- শিশু-কিশোর
- +
- অ
- -
- সেমিওন শুরতাকভ
- ১৯৭৮
- ২৩৪
‘শুনছি, ঘাস বাড়ছে...’
‘আচ্ছা, মেঘগুলো সব গেল কোথায়?’ বলল ল্যুবাশকা।
ঘাসের ওপর শুয়ে শুয়ে সে নীল আগুনে পোড়া আকাশটাকে দেখছিল। পরিষ্কার ফাঁকা আকাশ। শুধু ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে একটা তপ্ত গোলক—সূর্য। আজ দু’দিন ধরে এই চোখ ধাঁধানো গোলকটায় মেঘের ছায়া পড়েনি।
গুমোট। গরম। তপ্ত হাওয়ায় তালু জ্বলে যায়। পুড়ছে, পুড়ছে। ফ্যাকাশে নীল আগুনে পুড়ছে উঁচু আকাশটা। পুড়ছে একদিন, দু’দিন, দু’সপ্তাহ। সাদা মেঘগুলো যেন দানা বাঁধতে-না-বাঁধতেই সে আগুনে বাষ্প হয়ে উড়ে যাচ্ছে।
‘অমন মনমরা কেন ওগুলো, অমল চুপচাপ?’ বলল ক্ষেতের গম শিষগুলোকে লক্ষ করে।
গমগাছগুলো দাঁড়িয়ে আছে একেবারে নিশ্চল। গম, ঘাস, গাছপালা—সবকিছুই। এতটুকু খসখসানি নেই।
‘হবে না মনমরা!’ পাশ দিয়ে যাচ্ছিল শুরা মাসি, আমার হয়ে সে জবাব দিল, ‘ঘাসগুলো যে নিশ্বাস নিতেই পারছে না, শুকিয়ে মরবে।’
‘ঘাস আবার নিশ্বাস নেয় নাকি?’
‘নেয় বইকি,’ বললাম আমি।
ল্যুবাশকা ঘাসের ওপর কান পেতে শুনল, ‘উঁহু,’ শুনতে পাচ্ছি না তো।’
আমি বোঝাবার চেষ্টা করলাম যে, এখানে বড়ো গোলমাল: মুরগি ডাকছে, ঘেউ ঘেউ করছে কুকুর, কাঠ ফাড়ছে লোকে, এখানে কি শোনা যায়? শুনতে হলে যেতে হয় দূর ঘাসে-ভরা মাঠে।
তবে ব্যাখ্যাটা ল্যুবাশকার মনে ধরল না। তক্ষুনি ছুটে গিয়ে বিনা গোলমালে ঘাসের নিশ্বাস শোনার ইচ্ছে হল তার।
ভারী এক ফ্যাসাদ বাধাল শুরা শাসি।
ক্ষেতে আরো গরম, একটু ছায়া নেই গা বাঁচাবার।
আকাশ এখানে আরো বড়ো, আরো উঁচু। শুধু হয়েছে একেবারে ওই ঢিলাগুলো থেকে, কোথাও আড়াল পড়েনি। শুধু আকাশ আর মাঠ। তাছাড়া ক্ষেতের মধ্যে দিয়ে ওই হাঁটা পথটা। ব্যস। ওপরে আকাশ, আর নিচে ক্ষেত আর আমরা, চলেছি হাঁটতে হাঁটতে।
ট্রাকটরের ঘড়ঘড় শোনা গেল। ক্ষেতের ওদিকে থেকে ধুলোর মেঘ উঠল। হাঁটা পথটাতেও পুরুষ হয়ে জমেছে ধুলো। কাছের গমগাছগুলো যেন ছাই-মাখা।
পাকন্ত গাছগুলো যেন মূর্ছা গেছে; একটা শিষও কাঁপছে না, একটা পাতাতেও সরসরানি নেই। বোবা। কালা। আধা-ঘুমে কিসের যেন হাপিত্যেশ। খরা। গুমোট।
‘কী চাইছে ওরা?’ ল্যুবাশকা জিজ্ঞেস করল গমগুলোর কথা।
‘বৃষ্টি চাইছে। তোর তেষ্টা পেয়েছে তো?’
‘হ্যাঁ পেয়েছে।’
‘দ্যাখ তবে, অথচ জল খেয়েছি মাত্র ঘণ্টা খানেক আগে। দু’সপ্তা বৃষ্টি হয়নি, ওদেরও তেষ্টা পায় তো।’
‘কিন্তু ওদের তো প্রাণ নেই।’
‘আছে বইকি। ওই গমগাছগুলো, এই ঘাস, এই ফুলটা, এই বার্চগাছটা, সবারই প্রাণ আছে। নিশ্বাস নেয়, মাটি থেকে রস খায়, রোদ খায়।’
‘কিন্তু এখানেও নিশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে না কে?’ ফের জিজ্ঞেস করল ল্যুবাশকা।
উত্তর দেবার ফুরসত হল না। বনের ওপারে গর্জন করে উঠল যেন মস্ত এক কামান দেগেছ। ক্ষেতের ওপর দিয়ে বহু দূর গড়িয়ে গেল বজ্রের গুরুগুরু। বনের ওপরকার আকাশটা হয়ে উঠল ঘোলাটে, আর তার ফ্যাকাশে নীলের ওপর দিয়ে হুড়মুড়িয়ে এল ঘন কালো মেঘ।
মেঘ ডাকল আরও অনেকবার। রুপোর খড়গ দিয়ে যেন কেউ বাঁকা কোপ মেরে চলেছে। কিন্তু কাটতে পারছে না। ধীরে ধীরে কেবলই উঠে আসছে মেঘ। উঁচুতে, আরো উঁচুতে। ঢেকে ফেলল আধখানা আকাশ, ঢাকা পড়ল সূর্য। জ্বলজ্বলে রোদের জায়গায় হঠাৎ যেন গোধূলি নেমেছে। গুমোট, আগের চেয়েও যেন বেশি গুমোট।
চারদিককার এই হঠাৎ-বদলটা চুপ করে দেখছিলাম আমরা। অন্য সবকিছুও আমাদের মতোই চুপচাপ। যেন লুকিয়ে পড়েছে, নিথর হয়ে গেছে একটা মস্তো ঘটনার সামনে।
আবার বাজ ডাকল, রুপোর বাঁকা খড়গ ফুলে ওঠা মেঘের ওপর কোপ পড়ল আবার। এবার কিন্তু ফেটে গেল মেঘ। সেই ফাটল দিয়ে বৃষ্টি নামল ঘুঘুরঙা ধারায়। একটা বার্চগাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমরা, হঠাৎ তার ডালপালায় দমকা হাওয়ার দোল উঠল। বৃষ্টি ঝেঁপে এল এখানেও, ঘা দিল পাতায় পাতায়। আনন্দে থরথরিয়ে উঠল গাছটা, প্রতিটি পাতাই
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
সেমিওন শুরতাকভ
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
এক রাজার সাত রাণী। দেমাকে, বড়রাণীদের মাটিতে পা পড়ে না। ছোটরাণী খুব শান্ত। এজন্য রাজা ছোটরাণীকে সকলের চাইতে বেশি ভালবাসিতেন। কিন্তু, অনেক দিন পর্যন্ত রাজার ছেলেমেয়ে হয় না। এত বড় রাজ্য, কে ভোগ করিবে? রাজা মনের দুঃখে থাকেন।
এইরূপে দিন যায়। কতদিন পরে,—ছোটরাণীর ছেলে হইবে। রাজার মনে, আনন্দ ধরে না; পাইক-পিয়াদা ডাকিয়া, রাজা, রাজ্যে ঘোষণা করিয়া দিলেন,—"রাজা রাজভাণ্ডার খুলিয়া দিয়াছেন, মিঠাইমণ্ডা মণি-মাণিক যে যত পার, আসিয়া নিয়া যাও।
বড়রাণীরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল। রাজা আপনার কোমরে, ছোটরাণীর কোমরে, এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিয়া, বলিলেন,—"যখন ছেলে হইবে, এই শিকলে নাড়া দিও, আমি আসিয়া ছেলে দেখিব!" বলিয়া, রাজা, রাজদরবারে গেলেন।
ছোটরাণীর ছেলে
-
উত্তর থেকে বড়নদী দেখানে ব্রহ্মপুত্রের জলে এসে মিলেছে ঠিক সেই বাঁকের মুখেই কতকালের পুরানো ডিমরুয়ার আসামী রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি। নাটবাড়ির নিচেই নদী মজে গিয়ে মস্ত চর পড়েছে। এত কাল থেকে হাড়গিলে পাখিরা এই চর দখল করে আছে যে, ক্রমে চরটার নামই হয়ে গেছে হাড়গিলার চর। এই চরের ওপারেই দেওয়ানগিরি মস্ত একটা বুড়ো আঙুলের মতো আকাশের দিকে ঠেলে উঠেচে। এই দেওয়ানগিরি হল যত ফরিয়াদি পাখির আড্ডা। একপারে রইল আসামী মাছেদের রাজা আড়িমাওয়ের নাটবাড়ি আর এক পারে দেওয়ানী ফরিয়াদির আড্ডা দেওয়ানগিরি, মাঝখানে বসে রয়েছেন হাড়গিলে। আসামী ফরিয়াদিতে লড়াই মোকদ্দমা প্রায়ই হয়, তাতে দুই দলই মাঝে-মাঝে মারা পড়ে।
হাড়গিলের খাম্বাজং রাজা দুই দলের
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments