দুর্বার দক্ষিণের বাতাস
আসানা আম্মা কোলা-বাদামের অকিঞ্চিৎকর স্তূপের দিকে তাকিয়ে থুথু ফেললো, আর টুকরিটা তুলে নিলো। তারপর টুকরিটা নামিয়ে একটা বাদাম তুলে নিয়ে সেটায় একটা কামড় দিয়ে সেটা ছুঁড়ে স্তূপের মধ্যে ফেলে আবার থুথু ফেলে উঠে দাঁড়ালো। তীব্র ক্ষণস্থায়ী একটা ব্যথা তার বাঁ কানের নিচে কোথায় যেন চাগিয়ে উঠলো। চোখদুটো তার ঝাপসা হয়ে এলো।
“জ্বালানি কাঠগুলো একবার দেখতে হবে”, সে ভাবছিল চোখ ঝাপসা হয়ে আসাটা যে বাতাসের ঠাণ্ডা আমেজের জন্য এই কথা চিন্তা করতে করতে। বাদামের ঝোপগুলোর ওপর হেঁট হলো সে।
“এই ঘেসো জমির ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এই ধুলোর ওপর কার কুদৃষ্টি পড়বে জানি না, আমি বরং তাড়াতাড়ি ওগুলো তুলে ফেলি।”
ক্রাল-এ (Kraal) ফিরে যাবার সময় তার চোখ পড়লো বিশেষ করে এবড়ো খেবড়ো গোলাকার জায়গাগুলোর ওপর, আগেকার দিনে ছিল খনির মুখগুলো। আগেকার দিনে, এই সময় জায়গাগুলো প্রায় ফেটে পড়ার মতো হতো আর বিদায়ী মরসুমের অবশিষ্ট অংশগুলো খুঁড়ে ফেলতে ফেলতে ঐ খনি-মুখগুলোর দিকে তাকিয়ে একটা প্রায় যৌন আনন্দের শিহরণ অনুভব করা যেতো, ঠিক যেমন কল্পনা করা যায় নয় মাসের গর্ভবতী স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে একজন পুরুষের অনুভূতি হতে পারে, সেই রকম।
গর্ভধারণ আর জন্ম আর মৃত্যু আর যন্ত্রণা; আর আবার মৃত্যু… যখন আর কোনো জন্ম নেই আর তাই, কোনো মৃত্যুও নেই।
একটা নতুন মৃতদেহ দেখাও, বোন, যাতে করে আমি আমার পুরোনো কান্না কাঁদতে পারি।
তার পেটের ভেতরটা ঠাণ্ডা হয়ে গেলো, নড়ে উঠলো কি যেন জঠরের মধ্যে, দরজাটা ভর করে তাকে দাঁড়াতে হলো। বিশ বছরে একমাত্র গর্ভধারণ হলো ফুসেনিই। বিশ বছর, আর প্রথম সন্তান জন্মালো আর তাও এক পুত্র সন্তান! আগেকার দিনে বড় বড় হরিণ মারা হতো আর গর্ভবতী মেয়েকে ছোট হরিণ দিলে ভর্ৎসনা শুনতে হতো। কিন্তু এখন সরকারী অভয়ারণ্যের ঘৃণ্য চোরা শিকারীর দল তাদের ছোট ছোট নিকৃষ্ট হরিণগুলো চুপিসাড়ে পাচার করে নিয়ে যায়, এমনই নিকৃষ্ট মাদী হরিণ সব! হ্যাঁ তারা এমনকি ছোট ছোট হরিণগুলো পর্যন্ত লুকিয়ে নিয়ে যায় দক্ষিণের ঐসব লোভী লোকগুলোর বাড়িতে বাড়িতে।
আগেকার দিনে, সময় কি ভাবে কেটে যায়, কত তাড়াতাড়ি বয়স বেড়ে যায়। কিন্তু নাতি নাতনী হতে আরম্ভ করলে তখন কি মানুষ আশা করে যে তার বয়স কমে যাবে? একটা নাতি দেওয়ার জন্য আল্লাকে ধন্যবাদ।
যখন সে ঘরে ফিরে এলো তখনও আগুন বেশ ভালোভাবেই জ্বলছিল। আসানা আম্মা বাদামগুলো নামিয়ে রাখলো। গলা বাড়িয়ে কোনার দিকে দেখলো সে। জ্বালানি চ্যালা কাঠগুলোয় তাদের অন্তত পরের সপ্তাহটা চলে যাবে। বাকি সন্ধ্যাটা বসে সে আগামীকাল সকালের হাটের প্রস্তুতি করলো।
সন্ধ্যার প্রার্থনা সমাপ্ত হলো। টাকাটা থলের ভিতর। মাঠঘাট নিস্তব্ধ। হাওয়া ঘুমোচ্ছিল আর ফুসেনিও। আম্মা সদর দরজার কাছে বেরিয়ে এলো, প্রথমত সব কিছু ঠিক আছে কি না দেখতে তারপর দরজাটা বন্ধ করতে। কাউকে দেখে নয় বরং হালকা পা যা আরও হালকাভাবে চলার চেষ্টা করছে তারই খসখস শব্দ তার মনোযোগ আকৃষ্ট করলো।
“আমার স্বামী যদি আসতো”
কিন্তু অবশ্যই স্বামী তার আসেনি!
“কে ওখানে?”
“আমি আম্মা।”
“কে ইসা, আমার বাছা?”
“হ্যাঁ, আম্মা।”
“ওরা ঘুমোচ্ছে।”
“আমিও তাই আন্দাজ করেছিলাম। আর সেই জন্য আমি এখন এসেছি।”
কথাবার্তার মাঝখানে দীর্ঘ একটা বিরতি পড়লো, দুজনেই ইতঃস্তত করছিল জামাই হাওয়া আর বাচ্চাকে দেখতে যাবে কি না! এই দোটানা সম্বন্ধে কিছুই বলা হলো না তাছাড়া সব কিছু তো আর বলা যায় না।
আসানা আম্মা দেখতে পেলো না বটে তবে বুঝতে পারলো যে ইসারই জয় হলো। সদর দরজার চৌকাঠ পেরিয়ে আসানা আম্মা বাইরে বেরিয়ে এসে পিছনের আগলটা
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
৳৯৯
এক মাস
৳৩০
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
আমা আতা আইদু
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
[কুইজে অংশ নিয়ে জিতে নিন এক মাসের ফ্রি সাবক্রিপশন]
-
মুক্তিযুদ্ধকে উপজীব্য করে 'যাত্রা' উপন্যাসটি লিখেছেন—
-
ক. শওকত ওসমানখ. শহিদুল জহিরগ. শওকত আলীঘ. সেলিনা হোসেনLogin
Please login first to Answer.
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments