সময়-অসময়ের ব্যতিচার বয়ান
বিজ্ঞান কল্পকাহিনি বা সায়েন্স ফিকশনের (সংক্ষেপে সাই-ফাই) দুনিয়া এক আজব দুনিয়া! এই দুনিয়ায় কল্পনা আর বাস্তব, বিজ্ঞান আর কল্পনিকতা, বৈজ্ঞানিক সম্ভাব্যতা ও বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা, সাহিত্য আর আখ্যানমালার এমন এক জটিল টানাপড়েন সৃষ্টি হয় এবং এর ফলে যে-পরিণতি তৈরি হয় তার স্বাদ উপভোগ না-করে পাঠকের উপায় থাকে না। আমার এক বন্ধু আমাকে বলেছিলেন, পশ্চিমে এক সময়ে এই সাই-ফাইয়ের কল্যাণে বিজ্ঞানের প্রতি একটা সাধারণ আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছিল। প্রথম প্রথম আমার কাছে ব্যাপারটা মনঃপুত হয়নি, কিন্তু দুদিন ধরে বিষয়টা নিয়ে ভাবতে গিয়ে বুঝলাম কথাটার কী মাহাত্ম্য! কথা তো সত্যি! এভাবে আমরা সাই-ফাইকে ব্যবহার করে বিজ্ঞান-শিক্ষার্থী টানতে পারি। কিন্তু কেমন হবে সে কাহিনি?
দিতার ঘড়ি
লেখক:দীপেন ভট্টাচার্য
প্রকাশকাল: অক্টোবর ২০২৫ (দ্বিতীয় মুদ্রণ)
প্রকাশক:দ্যু প্রকাশন
ইংরেজি ভাষায় সায়েন্স ফিকশনের দুই প্রবাদপুরুষ হলেন আইজ্যাক অ্যাসিমভ ও আর্থার সি ক্লার্ক। এঁদের একটি লেখাও পড়েননি এমন বিজ্ঞানী সত্যিই দুর্লভ। আমি নিজে অবশ্য কখনোই সাই-ফাই ভক্ত ছিলাম না, কিন্তু এক সময়ে মনে হলো অ্যাসিমভের ‘ফাউন্ডেশন’ সিরিজটা পড়ে দেখা দরকার। আমার মনে আছে, সিদ্ধান্তগ্রহণের পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে আমি একটানে পুরো সিরিজটি শেষ করি। পুরো কাহিনির মূলে যে ধারণাকল্প সেটা দারুণ এক আইডিয়া—একটি টেকনো-সভ্যতার উন্মেষ, নির্দিষ্ট বিশেষায়িত প্রযুক্তিবিদদের সাহায্যে এই পুরো সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ, নানান অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত ডামাডোল, অশ্রুতপূর্ব চরিত্রের আগমন এবং এসবের সমাধানে হ্যারি শেলডনের সমাজসূত্রের অনুসরণ। এক অনবদ্য বুনট, যার প্রতি আকর্ষণ এক মুহূর্তের জন্যও কমে না। অ্যাসিমভ রোবটদের নিয়েও সিরিজ করেছেন এবং ‘রোবটিকের তিনটি সূত্র’ নামে কিছু নিয়ম লিখে গেছেন যা নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভাবুকেরা উদ্বেল।
অ্যাসিমভের অন্যান্য গল্পও কম মোহনীয় নয়। তিনি নিজে কিন্তু প্রাণরসায়নের অধ্যাপক ছিলেন, আর তাঁর লেখা বিজ্ঞানের বইগুলোও অনবদ্য ছিল লিখনশৈলী এবং সাহিত্যগুণের দিক দিয়ে।
অন্যদিকে, আর্থার সি ক্লার্কের বইগুলোও অনেক দিক দিয়ে ভিন্নধর্মী ছিল। তাঁর দুটো সিরিজ—‘স্পেস অডিসি’ এবং ‘রামা’—গভীর তত্ত্বজ্ঞান সমৃদ্ধ। প্রথমদিকে চাঁদে প্রোথিত একটি বহির্জাগতিক ট্রান্সমিটারের উৎস সন্ধান করতে গিয়ে এক নাক্ষত্রিক সভ্যতার পরিচয় লাভ; এবং দ্বিতীয়টিতে একটি এলিয়েন শিপের উৎস সন্ধান করতে গিয়ে একটি কসমিক সমাজের পরিচয় লাভের গল্প শোনানো হয়েছে। ক্লার্কের কল্পকাহিনিতে ব্যবহৃত হয়েছে এমন অনেক উপাদান যাকে পরে বৈজ্ঞানিক বাস্তবতায় রূপান্তরিত হতে আমরা দেখেছি। ক্লার্কই ভূসমলয়ী উপগ্রহের কথা বলেছিলেন যা দিয়ে পৃথিবীব্যাপী টেলিযোগাযোগ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি কম্পিউটারের অভ্যন্তরীণ লজিকের গণ্ডগোল থেকে উদ্ভূত ‘মানসিক সমস্যা’র কথা বলেছিলেন যা আজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষকদের কাছে ‘হ্যাল কমপ্লেক্স’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। ক্লার্কের গল্প ‘২০০১-স্পেস ওডিসি’তে এমন এক নভোযানের কথা বলা হয়েছে যা কয়েকজন নভোচারীকে নিয়ে শনির উপগ্রহ আয়াপেটাসের অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। এই যাত্রার উদ্দেশ্যটি কেবল নভোযান পরিচালনাকারী কম্পিউটার ‘হ্যাল’ জানত, কিন্তু তাকে নির্দেশ দেওয়া ছিল অভিযানের মূল উদ্দেশ্য গন্তব্যস্থানে পৌছানোর আগে নভোচারীদের জানানো যাবে না। কিন্তু নভোচারীরা জানতে চাইলে সে মিথ্যে কথা বলতে অপারগ ছিল। ফলে তার ডিজিটাল লজিকে গণ্ডগোল দেখা দেয়। যেহেতু সে মিথ্যা কথা বলতে পারবে না, আবার নভোচারীরা জিজ্ঞেস করলে তাকে মিথ্যা উত্তর দিতে হবে—তাই যাতে কেউ কোনো প্রশ্নই না করতে পারে তার জন্য সে একে একে নভোচারীদের হত্যার পরিকল্পনা নেয়। এটাই ‘হ্যাল কমপ্লেক্স’ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উৎকর্ষ সাধন করতে হলে এই ‘মানসিক সমস্যার’ সমাধান প্রয়োজন। যুক্তি সাংঘর্ষিক হলে যন্ত্রের বাঁচার উপায় কী? আত্মহত্যাকে যেমন আলব্যের কামু সবচেয়ে কঠিন দার্শনিক সমস্যা বলে উল্লেখ করেছেন, বুদ্ধিমান যান্ত্রিক সত্তার জন্য এই ‘হ্যাল কমপ্লেক্স’ও অনুরূপ। ক্লার্কের ‘রামা’ সিরিজে আমরা যে এলিয়েন শিপের গল্প পাই সেখানে স্বয়ংক্রিয় নানারকম
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments