প্রাচীনকালে জানা মৌলসমূহ
অনুবাদ: কানাই লাল মুখোপাধ্যায়
বস্তুত, প্রাচীনকাল কথাটা একটা অস্পষ্ট ধারণামাত্র। অতএব, এই শিরোনামে একাধিক মৌলের আলোচনার বেশীভাগ হবে বিধিবহির্ভূত, যদিও ইতিহাসে আলোচনাটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। এই অধ্যায়ে যে মৌলগগুলির (প্রধানত ধাতব মৌল) আলোচনা আছে, সেগুলির ব্যবহার প্রাচীনকালের বিভিন্ন লেখাপত্রে উল্লেখ আছে, না হয় প্রত্মতাত্ত্বিক তথ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে পারা যায়।
এই সব ক্ষেত্রে “আবিষ্কার” শব্দটির ব্যবহার বিধিবহির্ভূত। ঐতিহাসিক পটভূমিকায় বলতে গেলে, এই অধ্যায়ের মুখ্য চরিত্রগুলি, স্বাধীন রাসায়নিক মৌল হিসেবে তুলনামূলকভাবে সম্প্রতি স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রাচীনকালে জানা মৌলের আদি ইতিহাসটি বর্ণনায় মৌলগুলির আবিষ্কারের তারিখ এবং আবিষ্কারকদের নাম উল্লেখ না করেই চুপিচুপি চলে যেতে হবে। অতএব, এই অধ্যায়ে মৌলগগুলির উপস্থাপনার ধরনটি একটু অস্বাভাবিক রকমের হবে। এই সব মৌলের এবং পরাকালে এগুলির ব্যবহারের সংক্ষিপ্ত বিবরণ এখানে থাকবে।
প্রাচীন কালের সাতটি ধাতব মৌলের (সোনা, রূপো, তামা, লোহা, টিন, সীসা এবং পারদ) আলোচনা অধ্যায়টিতে থাকবে। “চমৎকার সাতটি” ধাতব মৌল, যেগুলি সভ্যতা এবং ভৌত দর্শনের বিভিন্ন শ্রেণীর বিকাশের ক্ষেত্রে দার, ণভাবে অংশ নিয়েছিল। আমরা গন্ধকের কথা বলবো, সেটি বর্তমান কালের বহ, পূর্বে বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং কার্বনের কথাও বলবো। খুব সম্ভবত, এটা হতে পারে যে, মানবজাতির জানা প্রাচীনতম রাসায়নিক মৌল হলো কার্বন। তাই আমরা কার্বন দিয়ে রাসায়নিক মৌলের ইতিহাসটি আরম্ভ করবো।
দস্তা, প্লাটিনাম, অ্যান্টিমনি এবং বিসমাথ প্রাচীনকাল থেকে জানা ছিল বলে কখনও বলা হয়, কিন্তু এ ব্যাপারে সঠিক কোন প্রমাণ নেই।
কার্বন
কার্বন আবিষ্কারের সঠিক তারিখ নিশ্চিত করে বলা যায় না। কিন্তু এটা বলা খুব একটা শক্ত নয় যে, কার্বন কখন থেকে সরল পদার্থ হিসেবে পরিগণিত হয়েছিল। ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত এবং এ ল্যাভয়সিয়ের কর্তৃক সংকলিত ‘সরল পদার্থের তালিকায়' আমাদের দৃষ্টি ফেরানো যাক। এখানে কার্বন সরল পদার্থ হিসেবে উপস্থিত। এই তালিকায় স্থান করে নিতে কার্বনের কত সময় লেগেছিল, সেটা বছর বা শতাব্দী দিয়ে বলা হয় না কিন্তু সহস্র বছর হিসেবে বলা হয়। আগন প্রস্তুত করার অনেক আগেই কার্বনের সঙ্গে মানষের পরিচয় ঘটেছিল, বজ্রাঘাতে পোড়া কাঠ থেকে। কেমন করে আগুনে জ্বালাতে হয় এটা শেখার পর কার্বন মানষের “নিত্যসঙ্গী” ছিল।
'তত্ত্বের উন্নতিতে কার্বন একটা উল্লেখ্যযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিল। এই 'তত্ত্ব অননুসারে কার্বন সরল পদার্থ ছিল না, কিন্তু বিশুদ্ধ ছিল। কয়লা ও অন্যান্য যৌগের দহন পরীক্ষা করে এ. ল্যাভয়সিয়েরই প্রথম ব্যক্তি যিনি দেখিয়েছিলেন যে, কার্বন একটা সরল পদার্থ। কেমন করে কার্বন তার পরিচয় পেয়েছিল এই উপাখ্যান থেকে আমরা একটু দূরে চলে যাচ্ছি।
প্রকৃতিতে কার্বন দুটি বহরূপে পাওয়া যায় যেমন হীরক ও গ্রাফাইট। সে দুটিকে মানুষ বহু পূর্ব থেকেই জানতো। উচ্চ তাপমাত্রায় হীরার দহনে অবশেষ হিসেবে কিছু পাওয়া যায় না, এই ঘটনাটি বহ,পূৰ্বে জানা ছিল। তব ও হীরা ও গ্রাফাইটকে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পদার্থ বলে বিশ্বাস করা হতো। কার্বন ডাই অক্সাইডের আবিষ্কারে এটা প্রমাণ করতে সাহায্য করেছিল যে, হীরা ও গ্রাফাইট অভিন্ন বস্তুর বহরূপে। হীরা ও কাঠকয়লার জ্বলনের পরীক্ষার সাহায্যে এ. ল্যাভয়সিয়ের প্রমাণ করেছিলেন যে, এই দুটি বস্তুর দহনে কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন হয়। এতে এই সিদ্ধান্তে আসা গিয়েছিল যে হীরা ও কয়লার উৎস অভিন্ন। ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে “রাসায়নিক নামকরণের পদ্ধতিসমূহ” (“Methods of Chemical Nomen- clature”) [ল্যাভয়সিয়ের ( A. Lavoisier), এল গ ইটন ডি মারভিউ (L Guyton de Morveau), সি বারথোলেট (C Berthollet) এবং এ ফোউরক্নোই (A. Fourcroy) ] বইয়ে প্রথম "কার্ব নেয়াম” (carboneum) [কার্বন (carbon)]-এর উল্লেখ পাওয়া যায়। স্মরণাতীত কাল থেকে জানা এই মৌলটির সঙ্গে এর ল্যাটিন নামের একটি যোগসূত্র টানা যায়। এর
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments