বিশেষ সাক্ষাতকারে জে. মানেকশ'
সাক্ষাৎকার গ্রহণ: মুসা সাদিক
“শত্রুর কামানের গোলায় বুক পেতে দিয়ে আত্মদানের ঘটনা দ্বিতীয় মহাযুদ্ধেও শোনা যায় না“
[১৯৭১-এর ৭ ডিসেম্বর যুদ্ধের শেষ পর্যায়। কিন্তু কেউ জানত না যে যুদ্ধ শেষ হয়ে আসছে, অন্তর্যামী ব্যতীত। রণাঙ্গনের বাতাস মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর রক্তের গন্ধে একাকার হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের ১১টি সেক্টরের শত শত ফ্রন্ট তখন মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর বীরদের পদভারে কাঁপছে। তাঁদের মিলিত শোণিতে সিক্ত হয়ে উঠেছে শত শত রণাঙ্গনের মাটি-ঘাস-ফুল। সেই ৭ ডিসেম্বরে ইস্টার্ন সেক্টর গোপন সফরে এলেন জেনারেল এস.এইচ.এফ.জে. মানেকশ'। কোন কর্মসূচী ও সংবাদ ছাড়াই জেনারেল ওসমানীসহ জেনারেল মানেকশ' আকস্মিকভাবে ৮নং থিয়েটার রোডে বাংলাদেশ সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্যারের অফিসে পৌঁছালেন। সময় তখন ঠিক সকাল ৯টা। ৮নং থিয়েটার রোডের চারদিক তখন নিরাপত্তার নিশ্ছিদ্র ঘেরাটোপে বন্দী। ৮নং থিয়েটার রোডের অফিসের অভ্যন্তরে তখন স্টাফদের ও অন্যান্য নিত্যদিনের নিরাপত্তা কর্মী ও কর্মকর্তাদের মুভমেন্ট স্ট্যান্ড স্টিল। অন্য ধরনের কমান্ডোরা ৮ নং থিয়েটারের নিরাপত্তা তাদের কব্জায় নিয়ে ফেলেছে। তিনি ছিলেন মাত্র ২০ মিনিট। এই ২০ মিনিট ৮নং থিয়েটার রোডের অফিস অন্য কোন গ্রহের চেহারায় মুড়ে গিয়েছিল। তখনও কেউ অনুমান করতে পারছিলেন না, জেনারেল ওসমানী কাকে নিয়ে সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্যারের কক্ষে প্রবেশ করেছেন। তাঁর কক্ষ তখন অচেনা-অজানা কমান্ডোর কর্ডনের মধ্যে। আমি (মুসা সাদিক) প্রবাসী সরকারের চীফ সেক্রেটারি রুহুল কুদ্দুস সাহেবের ঘনিষ্ঠ এবং ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির রণাঙ্গন সফরের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধায় এই সুযোগে জেনারেল মানেকশ'-এর একটা সাক্ষাতকার নেবার জন্য মরিয়া হয়ে উঠলাম। রুহুল কুদ্দুস সাহেবের চেষ্টায় মাত্র ৫ মিনিটের বরাদ্দ পেয়ে গেলাম। সেজন্য সকল প্রশংসা রুহুল কুদ্দুসের প্রাপ্য। তাঁর কাছে ঋণ স্বীকার করছি। ইতোমধ্যে সাক্ষাতকারটি দেশী-বিদেশী পত্রপত্রিকায় এবং ২০০০ সালে প্রকাশিত আমার বই 'Bangladesh Wins Freedom'-এ প্রকাশিত হয়েছে। ইংরেজিতে নেয়া উক্ত সাক্ষাতকারের বঙ্গানুবাদ নিম্নরূপ:]
প্রশ্ন: সুপ্রভাত, স্যার। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আমাদের মিত্রবাহিনী কিভাবে সাহায্য করছে?"
উত্তর: হ্যাঁ, রণক্ষেত্রে আমাদের সামরিক শক্তির কিয়দংশ প্রয়োগের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে আমরা সাহায্য করছি। কিন্তু আমার সামরিক সার্ভিসের বিধি-বিধানের কারণে তুমি এ সাক্ষাতকার এখন প্রকাশ করবে না বা ছাপাতে পারবে না। সুতরাং এখন এটা তোমার অর্থহীন পরিশ্রম হবে...।
(এ পর্যায়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাসিমুখে তাঁকে সাক্ষাতকার দেবার বিষয়ে উৎসাহিত করেন। তিনি ভিন্ন সোফায় রাষ্ট্রপতির ডান দিকে এবং অপর সোফায় রাষ্ট্রপতির বাম দিকে জেনারেল ওসমানী উপবিষ্ট ছিলেন)।
প্রশ্ন: সেটা ঠিক আছে স্যার। আমার পরিশ্রম মূল্যহীন হলেও এই সুযোগে আপনার ঐতিহাসিক একান্ত সাক্ষাতকার নেবার সুযোগ হারাতে চাই না। এমন হতে পারে জীবনে আপনাকে সামনাসামনি আর কখনও দেখার সৌভাগ্য আমার হবে না। মেহেরবানী করে বলতে পারেন স্যার, আপনি বাংলাদেশের রণাঙ্গনজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন?
উত্তর: মুক্তিবাহিনীকে রণাঙ্গনে তাদের চাহিদার সকল সমরাস্ত্র এবং প্রয়োজনীয় সকল লজিস্টিক সাপোর্ট মিত্রবাহিনী নিশ্চিত করেছে। তারাই যুদ্ধটা জয় করে চলেছে। ইতোমধ্যে তাদের মুক্তাঞ্চলগুলো যাতে পাকিস্তানী ফৌজ পুনর্দখল না করতে পারে সেটা মিত্রবাহিনী নিশ্চিত করেছে। সেই সাথে তাদের অগ্রযাত্রাপথে শত্রুর বাধাগুলো যাতে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় সেটা মিত্রবাহিনীর আর্টিলারি ও এয়ারফোর্স দক্ষতার সাথে অব্যাহতভাবে করে যাচ্ছে।
প্রশ্ন : স্যার, অনেক রণাঙ্গনে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রযাত্রা আশানুরূপ হচ্ছে না বলে দেখা যায় মূলত আমাদের শত্রু পাক হানাদার বাহিনী রণাঙ্গনে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধাস্ত্রের চেয়েও উন্নত (সুপিরিয়র) যুদ্ধাস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করছে।
উত্তর: বহু রণক্ষেত্রে মিত্রবাহিনী কৌশলগত ভাল অবস্থানে আছে বলে তারা সেখানে শত্রু বাহিনীকে নিজেরাই ঘায়েল করছে। সে সকল রণাঙ্গনে মুক্তিবাহিনীর ক্ষতি হতে না দিয়ে তাদেরকে পাকসেনাদের মনোবল ভেঙ্গে দেবার জন্য অন্তর্ঘাত আক্রমণ ও অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments