অর্থনীতি কি শিক্ষা দেয়
শ্রমিককে শিক্ষা দিয়াছেন ও সচেতন করিয়া তুলিয়াছেন মার্ক্স, এঙ্গেলস্, লেনিন ও স্টালিন। ইহাদের শিক্ষা ও মত মার্ক্স-লেনিনবাদ্ নামে পরিচিত। মার্ক্স-লেনিনবাদ পুঁজিতন্ত্রের বিরুদ্ধে সংগ্রামে শ্রমিকের হাতে একটি শক্তিশালী অস্ত্র; সমাজতন্ত্র গড়িয়া তোলায়ও ইহা সহায়ক।
সমাজবাদের আলোচনা মার্ক্সের পূর্ব্বেও হইয়াছে। কিন্তু সে আলোচনা ছিল একেবারেই মনগড়া। মার্ক্সই প্রথম ইহাকে বিজ্ঞানের রূপ দেন। মুষ্টিমেয় ধনিক কিরূপে শ্রমিককে শোষণ করিতেছে, কিরূপে তাহারা ভূমি, খনি, কলকারখানার উপর একচেটিয়া অধিকার বিস্তার করিয়াছে এবং ছোট ছোট উৎপাদনগুলিকে উচ্ছেদ করিয়া বড় বড় কারখানা প্রতিষ্ঠা করিয়াছে, সঙ্গে সঙ্গে সমাজতন্ত্রেরও ভিত্তি গড়িয়া তুলিয়াছে এ সকল আলোচনা মার্ক্সই প্রথম করেন। মার্ক্স শুধু পুঁজিতন্ত্রের স্বরূপই খুলিয়া ধরেন নাই, শ্রেণী-সংঘর্ষ কি তাহাও শিখাইয়াছেন। বৈপ্লবিক সমাজতন্ত্রীদলের কি কর্তব্য সে বিষয়েও তিনি নির্দ্দেশ দিয়াছেন। ভাবী সমাজের গড়ন সম্পর্কে মনগড়া পরিকল্পনা তৈয়ার; শ্রমিকের অবস্থার উন্নতির জন্য মালিককে উপদেশ দান অথবা গোপনে ষড়যন্ত্র সংগঠন: এগুলি কখনো শ্রমিকের কাজ নয়। শ্রমিকের লক্ষ্য পুঁজিতন্ত্রের বিরুদ্ধে সংগ্রামের জন্য সংগঠিত হওয়া, রাষ্ট্র-ক্ষমতা হস্তগত করা এবং শ্রমিক এক-নায়কত্বের প্রতিষ্ঠাদ্বারা সমাজতন্ত্র গড়িয়া তোলা।
বৈজ্ঞানিকের দৃষ্টি দিয়া মানুষের ইতিহাস প্রথম রচনা করেন মার্ক্স। অনেকেরই ধারণা ইতিহাসের ঘটনাগুলি বুঝি আকস্মিকভাবে ঘটিয়া থাকে। আসল কথা, প্রকৃতির ঘটনাগুলির মতোই সমাজের ঘটনাগুলিও নিয়মের অধীন। প্রভেদ এইটুকু যে প্রকৃতি মানুষের উপর নির্ভর করে না; কিন্তু সমাজ মানুষের ইচ্ছা ও কাজকে অবলম্বন করিয়া বিকশিত হয়। মার্ক্স দেখাইয়াছেন, পুঁজিতন্ত্রের অন্তর্বিরোধ উহাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলিয়া দিতেছে। স্যোশাল ডেমক্রাটরা তাই বলিয়া থাকেন—পুঁজিতন্ত্রের ধ্বংস যখন অবশ্যম্ভাবী, তখন আর ইহার বিরুদ্ধে সংগ্রামের কি প্রয়োজন? মার্ক্স বলেন, পুঁজিতন্ত্র ভাবী সমাজের ক্ষেত্র প্রস্তুত করিতেছে সত্য, কিন্তু তীব্র সংগ্রাম ব্যতীত উহার অন্ত্যেষ্টি সম্ভব নয়। সকল যুগেই শ্রেণী-সংঘর্ষের মধ্য দিয়া সমাজের বিকাশ হইয়াছে।
পুঁজিতন্ত্রী সমাজে প্রধানত দুইটী শ্রেণী—ধনিক ও শ্রমিক। যাহারা উৎপাদন যন্ত্রের মালিক তাহাদের শ্রেণীকে বলা হয় ধনিক শ্রেণী, আর যাহারা ধনিকের নিকট শ্রমশক্তি বিক্রয় করিয়া উৎপাদন যন্ত্র চালু রাখে তাহাদের শ্রেণীকে বলা হয় শ্রমিক শ্রেণী। সমাজের সকল ক্ষমতা ধনিকের হাতে। কিন্তু শ্রমিককে শোষণ করিয়াই ধনিক তাহার অস্তিত্ব বজায় রাখিতেছে এবং প্রতিষ্ঠা বাড়াইতেছে। পুঁজিতন্ত্রের একটী বিশেষত্ব এই: ধনিকের ক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকের সংখ্যাবৃদ্ধি হয়; শ্রমিকের সংঘবদ্ধতাও দৃঢ়তর হয়। ধনিক স্বয়ং নিজের ধ্বংস ডাকিয়া আনে। পুঁজিতন্ত্রী সমাজে শ্রেণী, শ্রেণীস্বার্থ ও শ্রেণী-সংঘর্ষ অনিবার্য্য।
শ্রেণী কাহাকে বলে?
ধনোৎপাদন প্রণালীর মধ্যে যাহাদের এক রকম স্থান ও এক রকম সম্বন্ধ তাহারা মিলিয়া একটি শ্রেণী হয়।
শ্রেণীব্যবস্থা কাহাকে বলে? লেনিন বলেন, যাহা সমাজের একটি অংশকে অপর অংশের শ্রমের ফল আত্মসাৎ করিতে দেয়, তাহাই শ্রেণীব্যবস্থা। মধ্যযুগে কতিপয় লোকের দখলে ছিল সমাজের সকল ভূমি; সে-যুগের শ্রেণী, কৃষক ও ভূস্বামী। আজ সমাজের একটি অংশের দখলে কলকারখানা ও উৎপাদনের অন্যান্য সরঞ্জাম। ইহারা ধনিক। যে-শ্রেণী ধনিকের স্বার্থে কাজ করিতেছে তাহারা শ্রমিক।
সমাজের এক শ্রেণী অপর শ্রেণীর শ্রমের ফল আত্মসাৎ করে; ইহার মূল বুঝিতে হইলে একটু তলাইয়া দেখা প্রয়োজন।
শ্রমিকের শ্রম ছাড়া উৎপাদনের কাজ হয় না। মাটীর নীচের খনি হইতে শ্রমিক লোহা তুলিয়া আনে, তাই লোহা কাজে আসে। শ্রমিক তাহার শ্রমদ্বারা প্রকৃতির জিনিসগুলিকে ভাঙ্গিয়া-চুরিয়া মানুষের ব্যবহারোপযোগী করিয়া গড়ে। শ্রম সম্পর্কে আরো একটী কথা আছে। ছোট বড়, যে-কোন প্রকার উৎপাদনেই হউক, একা কোন কাজ হয় না। কারখানায় হাজার হাজার শ্রমিক সংঘবদ্ধভাবে কাজ করে। এদিকে কারিগর তাহার ক্ষুদ্র-প্রতিষ্ঠানটীতে একাই কাজ চালাইয়া যাইতেছে; তাই বলিয়া তাহার পিছনে অন্যের সহায়তা নাই এরূপ মনে করা ভুল। তাহার যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য উপকরণ অপর লোকের তৈয়ারী। সুতরাং সকল অবস্থাতেই উৎপাদনের কাজ হয় বহু লোকের সমবায়ে অথবা
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments