নিম্নবর্গের প্রতিবেশ দর্শন

লেখক: পাভেল পার্থ

পরিবেশ ও প্রতিবেশ

বাংলাদেশের নিম্নবর্গের প্রতিবেশ দর্শনের নিশান ও ইশারাগুলো বোঝার নিয়তে একটা প্রাথমিক জায়গা থেকে চলতি আলাপখানির বিস্তার শুরু হচ্ছে। নিম্নবর্গের চিন্তাপদ্ধতির প্রতিবেশীয় মেজাজ ও এর জটিল বিন্যস্ত দার্শনিকতার বৈচিত্র কোনোভাবেই এই এক বিঘত আলাপ তলে জারি করা সম্ভব নয়। এর জন্য যে প্রস্তুতি ও চর্চা দরকার তা চলতি আলাপের শরীর কি মগজে খুব একটা নাই। আলাপখানি নিম্নবর্গের প্রতিবেশ দর্শনের ঐতিহাসিকতা ও এর সংগ্রামী বিকাশমানতার প্রতি আজন্ম দায়বদ্ধ ও নতজানু হয়েই এখানে সামিল হয়েছে। রাষ্ট্রের ইতিহাস কাঠামো ও প্রবল চিন্তাপদ্ধতি থেকে এর নাভীমূল কি পত্রপল্লব আন্দাজ করা সম্ভব নয়। এর জন্য অন্যতম মৌলিক শর্ত দেশ ও দেশের রক্তজয়ী জীবনধারা। আলাপখানি দেশের নানাপ্রান্তের ভিন্ন ভূগোল ও জীবনপ্রবাহের চিন্তাসূত্রকে একটা তলে জড়ো করেছে নিম্নবর্গের জ্ঞানপ্রবাহের তাত্ত্বিক মেজাজখানি বোঝার তাগিদে। পাশাপাশি বিদ্যায়তনিক তর্কের তল, রাষ্ট্র ও এজেন্সিসমূহের বলপ্রয়োগ, উন্নয়ন বাহাদুরি এবং জনপ্রতিরোধকেও আলাপে পরিসর হিসেবে বিবৃত হয়েছে। আলাপখানি রাষ্ট্রের সাথে দেশ, সম্পর্কের বিজ্ঞান বনাম উন্নয়ন এবং এজেন্সির সাথে নিম্নবর্গের ঐতিহাসিক বিরোধকে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে টেনেছে। শব্দ ও প্রত্যয়ের রাজনৈতিকতা এবং উপস্থাপনের তর্ককে আন্দাজে নিয়েই চলতি আলাপে ‘নিম্নবর্গ’, ‘প্রতিবেশ দর্শন’ প্রত্যয়সমূহ জারি থাকছে। একটা মৌলিক প্রশ্ন টানটান রেখে আলাপখানি শুরু করা যাক। রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ কি ‘প্রতিবেশপরায়ণ’? কোনোধরণের রাখঢাক ছাড়াই এর নিখাদ উত্তর ‘না’। প্রতিবেশের একেবারে প্রাথমিক ধারণাবিন্দুগুলোও রাষ্ট্রের কলিজা কি মগজে নাই। রাষ্ট্র টিকে থাকবার শর্তগুলো যেমন নথি, বিদ্যায়তন, উন্নয়ন কি এজেন্সির কোথাও প্রতিবেশ-দর্শন বা জারি রাখা নৈতিকতার ভতর প্রতিবেশীয় চিন্তাসূত্রের কোনো স্পষ্ট হদিশ নাই। আলাপের তলটি তাই রাষ্ট্র নয়, দেশের যাপিতজীবন বিন্যাসকেই দৃঢ়ভাবে গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রের জারি রাখা নথি কি নীতি, উন্নয়ন বাহাদুরি কি এজেন্সির মতাদর্শ বারবার ‘পরিবেশ’ ও ‘প্রতিবেশকে’ নিদারুণভাবে গুলিয়ে ফেলে এক লোকদেখানো বুঝদারি উসকে রেখেছে।

বেশ দলিল দস্তাবেজ ও হরহামেশা আওয়াজগুলি ঘাঁটাবাছা করে যথেষ্ট দায় ও দায়িত্ব নিয়ে বলা যায়, প্রতিবেশ প্রশ্নকে রাষ্ট্র ও তার এজেন্সিসমূহ নির্দয়ভাবে অস্বীকার করে চলেছে এবং এ বিষয়ে প্রবল মতাদর্শের ন্যূনতম কোনো আন্দাজ বা দায় নেই। রয়েছে বুঝতে না পারা বা বুঝতে না চাওয়ার এক পুরনো বাহাদুরি। নিম্নবর্গের প্রতিবেশ দর্শন ও চিন্তাসূত্রের প্রতিবেশীয় ব্যাকরণ আন্দাজ করতে হলে এক দীর্ঘযাত্রায় আমাদের সামিল হতে হবে। এটি চর্চা ও কারিগরির গণিত। এখানে অন্যথা আহাম্মকি, বলা উচিত বেয়াদবি বা মাস্তানি। প্রতিবেশ চিন্তাসূত্রের সাথে রাজনৈতিকতা, দার্শনিকতা ও উৎপাদন পদ্ধতির শ্রেণিসম্পর্ক সরাসরি জড়িত। রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের এজেন্সিসমূহ ঠিক এ কারণেই প্রতিবেশ-ধারণাকে এড়িয়ে যায়, দাবিয়ে রাখে, নিখোঁজ কর দেয়। কখনো কখনো খুব বেশি বেকায়দা বা বেসামাল হলে বা জ্ঞানগরিমার ঝকমারি প্রশ্নের ভেতর পিছলে পড়লে এক মুখস্থ ‘পরিবেশ প্রত্যয়ের’ ভেতর দিয়েই অধিপতি মতাদর্শ প্রতিবেশ-চিন্তাকে পাঠ করার তাকদ জারি রাখে। রাখঢাকের কিছু নেই, আপনার চারপাশটাতেই খোঁজ করুন এসব প্রশ্ন ও উত্তর কিলবিল করছে। খেয়াল করুন রাষ্ট্রের এক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের নাম ‘পরিবেশ অধিদপ্তর’, মন্ত্রণালয়ের নাম ‘পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়’, মন্ত্রীর নাম পরিবেশ ও বন মন্ত্রী, অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘পরিবেশবিদ্যা’ একটি স্বতন্ত্র বিষয়। উন্নয়নখাতে ‘পরিবেশ খাতে’ বরাদ্দ হয়, পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশ দূষণ রোধ এখন এক মুখস্থ কর্মসূচি, আছে গন্ডায় গন্ডায় পরিবেশ বিষয়ক এনজিও, রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রদত্ত পদক দেয়া হয় পরিবেশকর্মের জন্য, গণমাধ্যমে রোজ খবর বেরুয় পরিবেশ-বিধ্বংসী কর্মকান্ড, ‘আপনার পরিবেশ সুন্দর রাখুন’ এমন বিজ্ঞাপন আমরা হামেশাই দেখতে চাই, পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা কর্মীর মজুরি দেয় জনগণ নিজের করের টাকায়, আছে রাষ্ট্রের পরিবেশ সম্পর্কিত আইন ও আদালত। তাহলে ‘প্রতিবেশ চিন্তাখানি’ আমরা আলাপে টানছি কেন? চারধার জুড়ে

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice