- প্রক্রিয়াধীন
- ১৯৯০
- ২০৪
তাঁতী—পালোয়ান
এক ছিল তাঁতী। সারাদিন বসে কেবল তাঁত বুনেই যায়। শেষে একদিন বিরক্তি ধরে গেল তার তাঁত বোনায়, ঠিক করল দুনিয়া ঘুরতে বেরোবে। কাঁধে একটা থলি ফেলে পথে নামল সে।
যাচ্ছে তো যাচ্ছেই, হঠাৎ দেখে: মাঠের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে একটা কচ্ছপ।
‘সঙ্গে নিই এটাকে, হয়ত কাজে লাগবে।’ ভেবে তাঁতী সেটাকে থলিতে ভরে নিল।
তারপর আবার চলতে লাগল। চলতে চলতে খানিক দূরে দেখে পড়ে আছে একটা ঘোড়ার লেজ।
‘ভাল জিনিসটা তো, এটাও সঙ্গে নেব, হয়ত কাজে আসবে।’ বলে ঘোড়ার লেজটাও তাঁতী থলিতে ভরে নিল।
তারপর আবার চলতে চলতে এক জায়গায় দেখে পড়ে আছে ষাঁড়ের শিং।
‘বাঃ, বেশ জিনিসটা তো! এটাও সঙ্গে নেব, হয়ত কাজে লাগবে।’ শিংটাকে থলিতে ভরে নিল।
চলতে চলতে সে এসে পৌঁছাল এক বিশাল উঁচু দুর্গের কাছে, দুর্গের লোহার ফটকটা চল্লিশহাত উঁচু।
তাঁতী ফটকে ধাক্কা দিতে লাগল, কেউ সাড়া দেয় না।
আবার ধাক্কা দিল তাঁতী। তখন দুর্গের ভিতর থেকে শোনা গেল জোর একটা আওয়াজ, হেঁড়ে গলায় কে যেন বলল, ‘কার এমন সাহস যে ডাইনদের দুর্গের ফটকে ধাক্কা দেয়? কে তুই?’
তাঁতী তো তা শুনে কাঁপতে লাগল ভয়ে, মুখ দিয়ে কথা সরছে না।
ডাইনরা ওদিকে ভেবেছে কোন পালোয়ান এসেছে তাদের সঙ্গে লড়াই করার জন্য, তারা পরীক্ষা করতে চাইল কতখানি শক্তি ধরে ঐ পালোয়ান।
একজন ডাইন তাঁতীর দিকে ছুঁড়ে দিল নিজের মাথার একটা উকুণ যেটা আকারে একটা আরসোলার মত।
‘এটা দেখে তুই বুঝতে পারবি আমাদের ডাইনদের চেহারাটা কেমন! এবার তুই দেখা তো তো কত বড় চেহারা!’
তাঁতী কচ্ছপটা থলি থেকে বার করে নিয়ে ছুঁড়ে দিল দুর্গের পাঁচিল পেরিয়ে ভিতরে। ঘাবড়ে গেল ডাইনরা সেটা দেখে।
‘যদি ওর মাথার উকুনটা অত বড় তো ও নিজে কেমন!’ বলতে লাগল তারা।
অন্য এক ডাইন নিজের গোঁফের থেকে একটা চুল ছিঁড়ে নিয়ে ছুঁড়ে দিল তাঁতীর দিকে। সেটা একটা ছুঁচোর লেজের মত মোটা। তখন তাঁতী থলি থেকে ঘোড়ার লেজটা নিয়ে ছুঁড়ে দিল দুর্গের পাঁচিল পেরিয়ে ভিতরে। ঘোড়ার লেজটা দেখে ডাইনরা ভাবল যে সেটা সত্যিই ওটা পালোয়ানদের গোঁফ, ভারি ভয় পেয়ে গেল তারা।
‘এটা কোন এক দানবের গোঁফ!’ বলতে লাগল তারা। ‘ঠিক আছে, তৃতীয়বার পরীক্ষা করে দেখা যাক ওকে: ওর গলার স্বর কেমন শোনা যাক।’
সবচেয়ে বড় ডাইনটা প্রাণপণ শক্তিতে চিৎকার করে বলল: ‘ওহে পালোয়ান! তোমার গলাটাও শোনাও দেখি!’
সেই প্রচণ্ড চিৎকার শুনে তাঁতী প্রায় টলে পড়ে যাচ্ছিল আর গলাও বুঁজে গেল একেবারে। সে তখন থলি থেকে ষাঁড়ের শিংটা নিয়ে প্রাণপণ শক্তিতে ফুঁ দিল।
সে আওয়াজ গিয়ে পৌঁছল বহুদূর পর্যন্ত। দূর্গের ভিতরে ডাইনদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে গেল।
‘ঐ পালোয়ান মেরে ফেলবে আমাদের!’ বলে চিৎকার করতে করতে তারা যে যেদিকে পারল দৌড় দিল।
আরও অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুনল তাঁতী, দুর্গের ভিতর থেকে কোন আওয়াজ আসছে না। ফটকে ধাক্কা দিল সে, খুলে গেল ফটকটা, তাঁতী দুর্গে ঢুকল। দুর্গের ভিতরের একটা বন্ধ ঘরে সে দেখল একটি মেয়েকে, তার মত অমন সুন্দরী মেয়ে সে দেখে নি আর কখনও।
‘কে তুমি বীর? তোমার ভয়ে এমনকি ডাইনরাও পালাল!’ অবাক হয়ে বলল মেয়েটি। তাঁতীকে বলল সে যে তাকে ডাইনরা তার বাড়ি থেকে লুঠ করে নিয়ে এসেছে।
মেয়েটিকে মুক্ত করে নিয়ে তাঁতী তাকে নিয়ে চলল তার বাবামার কাছে।
তখনি গ্রামের সবাই জানল যে এক প্রখ্যাত বিজেতা, বীর এসেছে, সবাই তার কাছে এসে সাহায্য চাইতে লাগল।
সেই গ্রামে আসতে আরম্ভ করেছে এক বিশাল ভালুক।
‘তুমিই কেবল ওটাকে কাবু
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
প্রক্রিয়াধীন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments