প্রাচীনকালের বিজ্ঞানীদের কথা
প্রাচীনকালে গ্রিসের এথেন্স নগরীকে ঘিরে বিজ্ঞানচর্চার এক সমৃদ্ধ কেন্দ্র গড়ে ওঠেছিল। তা টিকেছিল প্রায় এক হাজার বছর। সেকালের বিজ্ঞানীদের বিজ্ঞানভাবনা, আজও আমাদেরকে বিস্মিত করছে। সেদিন যাঁরা বিজ্ঞানে বিশেষ অবদান রেখেছিলেন তাঁদের মধ্যে প্রকৃতিবিজ্ঞানী থ্যালিস (খ্রি. পৃ. ৬২৪-৫৪৬), অ্যানাক্সিমেন্ডার (খ্রি. পৃ. ৬১০-৫৪৬), গণিতবিদ পিথাগোরাস (খ্রি. পৃ. ৫৭২-৪৯৭), জ্যোতির্বিজ্ঞানী অ্যানাক্সাগোরাস (খ্রি. পৃ. ৫০০-৪২৮), চিকিৎসাবিদ হিপোক্রিটিস (খ্রি. পৃ. ৪৬০-৩৭০), বিজ্ঞানী ডেমোক্রিটাস (খ্রি. পৃ. ৪৬০-৩৭০), বিজ্ঞানী ও দার্শনিক এরিস্টটল (খ্রি. পৃ. ৩৮৭-৩২২), গণিতবিদ ইউক্লিড (খ্রি. পূ. ৩৪৭-২৮৭), বিজ্ঞানী ও দার্শনিক এপিকুরাস (খ্রি. পূ. ৩৪১-২৭১), জ্যোতির্বিজ্ঞানী অ্যারিস্টারচুস (খ্রি. পৃ. ৩২০-২৫০), গণিতবিদ আর্কিমিডিস (খ্রি. পৃ. ২৮৭-২১২), গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী হিপ্পারচুস (খ্রি. পৃ. ১৯০-১২০), চিকিৎসাবিজ্ঞানী গ্যালেন (১২৯-২০১ খ্রি.), গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিদ হাইপেশিয়া (৩৭০-৪১৫ খ্রি.) প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। ধারণা করা হয় যে, সেকালে ভারতীয় ঋষিরা বৈশেষিক দর্শনের সূত্রপাত করেছিলেন। এ দর্শনের সূত্রাকার ছিলেন কণাদ। কণাদ কারো প্রকৃত নাম ছিল না। ঋষি কণাদ কণভুক্ষ ছিলেন বলে এ নামকরণ হয়েছে। কণাদের মতবাদ অনুযায়ী পরমাণু অসংখ্য এবং বস্তুর শেষ কণা। ভারতের বৈশেষিক দর্শনের সঙ্গে প্রাচীন পরমাণুবাদের সাদৃশ্য দেখা যায়। কোনো কোনো গবেষকের মতে বৈশেষিক সূত্র অধিক প্রাচীন। এ সূত্র মতে পরমাণু হতেই মহাবিশ্বের সৃষ্টি। ইহা ভারতের দার্শনিক সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন।
খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীতে বৈজ্ঞানিক চিন্তাচেতনার প্রথম সূত্রপাত ঘটান থ্যালিস। তারপর প্রকৃতিবিজ্ঞানী অ্যানাক্সিমেন্ডার ৫৬০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে জীবজগতের ক্রমবিবর্তন বিষয়ে তাঁর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত দেন। পার্থিব বিষয় হিসেবে তিনি জল, বায়ু, আগুন ও মাটিকে চিহ্নিত করেছিলেন। খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে বিশিষ্ট গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিদ পিথাগোরাস অমূল্য অবদান রাখেন। তাঁর নামাঙ্কিত পিথাগোরাসের সূত্রটি জ্যামিতিশাস্ত্রে আজও জনপ্রিয় হয়ে রয়েছে। তাছাড়া জ্যোতির্বিজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ করে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন সন্ধ্যাতারা ও শুকতারা একই বস্তু। আর প্রকৃতিবিজ্ঞানী অ্যানাক্সিমেনেস (খ্রি. পৃ. ৫৪৬-৪৭৫) বলেছিলেন, বিশ্বসৃষ্টির মূল উপাদান গ্যাসীয় পদার্থ। তিনিই প্রথম ধারণা করেছিলেন যে, বাষ্পের তরলীভবনের ফলে প্রথমে জল এবং পরে তরলের কঠিনভবনের ফলে মাটির উৎপত্তি হয়েছে।
খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীর জ্যোতির্বিজ্ঞানী অ্যানাক্সাগোরাস (খ্রি. পৃ. ৫০০-৪২৮) সর্বপ্রথম বলেছিলেন- পৃথিবী, সৌরমণ্ডলের অন্যান্য গ্রহ এবং চাঁদ একই উপাদানে গঠিত। সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের প্রকৃত কারণ ও তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন। চাঁদে মালভূমি, পাহাড় ও জীব রয়েছে। বিশ্বব্রহ্মাণ্ড ঈশ্বরের সৃষ্টি নয়। তাঁর এ-বক্তব্যের জন্যে তাঁর বিরুদ্ধে সেকালেও নাস্তিকতার অভিযোগ আনা হয়েছিল এবং রাজদরবারে তাঁর বিচার করা হয়েছিল। সেকালের চিকিৎসাবিজ্ঞানী এমপিদোক্লিজ (খ্রি. পৃ. ৪৯০-৪৩০) নিশ্চিতভাবেই অনুমান করেছিলেন যে, হৃদপিণ্ড হলো মানুষের রক্তনালীতন্ত্রের কেন্দ্রস্থল এবং মূলত প্রাণের আশ্রয়স্থল। পরবর্তীকালে এরিস্টটল এ ধারণাকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। সে শতকের বিজ্ঞানী লিউসিপ্লাস (খ্রি. পৃ. ৪৯০-৪৫০) প্রথম অণু নিয়ে চিন্তাভাবনা করেছিলেন। তাঁর মতে সকল বস্তুই অসংখ্য ক্ষুদ্র কণা দ্বারা গঠিত এবং এ কণাই বস্তু জগতের প্রাথমিক উপাদান। তাঁরই ছাত্র ডেমোক্রিটাস পারমাণবিক প্রতীতির জন্যে বিখ্যাত। তাঁর তত্ত্বানুসারে পদার্থ অতি ক্ষুদ্র কণা দ্বারা গঠিত; এত ক্ষুদ্র যে তাকে আর বিভাজন করা যায় না। এই সমস্ত কণা শাশ্বত, অপরিবর্তনীয় ও ধ্বংসের অতীত। তাঁর পরমাণুবাদ সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত সেভাবে স্বীকৃতি লাভকরেনি। সেই শতকের চিকিৎসাবিজ্ঞানী হিপোক্রিটিস চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিশেষ অবদান রেখে গেছেন। তাঁকে স্মরণ করে তাঁরই রচিত শপথবাক্য চিকিৎসা পেশায় প্রবেশের আগে চিকিৎসকদের আজও পাঠ করানো হয়।
খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীর জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও গণিতবিদ ইউডোকসাস (খ্রি. পূ. ৪০৮-৩৫৫) মহাজাগতিক গোলক সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিয়েছিলেন। তিনি বিভিন্ন গ্রহের কক্ষপথের ও গতির ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যত্যয়ের কথা বলেছিলেন; এক বছর ঠিক ৩৬৫ দিন নয়, তার চেয়েও কয়েক ঘণ্টা বেশি। তিনি পৃথিবীর একটা মানচিত্র অঙ্কন করেছিলেন। তাছাড়া মহাকাশকে অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশে ভাগ করে নক্ষত্ররাজির একটা মানচিত্র অঙ্কনে হাত
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments