তাঁতী—পালোয়ান

এক ছিল তাঁতী। সারাদিন বসে কেবল তাঁত বুনেই যায়। শেষে একদিন বিরক্তি ধরে গেল তার তাঁত বোনায়, ঠিক করল দুনিয়া ঘুরতে বেরোবে। কাঁধে একটা থলি ফেলে পথে নামল সে।

যাচ্ছে তো যাচ্ছেই, হঠাৎ দেখে: মাঠের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে একটা কচ্ছপ।

‘সঙ্গে নিই এটাকে, হয়ত কাজে লাগবে।’ ভেবে তাঁতী সেটাকে থলিতে ভরে নিল।

তারপর আবার চলতে লাগল। চলতে চলতে খানিক দূরে দেখে পড়ে আছে একটা ঘোড়ার লেজ।

‘ভাল জিনিসটা তো, এটাও সঙ্গে নেব, হয়ত কাজে আসবে।’ বলে ঘোড়ার লেজটাও তাঁতী থলিতে ভরে নিল।

তারপর আবার চলতে চলতে এক জায়গায় দেখে পড়ে আছে ষাঁড়ের শিং।

‘বাঃ, বেশ জিনিসটা তো! এটাও সঙ্গে নেব, হয়ত কাজে লাগবে।’ শিংটাকে থলিতে ভরে নিল।

চলতে চলতে সে এসে পৌঁছাল এক বিশাল উঁচু দুর্গের কাছে, দুর্গের লোহার ফটকটা চল্লিশহাত উঁচু।

তাঁতী ফটকে ধাক্কা দিতে লাগল, কেউ সাড়া দেয় না।

আবার ধাক্কা দিল তাঁতী। তখন দুর্গের ভিতর থেকে শোনা গেল জোর একটা আওয়াজ, হেঁড়ে গলায় কে যেন বলল, ‘কার এমন সাহস যে ডাইনদের দুর্গের ফটকে ধাক্কা দেয়? কে তুই?’

তাঁতী তো তা শুনে কাঁপতে লাগল ভয়ে, মুখ দিয়ে কথা সরছে না।

ডাইনরা ওদিকে ভেবেছে কোন পালোয়ান এসেছে তাদের সঙ্গে লড়াই করার জন্য, তারা পরীক্ষা করতে চাইল কতখানি শক্তি ধরে ঐ পালোয়ান।

একজন ডাইন তাঁতীর দিকে ছুঁড়ে দিল নিজের মাথার একটা উকুণ যেটা আকারে একটা আরসোলার মত।

‘এটা দেখে তুই বুঝতে পারবি আমাদের ডাইনদের চেহারাটা কেমন! এবার তুই দেখা তো তো কত বড় চেহারা!’

তাঁতী কচ্ছপটা থলি থেকে বার করে নিয়ে ছুঁড়ে দিল দুর্গের পাঁচিল পেরিয়ে ভিতরে। ঘাবড়ে গেল ডাইনরা সেটা দেখে।

‘যদি ওর মাথার উকুনটা অত বড় তো ও নিজে কেমন!’ বলতে লাগল তারা।

অন্য এক ডাইন নিজের গোঁফের থেকে একটা চুল ছিঁড়ে নিয়ে ছুঁড়ে দিল তাঁতীর দিকে। সেটা একটা ছুঁচোর লেজের মত মোটা। তখন তাঁতী থলি থেকে ঘোড়ার লেজটা নিয়ে ছুঁড়ে দিল দুর্গের পাঁচিল পেরিয়ে ভিতরে। ঘোড়ার লেজটা দেখে ডাইনরা ভাবল যে সেটা সত্যিই ওটা পালোয়ানদের গোঁফ, ভারি ভয় পেয়ে গেল তারা।

‘এটা কোন এক দানবের গোঁফ!’ বলতে লাগল তারা। ‘ঠিক আছে, তৃতীয়বার পরীক্ষা করে দেখা যাক ওকে: ওর গলার স্বর কেমন শোনা যাক।’

সবচেয়ে বড় ডাইনটা প্রাণপণ শক্তিতে চিৎকার করে বলল: ‘ওহে পালোয়ান! তোমার গলাটাও শোনাও দেখি!’

সেই প্রচণ্ড চিৎকার শুনে তাঁতী প্রায় টলে পড়ে যাচ্ছিল আর গলাও বুঁজে গেল একেবারে। সে তখন থলি থেকে ষাঁড়ের শিংটা নিয়ে প্রাণপণ শক্তিতে ফুঁ দিল।

সে আওয়াজ গিয়ে পৌঁছল বহুদূর পর্যন্ত। দূর্গের ভিতরে ডাইনদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে গেল।

‘ঐ পালোয়ান মেরে ফেলবে আমাদের!’ বলে চিৎকার করতে করতে তারা যে যেদিকে পারল দৌড় দিল।

আরও অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুনল তাঁতী, দুর্গের ভিতর থেকে কোন আওয়াজ আসছে না। ফটকে ধাক্কা দিল সে, খুলে গেল ফটকটা, তাঁতী দুর্গে ঢুকল। দুর্গের ভিতরের একটা বন্ধ ঘরে সে দেখল একটি মেয়েকে, তার মত অমন সুন্দরী মেয়ে সে দেখে নি আর কখনও।

‘কে তুমি বীর? তোমার ভয়ে এমনকি ডাইনরাও পালাল!’ অবাক হয়ে বলল মেয়েটি। তাঁতীকে বলল সে যে তাকে ডাইনরা তার বাড়ি থেকে লুঠ করে নিয়ে এসেছে।

মেয়েটিকে মুক্ত করে নিয়ে তাঁতী তাকে নিয়ে চলল তার বাবামার কাছে।

তখনি গ্রামের সবাই জানল যে এক প্রখ্যাত বিজেতা, বীর এসেছে, সবাই তার কাছে এসে সাহায্য চাইতে লাগল।

সেই গ্রামে আসতে আরম্ভ করেছে এক বিশাল ভালুক।

‘তুমিই কেবল ওটাকে কাবু

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice