শহীদ ভগৎ সিং
ভগৎ সিংহের সঙ্গে আমার অল্প কয়েকদিনের মাত্র পরিচয়। এত কম দেখা সাক্ষাৎ যাঁর সঙ্গে হয়েছে তাঁর বিষয়ে কিছু লিখতে যাওয়া অনধিকার চর্চা। তবুও আমি একান্তভাবে অনুরুদ্ধ হয়েছি যে কমপক্ষে একটি পৃষ্ঠা হলেও যেন আমি কিছু লিখি।
১৯২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে আমি লাহোরে গিয়েছিলাম। ইচ্ছা ছিল, ডিসেম্বরের বাকী কটা দিন ও পুরো জানুয়ারী মাস আমি সেখানে কাটিয়ে আসব। লাহোরে পেশোয়ারে অনুষ্ঠিত মস্কো বলশেভিক ষড়যন্ত্র মোকদ্দমায় দণ্ডভোগী ও আমাদের কমরেড মীর আবদুল মাজীদের বাড়িতে ভগৎ সিংহের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় হয়। আমি কানপুর বলশেভিক ষড়যন্ত্র মোকদ্দমায় জেল-খাটা লোক বলে তিনি আমায় দেখতে এসেছিলেন। তাঁর সঙ্গে আবদুল মজীদ আমার পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। ভগৎ সিংহের হাজার হাজার ফটোগ্রাফ দেশময় বিতরিত হয়েছে। সারা দেশের সংবাদপত্রসমূহেও তাঁর ফটো ছাপা হয়েছে। দাড়ি-কামানো, ছোট করে ছাঁটা এবং শর্ট শার্ট ও হ্যাট পরিহিত ফটোগ্রাফের এই ভগৎ সিংকেই সারা দেশ চিনেছেন ও মনে রেখেছেন। কিন্তু মীর আবদুল মজীদের বাড়ীতে আমি প্রথম যাঁকে দেখেছিলাম, তিনি ছিলেন একজন শিখ নবযুবক। লম্বা চুলের উপরে মাথায় যত্ন করে পাগড়ি বাঁধা, পাতলা দাড়ি তখনও পুরো চেহারা ঢেকে ফেলেনি, পরনে পায়জামা, শার্ট ও কোট মিষ্ট স্বভাবের এই ভগৎ সিংহের ছবিই আমার মনে ছাপা হয়ে আছে।
দাড়ি-কামানো, ছোট করে ছাঁটা এবং শর্ট শার্ট ও হ্যাট পরিহিত ফটোগ্রাফের এই ভগৎ সিংকেই সারা দেশ চিনেছেন ও মনে রেখেছেন। কিন্তু... আমি প্রথম যাঁকে দেখেছিলাম, তিনি ছিলেন একজন শিখ নবযুবক। লম্বা চুলের উপরে মাথায় যত্ন করে পাগড়ি বাঁধা, পাতলা দাড়ি তখনও পুরো চেহারা ঢেকে ফেলেনি... মিষ্ট স্বভাবের এই ভগৎ সিংহের ছবিই আমার মনে ছাপা হয়ে আছে।
আমার লাহোরে যাওয়ার আগে তো নিশ্চয়ই, কিন্তু কতদিন আগে তা মনে নেই, সেখানে 'নওজওয়ান ভারত সভা' গঠিত হয়েছিল। বাইরে থেকে দেখে আমি যা বুঝেছিলেম, উদ্যোক্তাদের ভিতরে সকল মতের ও সকল পথের লোকেরা ছিলেন। তাতে ন্যাশনালিষ্টরা ছিলেন, কমিউনিষ্টরা ছিলেন, আর ভগবৎ সিং ও তাঁর বন্ধুরাও ছিলেন। তার মানে সন্ত্রাসবাদী বিপ্লবীরাও ছিলেন নওজওয়ান ভারত সভায়। বয়সের দিক হতে বিশ বছরের নবযুবকরা ছিলেন, তিরিশের কোঠার যুবকেরা ছিলেন, আর চল্লিশের কোঠার লালা কেদারনাথ সেহগলও ছিলেন। কেউ কেউ উৎসাহের আতিশয্যে বলে ফেলেন যে, ভগৎ সিংই ছিলেন 'নওজওয়ান ভারত সভা'র প্রতিষ্ঠাতা, কিন্তু আমি লাহোরে যা শুনেছি তাতে এই বয়ান ইতিহাসসম্মত নয়।
ভগৎ সিং তখন ভগবতীচরণ বোহারার রাজনীতিক প্রেরণায় চলতেন। আমি 'নওজওয়ান ভারতসভা'র বিশিষ্ট সভাদের মুখে একথা শুনেছি। সভার কার্য-নির্বাহক কমিটির বৈঠকে ভগবতীচরণের প্রেরণায় ভগৎ সিং মাঝে মাঝে সন্ত্রাসবাদী প্রস্তাব উপস্থিত করতেন, কিন্তু সভার বহু মত তখন সভাকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের পরিণত করতে চাননি। ক্রমশঃ সভার কাজে ভগবৎ সিংহের উৎসাহ কমে যায়। আমি লাহোরে গিয়ে শুনলাম কেউ কেউ বলাবলি করছেন 'ভগৎ সিংকে আলস্যে ধরেছে', আসলে আলস্যে তাঁকে ধরেনি, গোপন সংগঠনের কাজে তিনি তখন বেশি বেশি আত্মনিয়োগ করছিলেন।
'নওজওয়ান ভারত সভা' সকলের নিকট হতেই চাঁদা নিতেন। একদিন আমি দেখেছিলাম রামচন্দ্র কাপুর (তিনি তখন নিজেকে কমিউনিস্ট বলে দাবি করতেন) সার ফজ্ল্-ই হুসায়নের সঙ্গে টেলিফোনে সাক্ষাতের সময় নির্দিষ্ট করছিলেন। সার ফজ্ল্-ই হুসায়ন তখন গভর্নরের একজেকিউটিভ কাউন্সিলের সভ্য ছিলেন। আমি আশ্চর্য হয়ে রামচন্দ্র কাপুরকে জিজ্ঞাস করেছিলেম, এই ভদ্রলোকের সঙ্গে আপনার সাক্ষাতের কী প্রয়োজন? কাপুর বলেছিলেন, 'নওজওয়ান ভারত সভা'র জন্যে তাঁর নিকট হতে চাঁদা আদায় করব। বাংলাদেশে এভাবে চাঁদা আদায় করলে তখনকার দিনে কেউ ভাল চোখে দেখতেন না।
পুরো জানুয়ারী মাস আমি লাহোরে থাকতে পারিনি। ১৯২৭ সালের ১৪ই জানুয়ারী তারিখে কমরেড সাপুরজী সাকলাৎওয়ালা বম্বে পৌঁছবেন জানতে পেরে তার
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments