প্রাচীন যুগের আদালত
‘প্রাচীন যুগের’ আদালতের ইতিহাসের কথা বলতে চলেছি, কিন্তু আপনাদের মনে স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্নটাই জাগা উচিত, এই ‘প্রাচীন যুগ’ বলতে কোন যুগটাকে বোঝায়? কথাটা এভাবে বললে ঠিক হয়, সভ্যতার প্রাথমিক যুগের আদালত। শিরোনামটা যেমন আছে তেমনি থাক, আপনারা এই অর্থেই বুঝে নেবেন। তা হলেই হবে।
কতকাল আগেকার কথা বলা হচ্ছে? মোটামুটি ধরে নিন খ্রিষ্টপূর্ব তিন সহস্রাব্দ (খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০) থেকে দ্বিতীয় সহস্রাব্দের মাঝামাঝি (খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০) কাল পর্যন্ত। এই প্রসঙ্গে মিসর, সুমেরীয়া, ব্যাবিলন এই কটি দেশ এবং হিট্টীয় ও ইহুদী জাতির মধ্যে কি ধরনের আদালত ব্যবস্থা ছিল? এই সম্পর্কে যে সমস্ত দলিলপত্র পাওয়া গেছে, তা থেকে যা বলার বলবো। তার বেশী আর কেমন করে বলা যাবে? এই প্রসঙ্গে আমাদের মোহেনজোদারো-হরপ্পার আদালত ব্যবস্থা সম্পর্কেও বলা দরকার ছিল। কিন্তু বলার উপায় নাই, কেননা তাঁরা কোনো দলিলপত্র রেখে যায়নি।
মিসরে বিচারক হিসাবে স্বতন্ত্র কোনো পেশা ছিল না। মিসররাজ ফারাও তাঁর দুজন মন্ত্রী নিয়ে সারা রাজ্যের তোষাখানা ও বিচার বিভাগকে পরিচালনা করতেন। বড় বড় শহরগুলির মেয়র বা শাসনকর্তা এবং ছোট ছোট কেন্দ্রের লেখক (Seribe) ও রেকর্ড রক্ষকরা প্রশাসন ও বিচার এই দুই বিভাগের কাজই করতেন। সারা রাজ্যে বড় আদালত ছিল দুটো, একটা থিবিস-এ আর একটা হেলিওপোলিস-এ। থিবিস-এর আদালতে দক্ষিণ অঞ্চলের মন্ত্রীর এবং হেলিওপোলিস-এর আদালত উত্তর অঞ্চলের মন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় আদালত ছিল। শহরের বিশিষ্ট লোকেরা ও জেলার সরকারী কর্মচারীরা এই স্থানীয় আদালতগুলোতে বিচারে কাজ পরিচালনা করতেন। এদের মধ্যে পুরোহিতদের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশী। মামলায় হারলে বড় আদালতে আপিল করা যেত। এই বড় আদালতে যারা হারত তাদের আপিল করতে হতো খোদ ফারাওর কাছে। এইখানেই চূড়ান্ত আপিল। কোনো গুরুতর মামলায়-যেমন যেখানে রাজপরিবারের লোকেরা জড়িত থাকতেন, সেই সব ক্ষেত্রে ফারাও একটি বিশেষ আদালত বসাতে পারতেন। এই বিশেষ আদালত আসামীদের আপিল করার অধিকারকে প্রত্যাখ্যান করতে পারতেন।
অভাব-অভিযোগের প্রতিকারের জন্য সরকারের কাছে লিখিতভাবে দরখাস্ত পেশ করতে হতো। আবেদনকারীর পক্ষ সমর্থন করবার মতো কোনো দলিলপত্র থাকলে তা এই দরখাস্তের সঙ্গে দাখিল করতে হতো। সে যুগে বিচারকের আদর্শটা কি রকম ছিল, উজির রেখমায়ার-এর নিম্নোক্ত মন্তব্য থেকে তা কিছুটা বুঝতে পারা যাবে। এখানে রেখমায়ার তাঁর নিজের উজির পদের দায়িত্ব সম্পর্কে বর্ণনা করছেন: ‘খুব সাবধানে, তুমি যা কিছু করবে আইন অনুসারে করবে। লোকে উজিরের আচরণে সুবিচারের প্রত্যাশা করে থাকে। উজিরের প্রধান লেখক যে, তাকে বলা হয় ন্যায়ের লেখক। আর যেখানে বসে তুমি তোমার কাজ কর, তাকে বলা হয় ন্যায়ের ভবন। সকলের প্রতি যিনি সুবিচার করেন তিনিই হচ্ছেন উজির।’
এই তো গেলো আদর্শ। কিন্তু কার্যত আদালতের কাজ-কর্ম কি ভাবে চলত? সে সম্পর্কে অল্প কয়েকটি দলিল আমাদের হাতে এসেছে। তার প্রায় সবকটির মধ্যেই বিচার-ব্যবস্থার বীভৎস চিত্র পাওয়া যায়। ফৌজদারী মামলায় কেবলমাত্র দোষীদেরই যে অত্যাচার ও অঙ্গচ্ছেদ করা হতো তা নয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সত্য কথা বলবার জন্য নির্দোষ সাক্ষীদের উপরেও নানারকম অত্যাচার চলত। কবরের ডাকাতির মামলায় একটা বিশেষ কমিশন নিয়োগ করা হয়েছিল। সেই মামলায় সাক্ষী হিসেবে যাদের উপস্থিত করা হয়েছিল, তাদের উপরে সন্দেহ থাক আর নাই থাক সত্য কথা বলবার মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে তাদের প্রত্যেককে প্রথমেই পায়ের তলায় বেত্রাঘাত করা হয়েছিল (সে যুগের অত্যাচারের একটা বিশেষ পদ্ধতি)। আর যাদের উপর সন্দেহ হতো, তাদের অবস্থা আরও শোচনীয়। এই মামলাতেই সৈন্যদলের লেখক আঙ্গে ফেনামুনকে সাক্ষ্য দেবার জন্য নিয়ে আশা হলো। ছড়ি দিয়ে মারতে মারতে ওরা তাকে জেরা করতে লাগল। প্রথমে তারা পায়ের তলায়, তারপর তার হাতের উপর
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments