- শিশু-কিশোর
- +
- অ
- -
মোক্তার ভূত
শিবু-মোক্তার আর বেণী-মোক্তারকে মহকুমার সকলেই চিনত, তাদের মতো ধূর্ত ধড়িবাজ লোক ও তল্লাটে আর ছিল না। লোকে যেমন তাদের চিনত তেমনি ভয়ও করত। একবার তাদের পাল্লায় পড়লে আর কারুর রক্ষে ছিল না—জোঁক যেমন গা থেকে রক্ত শুষে নেয় অথচ জানতে পারা যায় না, তারাও তেমনি মিষ্টি কথায় ভুলিয়ে টাকা শুষে মক্কেলকে সর্বস্বান্ত করে দিত।
আদালতে দু'জনের মধ্যে রেষারেষি চলত, আবার বাইরে ভাবও ছিল। কিন্তু শিবু মক্কেলকে বলত, ‘বেণীটা জানে কি? ওকে এক তুড়িতে উড়িয়ে দেব।' আবার বেণীও নিজের মক্কেলকে বলত, 'শিবুটা একটা আস্ত গাধা— আইনের প্যাঁচে ফেলে ওর দফা রফা করব।' —কিন্তু সন্ধেবেলা একজন আর একজনের দাওয়ায় বসে তামাক না খেলে রাত্রে ঘুম হত না।
এমনিভাবে দুই মোক্তার সারাজীবন পরস্পরের সঙ্গে বাইরে বন্ধুত্ব আর ভিতরে শত্রুতা করে ক্রমে বুড়ো হয়ে এলো। দু'জনেরই বেশ টাকাকড়ি বাড়ি ঘর হয়েছে—বলতে গেলে তারাই দেশের মধ্যে সবচেয়ে গণ্যমান্য হয়ে উঠেছে। বারোয়ারী দুর্গাপূজায় এক বছর শিবু প্রেসিডেন্ট হয়, পরের বছর বেণী প্রেসিডেন্ট হয়—স্কুল কমিটিতেও তাই। কেউ কারুর চেয়ে খাটো নয়।
ওদের দু'জনের মধ্যে বোধ হয় শিবুরই ফিলে বুদ্ধি বেশি ছিল। সে একদিন মনে মনে মতলব আঁটলে—বেণীকে ভাল করে ঠকাতে পারেনি, বুদ্ধির যুদ্ধে কখনো বেণী জিতেছে কখনো শিবু জিতেছে। ফলে কেউই বড়াই করে বলতে পারত না যে, আমি বেশি চালাক।
শিবু-মোক্তার ফন্দি ঠিক করে হঠাৎ একদিন সন্ধ্যাবেলা হন্তদন্ত হয়ে বেণীকে গিয়ে বললে, 'ভাই বেণী, বড় বিপদে পড়েছি, পঞ্চাশটা টাকা ধার দিতে পার, কালই ফেরত পাবে।'
বেণী শিবুর মতলব বুঝতে পারলে না, বললে, তার আর কি। নিয়ে যাও।'
শিবু টাকা নিয়ে নিজের বাড়িতে গ্যাঁট হয়ে বসল। পরদিন টাকা ফেরত দেবার কথা, কিন্তু শিবুর দেখা নেই। বেণীর মন উতলা হয়ে উঠল। তারপর আরো দু'দিন কেটে গেল, কিন্তু শিবুর টাকা দেবার কোন চেষ্টাই দেখা গেল না।
বেণী মহা ফাঁপরে পড়ল। সে বুঝলে শিবু তাকে বিষম ঠকিয়েছে—কিন্তু লজ্জায় সেকথা কারুর কাছে বলতে পারলে না। হ্যাণ্ডনোটে না লিখিয়ে নিয়ে শিবুকে সে টাকা ধার দিয়েছে একথা জানাজানি হলে দেশসুদ্ধ লোক হাসবে; বলবে—‘বেণী-মোক্তারটা গাধা!' শিবুও তাই চায়। বেণী-মোক্তার ভেবে ভেবে আধখানা হয়ে গেল।
শিবুর সঙ্গে যখনি দেখা হয়, বেণী ফিফিস্ করে বলে, “ভাই শিবু, আমার টাকা?'
শিবু হেসে বলে, ‘বেণী ভাই, বুড়ো হয়ে তোমার মাথা খারাপ হয়েছে? টাকা আবার আমি কবে নিলুম?'
বেণী রেগে বলে, ‘দেবে না তাহলে? আচ্ছা আমিও দেখে নেব।'
শিবু হ্যা হ্যা করে হেসে বলে, “বেশ তো, মকদ্দমা কর না, হ্যাণ্ডনোট আছে নিশ্চয় ? ”
বেণী রাগে দাঁত কড়মড় করতে করতে চলে যায়। ক্রমে কথাটা চারিদিকে রাষ্ট্র হয়ে গেল যে, বেণীর পঞ্চাশ টাকা শিবু-মোক্তার বেবাক ঠকিয়ে নিয়েছে।
সবাই আহ্লাদে আটখানা, ভাবলে—'আহা, কাকের মাংসও কাকে খায় ?' বেণীকে সকলে জিজ্ঞাসা করতে লাগল—হ্যাঁ দাদা, তুমি নাকি লেখাপড়া না করেই শিবুকে টাকা ধার দিয়েছিলে? শেষে তোমার এই দুর্বুদ্ধি হল?’
বেণী কিন্তু কিছুতেই মানতে চায় না, ঘাড় নেড়ে বলে, 'আরে না না, ওসব শিবেটার মিথ্যে কথা। দাঁড়াও না, শিবেকে আমি--’
যখন একলা থাকে তখন শিবুর পেজেমির কথা ভেবে দাঁত কড়মড় করে আর গালাগাল দেয়।
এমনিভাবে টাকার কথা ভেবে ভেবে বেণী অসুখে পড়ল। একে বুড়ো বয়স তার উপর টাকার শোক—বেণী যায় যায়। ডাক্তার-বদ্যিরা তার অবস্থা দেখে আশা ছেড়ে দিলে।
বেণী কিন্তু তখনও টাকার আশা ছাড়েনি; কেবলই ভাবছে, কী করে শিবুর কাছে টাকা উদ্ধার করবে! তার আর অন্য চিন্তা নেই। যখন বদ্যি নাড়ী দেখে বললে—“হরি নাম কর!
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
লিন্টু আর পিন্টু দু ভাই। যমজ। একই ক্লাসে পড়ে। তবে পড়াশুনার সঙ্গে তাদের ঘোড়াই সম্পর্ক ছিল। শয়তানি ও বাঁদরামিতে দুজনেই ওস্তাদ। দুটো ছোটখাট বিছে বললেও অত্যুক্তি হবে না।
ক্লাস সিক্সে পর পর দুবার যখন ওরা ফেল করল তখন ওদের আব্বা হায়দার সাহেব ঠিক করলেন যে, ওদের জন্যে এবার প্রাইভেট টিউটর রাখতে হবে। রাখলেনও একজন মাস্টার। কিন্তু কয়েক দিন পরই বিদেয় হতে হল মাস্টারকে। ব্যাপারটা আর কিছুই নয়।
মাল্টার সাহেব পরম আরামে চেয়ারে বসে চোখ বুজে নিদ্রাদেবীর আরাধনা করছিলেন।
আর তখনই হায়দার সাহেবের দৃষ্টিতে পড়ল ব্যাপারটা। পরের দিনই বিদেয় করে দিলেন মাস্টারকে। এ রকম ফাঁকিবাজ মাস্টারকে তিনি কিছুতেই বরদাশত করতে পারেন
-
এক রাজার সাত রাণী। দেমাকে, বড়রাণীদের মাটিতে পা পড়ে না। ছোটরাণী খুব শান্ত। এজন্য রাজা ছোটরাণীকে সকলের চাইতে বেশি ভালবাসিতেন। কিন্তু, অনেক দিন পর্যন্ত রাজার ছেলেমেয়ে হয় না। এত বড় রাজ্য, কে ভোগ করিবে? রাজা মনের দুঃখে থাকেন।
এইরূপে দিন যায়। কতদিন পরে,—ছোটরাণীর ছেলে হইবে। রাজার মনে, আনন্দ ধরে না; পাইক-পিয়াদা ডাকিয়া, রাজা, রাজ্যে ঘোষণা করিয়া দিলেন,—"রাজা রাজভাণ্ডার খুলিয়া দিয়াছেন, মিঠাইমণ্ডা মণি-মাণিক যে যত পার, আসিয়া নিয়া যাও।
বড়রাণীরা হিংসায় জ্বলিয়া মরিতে লাগিল। রাজা আপনার কোমরে, ছোটরাণীর কোমরে, এক সোনার শিকল বাঁধিয়া দিয়া, বলিলেন,—"যখন ছেলে হইবে, এই শিকলে নাড়া দিও, আমি আসিয়া ছেলে দেখিব!" বলিয়া, রাজা, রাজদরবারে গেলেন।
ছোটরাণীর ছেলে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
[কুইজে অংশ নিয়ে জিতে নিন এক মাসের ফ্রি সাবক্রিপশন]
-
কোন কবি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে কবিতা লিখতেন?
-
ক. আল মাহমুদখ. হেলাল হাফিজগ. নির্মলেন্দু গুণঘ. শামসুর রাহমানLogin
Please login first to Answer.
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments