সহপাঠীর সঙ্গে প্রেম, তারপর?
‘অন্তুকে খুঁজতে বারান্দার দিকে গেলাম, বেশ ঠান্ডা পড়ে গেছে এখন আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেসে। বেশিক্ষণ বাইরে থাকলে ওর জ¦র এসে যাবে। এখন মা হিসেবে রোজই ছেলের সাথে লুকোচুরি খেলতে হয়। দেখতে দেখতে বছরগুলো কীভাবে পার হয়ে গেল। আমার আর রাকিবের বিয়ের পাঁচ বছর হতে চলল। আমাদের পরিচয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেই। আমরা ছিলাম ক্লাসমেট। বুয়েট থেকে আমরা একসাথেই স্নাতক সম্পন্ন করি। বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা ও একই গ্রুপে থিসিস করতে গিয়ে আমাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। বন্ধু হিসেবে নানা সৃজনশীল কাজের সাথেও সে সময় যুক্ত হই। আমরা বুয়েটে পড়ার সময় বিভিন্ন প্রদর্শনী, বিজ্ঞানবিষয়ক পত্রিকাও প্রকাশ করেছি। ধীরে ধীরে আমি অনুভব করি যে রাকিব আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। তৃতীয় বর্ষে থাকতে ও প্রথম আমাকে ওর মনের কথা বলে। প্রথমে আমি খুব অবাক হয়ে যাই। কেননা আমি সব সময়ই মনে করেছি যে আমরা খুব ভালো বন্ধু। বুয়েটের পরীক্ষায় ও সব সময় প্রথম হতো ক্লাসে, আর আমি দ্বিতীয় বা তৃতীয়। আমাদের দুজনেরই ভবিষ্যতে পিএইচডি এবং এ বিষয়ে রিসার্চ করার স্বপ্ন। এসবই আমাদের বন্ধুত্বকে আরও গাঢ় করেছে। কিন্তু পরে কিসের আকর্ষণে দুজনই দুজনের আরও কাছাকাছি চলে গেলাম। মনে হলো আমরা দুজন দুজনকে সবচেয়ে ভালো করে বুঝি ও একে অপরের উপযুক্ত জীবনসঙ্গী।
‘আমাদের সমাজে প্রচলিত ধারণা, বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্র পাত্রীর চেয়ে বয়সে একটু বড় হবে। সে ক্ষেত্রে স্ত্রী-স্বামীর মধ্যে সম্পর্কে এক ধরনের নির্ভরশীলতাও কাজ করে। অনার্স শেষে মনে হচ্ছিল আমরা দুজনই এখন পিএইচডি করতে চাই। একই দেশে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া প্রায় অসম্ভব। এর মধ্যে বিয়ের মাধ্যমে নতুন জীবন শুরু করা কি আমাদের পক্ষে সম্ভব? দুজনই আমরা ছাত্র। আমাদের সংসার কীভাবে চলবে। পড়াশোনার খরচও আছে। তবে একপর্যায়ে এসব গুরুগম্ভীর বাস্তববাদী চিন্তাভাবনা বাদ দিয়ে আমাদের প্রেমেরই জয় হলো। আমার পরিবার থেকে সামান্য বাধা এলেও পরে তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হই, সেটা আমাদের সৌভাগ্য।
রাকিব আর আমার বিয়ের সময় দুজনই বেকার। অবশ্য এটা ভাগ্যই বলতে হবে যে, বিয়ের এক মাসের মধ্যে রাকিব একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিল। আমাদের চতুর্থ বর্ষে একসাথে করা থিসিস ও জিআরইর ভিত্তিতে আমাদের আমেরিকার দুই কাছাকাছি স্টেটের বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির সুযোগ হয়ে গেল। ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়ে চলেও গেলাম পড়তে। শেষ পর্যন্ত মাস্টার্স করে আমি রাকিবের বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারলাম পিএইচডির জন্য। একই স্টেটে পড়াশোনা ও একসাথে থাকা। এর আগে শুধূু উইকএন্ডেই আমাদের দেখা হতো। এ কারণে আমাদের সম্পর্ক আরও গাঢ় হতো।
পিএইচডি শেষ না হওয়ার আগেই আমাদের জীবনে প্রথম সন্তান অন্তু এল। এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। আমি বলব ক্লাসফ্রেন্ড থেকে প্রেমিক-প্রেমিকা এবং জীবনসঙ্গী হওয়া; আমার জীবনে সংসারকে সাজাতে জীবনযুদ্ধ অনেক বেশি করতে হয়েছে, তবু আমাদের বন্ধুত্ব সংসারের ভিত্তি মজবুত করতে অনেক সাহায্য করছে।’ এভাবেই বন্যা তার জীবনসংগ্রামের কথা বর্ণনা করছিলেন।
সহপাঠী যখন জীবনসঙ্গীতে পরিণত হয়, তখন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শুধু বন্ধুত্বই কাজ করে, বয়সের পার্থক্যের ভিত্তিতে শুধু স্বামীর প্রতি নির্ভরশীলতা আর সেখানে থাকে না। দুজন ক্লাসমেটের সম্পর্ক যখন প্রেমে রূপান্তরিত হয় এবং একই সাথে তাদের ক্যারিয়ার গড়ার প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হতে হয়, তখন তাদের প্রেমের সম্পর্কে কখনো কখনো ফাটলও ধরে। যেমনটি শুনছিলাম রুপার (ছদ্মনাম) কাছে। ‘আমি ও রাজু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে একই বর্ষের ছাত্র। দ্বিতীয় বর্ষ থেকেই আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অনার্স, মাস্টার্সের বছরগুলো আমার কাছে ছিল স্বপ্নের মতো। মাস্টার্স সম্পন্ন হলে বাড়ি থেকে আমার বিয়ের জন্য চাপ বাড়তে থাকে। কিন্তু আমি বা রাজু, কেউই চাকরি করি
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments