আমাদের মস্তিষ্ক কি নিজেরা নিজেদের খেয়ে ফেলে?
আমরা যত ধরনের কর্মকাণ্ড করি সারাজীবনে তার প্রায় সম্পূর্ণটাই নিয়ন্ত্রন করে আমাদের মস্তিষ্ক। আমাদের মস্তিষ্ক থেকে দেহে পাঠানো সংকেত এবং মস্তিষ্কে নতুন নতুন সংযোগ তৈরী ও বন্ধের মধ্যে দিয়ে এই পক্রিয়াগুলো সম্পন্ন হয়। পূর্বে ধারণা করা হত যে ছোটবেলা থেকে বড় হতে হতে আমাদের মস্তিষ্কের যা যা পরিবর্তন প্রয়োজন হতে থাকে এবং বড় হয়ে গেলে সেটি একটি স্থির অবস্থায় পৌছায় যাতে কোন পরিবর্তন সম্ভব নয়। কিন্তু এই ধারণাটি আসলে ভুল। বড় হয়ে গেলে আমাদের মস্তিষ্ক আরও পরিবর্তনশীল একটি অবস্থায় পৌছায়। তারচেয়েও বড় যেটি সেটি হল আমাদের মস্তিষ্ক সবসময়ই নিজেকে নিজেই খেতে থাকে! কথাটি ভাবলেও অবাক লাগে তবে মস্তিষ্কে সেটিই ঘটছে
ফ্যাগোসাইটোসিস একটি জৈবিক পক্রিয়া যাতে ফ্যাগোসাইট কোষগুলো অনান্য কোষ বা কোষকণিকাকে খেতে বা ভক্ষণ করতে পারে। ফ্যাগোসাইট এককোষী বা বহুকোষী হতে পারে । এককোষীর মধ্যে আছে অ্যামিবা এবং বহুকোষীর মধ্যে আছে শে^তরক্তকণিকা যা রোগজীবানু খেয়ে আমাদের দেহকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। আমাদের মস্তিষ্কে ফ্যাগোসাইটোসিসের প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ বেশি। সেখানে মস্কিষ্কের নিজেকে খাওয়া দাওয়ার পক্রিয়া ক্রমাগত চলছেই।
মস্তিষ্কে ফ্যাগোসাইটোসিসের পিছনে মূল কারিগর মাইক্রোগিলা। যেটি নিউরন এবং নিউরনের ভেতরকার সংযোগ গ্রন্থি তথা সিন্যাপ্সও খেয়ে ফেলতে পারে। বয়োসন্ধিকালে এটি ছোটবেলায় তৈরি বিভিন্ন নিউরণ সংযোগ খেয়ে ফেলে এবং যেসব সংযোগ কাজে লাগছিল না তাকে কর্মক্ষম করে মস্তিষ্ককে পূর্ণতা দিতে সাহায্য করে। মস্তিষ্কের মধ্যেকার জীবানু ও কোষের ধ্বংসাবশেষ খেয়ে সেটিকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। মাইক্রোগিলা কোন কোষটি খাবে এবং কোনটি নয় সেটি একটি সংকেতের মাধ্যমে নির্ধারন করে। যেসব কোষ থেকে ‘আমাকে খাও’ সংকেত নির্গত হতে থাকে সেসব কোষকে খায় এবং যেসব কোষ থেকে ‘খেও না’ সংকেত প্রকাশ হতে থাকে সেটিকে খায় না। মাইক্রোগিলার খুব কম খাওয়া বা বেশি খাওয়ার জন্য অটিসম বা সিজোফ্রেনিয়ার মত রোগ দেখা যায়। বয়সকালে ষাট বছরের পর আমাদের স্মৃতি শক্তি ও প্রত্যক্ষ বুদ্ধি কমতে থাকে ১% করে এর পেছনে কারণ মস্তিষ্কে সাদা পদার্থ ও সিন্যাপ্স কমে যাওয়া । সেটিতেও ভূমিকা রাখে এই মাইক্রোগিল ফ্যাগোসাইটোসিস পক্রিয়া।
আমাদের মস্তিষ্ক দেহের সবচেয়ে ব্যাস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সেখানে সর্বক্ষণ কাজ চলছেই। আমাদের সারাদিনে উৎপাদিত শক্তির প্রায় এক তৃতীয়াংশ খরচ হয় এই দেহের শক্তি জোগাড় করতে। মস্তিষ্কে নানা কাজের জন্য প্রতিমুহূর্তে অনেক আবর্জনা তথা কোষের ধ্বংশাবশেষ ও তৈরি হচ্ছে এবং সেগুলো পরিষ্কার করা জরুরি নতুবা মূল সংযোগগুলো কাজ করবে না অনেকটা আমাদের ঢাকা শহরে সিটি কর্পোরেশন নালা রাস্তা পরিষ্কারের কাজ বন্ধ করে দিলে যে দশা হবে ঈদের সময় অনেকটা হয়- সেরকম দশাই হবে। তাই ফ্যাগোসাইট আমাদের মস্তিষ্ককে পরিষ্কার রাখতে, নতুন নতুন নিউরাল কানেকশন তৈরী ও বন্ধ করতে, রোগজীবানু পরিষ্কার করতে নিজেকে খেতে থাকে যা আমাদের মস্তিষ্কের ক্ষতি না করে তাকে আরও কার্যকর করে তুলে। আমাদের মস্তিষ্ক সবসময় গতিশীল জীবন তাকে যা ছুড়ে দিচ্ছে তার পরিবর্তে প্রতিমুহূর্তে তাকে প্রতিক্রিয়া করতে হচ্ছে। মস্তিষ্কের এই চলমান পক্রিয়া স্থিতিশীল ভাবে বজায় রাখতে নিজেকে নিজে খাওয়ার পক্রিয়া সচল রাখা খুবই জরুরি। ফ্যাগোসাইট কোষগুলো আমরা যখন ঘুমিয়ে থাকি তখন কাজ করে । উত্তেজনা, মানসিক বা কাজের চাপে যখন আমরা ঘুমাতে পারিনা তখন এই পক্রিয়াটি বাধাগ্রস্থ হয়।
মস্কিষ্ক নিজেকে নিজে খায় -বড় হওয়ার জন্য তৈরী করতে, মধ্যবয়সে মস্তিষ্কের পরিপূর্ণ অবস্থা বজায় রাখতে ও দক্ষতা আরও বৃদ্ধির চেষ্টা করতে এবং বয়সের সাথে সাথে নিজেকে ধ্বংস করতে। সব ঠিক রেখে শেষ পক্রিয়াটি বন্ধ করার উপায় আমাদের জানতে হবে বৃদ্ধাবস্থায় মস্তিষ্ককে সমান কার্যকর রাখতে হলে। আমরা সারা জীবন শরীরের
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments