিল ‘প্রাণবৈচিত্র্য, উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন’। কিন্তু আমরা যদি ২০১০ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত হিসাব করি দেখতে পাবো রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ দীর্ঘ পাঁচ বছরেও উন্নয়নকে প্রাণের বৈচিত্র্যময় বিস্তার ও বিকাশের চোখে দেখেনি। বরং মূলধারায় উন্নয়ন কর্মকান্ড অনেকক্ষেত্রেই হয়ে ওঠেছে প্রাণবৈচিত্র্য সংহারী। ২০১১ থেকে ২০২০ পর্যন্ত ঘোষিত হয়েছে আন্তর্জাতিক প্রাণবৈচিত্র্য দশক। কিন্তু রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ এখনও প্রাণের অসীম বিস্তার ও বিকাশের প্রতি নির্দয়, বরং প্রাণবৈচিত্র্যের সম্ভাবনাকে অন্যায়ভাবে বহুজাতিক জিম্মায় ঠেলে দেয়া হচ্ছে। প্রাণবৈচিত্র্যের উপর এমন লাগাতার বাহাদুরি থামানো জরুরি। প্রজাতি হিসেবে মানুষের স্বার্থে, দেশ ও মাতৃদুনিয়ার টিকে থাকার প্রশ্নে।
II ১ II
প্রাণবৈচিত্র্য মানে দুনিয়ার দেখা-অদেখা জানা-অজানা দৃশ্য কি অদৃশ্যমান সকল প্রাণের বহুপাক্ষিক বহুমাত্রিক বৈচিত্র্য। কোন স্থানের উদ্ভিদ বা প্রানীর প্রজাতিগত বৈশিষ্ট্য। পৃথিবীর সব জায়গায়ই কম বেশি বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ বা প্রাণী রয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রাণবৈচিত্র্য সনদে (১৯৯২) প্রাণবৈচিত্র্য বলতে বোঝানো হয়েছে : স্থল, সমুদ্র, জলভাগ প্রতিবেশসহ সকল এলাকার জীবন্ত প্রাণী ও উদ্ভিদের বৈচিত্র্যকে। প্রাণবৈচিত্র্য সাধারনভাবে প্রাণের বিভিন্ন ধরনকে বোঝায়। অন্যকথায় এটা উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীবের অগণিত উপস্থিতি। বিস্তার ও উপাত্তে প্রাণের বৈচিত্র্য ও রূপ এতই ব্যাপক যে এখন পর্যন্ত উদ্ভিদ, প্রাণী ও অনুজীবের সঠিক সংখ্যা জানা সম্ভব হয় নি। ধারণা করা হয় পৃথিবীতে সর্বনিম্ন ১ কোটি থেকে সর্বোচ্চ ৮ কোটি বিভিন্ন ধরনের প্রাণের উপস্থিতি রয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রাণবৈচিত্র্য সনদ (১৯৯২) আরো জানায়, ”প্রাণবৈচিত্র্য বলতে সমগ্র জীবিত সত্তার মধ্যকার যাবতীয় উৎসগত বৈচিত্র্যকে বোঝায়; এসব উৎসের মধ্যে রয়েছে স্থলজ, সামূদ্রিক ও অন্যান্য জলজ পরিবেশ পদ্ধতি এবং তারা যে পরিবেশ-সংস্থানের অংশ সেটি। বৈচিত্র্য বলতে বোঝায় প্রজাতির মধ্যকার বৈচিত্র্য, প্রজাতিতে প্রজাতিতে বৈচিত্র্য এবং পরিবেশ পদ্ধতির বৈচিত্র্য।” প্রাণবৈচিত্র্যের ৩টি পর্যায়: প্রজাতিতে বৈচিত্র্য : এটা হলো পৃথিবীর প্রাণী প্রজাতি, উদ্ভিদ প্রজাতি ও অনুপ্রাণী প্রজাতির বিভিন্ন ধরন। যেমন মানুষ, কাছিম, গরু, শামুক, শূকর, মাকড়সা, ধান, তুলা, আম, কচু এরা প্রত্যেকেই একটি আলাদা প্রজাতির অর্ন্তভূক্ত। জিন বা প্রাণকণিকার বৈচিত্র্য : এটা হলো একটি প্রজাতির মাঝে যে বৈচিত্র্য অর্থাৎ একটি প্রজাতির সবাই এক রকম নয় তাদের মাঝেও ভিন্নতা রয়েছে। যেমন ধানের বিভিন্ন ধরণ আছে, প্রজাতির নানান রঙ আছে, বাংলাদেশে এক কচুই
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments