দ্য জাকার্তা মেথড : পুঁজিবাদের অপরাধসমূহ
দ্য জাকার্তা মেথড: ওয়াশিংটন’স অ্যান্টি-কমিউনিস্ট ক্রুসেড অ্যান্ড দ্য মাস মার্ডার প্রোগ্রাম দ্যাট শেপড আওয়ার ওয়ার্ল্ড (The Jakarta Method: Washington's Anticommunist Crusade and the Mass Murder Program that Shaped Our World)
লেখক: ভিনসেন্ট বেভিনস (Vincent Bevins)
প্রকাশক: পাবলিক অ্যাফেয়ার্স (PublicAffairs)
প্রকাশকাল: মে ২০২০

নিজেকে সমাজতন্ত্রী বলে পরিচয় দেওয়া যে কাউকে জীবনের কোনো না কোনো সময় একটি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। প্রশ্নটি হলো, ‘সমাজতন্ত্রের নামে এ পর্যন্ত কত মানুষের প্রাণ গেছে?’ উত্তরে তারা একথা বলতে পারেন যে সোভিয়েত ধাঁচের রাষ্ট্রীয় সমাজতন্ত্রের সঙ্গে জেরেমি করবিনের মতো হাল আমলের রাজনীতিবিদদের উপস্থাপিত গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের পার্থক্য প্রায় ঠিক ততটাই, যতটা পার্থক্য রয়েছে প্রায় দেখতে একই রকম মনে হওয়া চীনের রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদ এবং পশ্চিমা বিশ্বে প্রচলিত মুক্তবাজার-নির্ভর পুঁজিবাদের মধ্যে। কিন্তু তারা একটি বিষয় নিয়ে কথা বলতে ভুলে যান। সেটি হলো, পুঁজিবাদের নামে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্যটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহু রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত; যেগুলোর নৃশংসতা ও ব্যাপ্তি স্টালিনের শুদ্ধি অভিযানে নিহত মানুষের সংখ্যাকে অনায়াসেই ছাড়িয়ে যায়।

ভিনসেন্ট বেভিন্স তাঁর নতুন বইদ্য জাকার্তা মেথড-এ ঠান্ডাযুদ্ধ চলাকালে শুধুমাত্র মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির কারণে কত মানুষ মারা গেছে তার একটা হিসেব তুলে ধরেছেন। বইটির মূল আলোচ্য বিষয় ১৯৬৫-১৯৬৬ সালে চলাকমিউনিস্ট বিরোধী সেই গণহত্যা, যা পরিচালিত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের মদদপুষ্ট স্বৈরশাসক সুহার্তোর নেতৃত্বে। সুহার্তো তার পূর্বসূরি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ও উন্নয়নমুখী নেতা সুকর্নো-কে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেন।

অনেকেই দ্য অ্যাক্ট অব কিলিং-এর মতো চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার গণহত্যার কথা শুনে থাকবেন, কিন্তু খুব কম মানুষই সেই হত্যাযজ্ঞের পেছনের প্রকৃত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানেন। আর তার চেয়েও কম মানুষ এই গণহত্যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কতটা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল সে বিষয়ে সচেতন। চমৎকার লেখনি, সেইসব হত্যাকান্ড থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া ভুক্তভোগীদের সাক্ষাৎকার ও বিস্তারিত ঐতিহাসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে বেভিন্স তুলে ধরেছেন ষাটের দশকের মাঝামাঝি ইন্দোনেশিয়া জুড়ে ঘটে যাওয়া নৃশংসতা এখনও কীভাবে দেশটিকে তাড়িয়ে ফেরে।

তৎকালীন ডাচ ঔপনিবেশ শাসনের প্রবল প্রতিরোধ সত্ত্বেও নিজের অনন্য নেতৃত্বের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়াকে উপনিবেশবাদ থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন সুকর্ণ। বেভিন্স বর্ণনা করেছেন, সুকর্ণ কীভাবে সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রেখে দেশ পরিচালনা করতেন; ইসলামপন্থী, কমিউনিস্ট ও সেনাবাহিনী—সবারই কিছু না কিছু কর্তৃত্ব সরকারে ছিল। ইন্দোনেশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি (পিকেআই) বিপুল সংখ্যক সদস্য সংগ্রহে সক্ষম হয়েছিল এবং সোভিয়েত রাশিয়া ও মাওবাদী চীনের পর বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম কমিউনিস্ট পার্টিতে পরিণত হয়েছিল।

বেভিন্সের যুক্তি দেখিছেছেন যে সুকর্ণ কখনোই কমিউনিস্ট ছিলেন না—বরং তিনি ছিলেন বাস্তববাদী। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল ক্ষমতা ধরে রেখে ইন্দোনেশিয়ার অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা, জনগণের জীবনমান উন্নত করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রভাব সুদৃঢ় করা। এই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যগুলোর কারণেই তিনি বহু ক্ষেত্রে ইন্দোনেশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি (পিকেআই)-র মতো সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ করতেন। পিকেআইকে লেনিনবাদী দল নয়, বরং বৃহৎ জনভিত্তিক একটি বামপন্থী জাতীয়তাবাদী দল ছিল।

কোয়ামেঙ ক্রুমাহ বেশ জোর দিয়ে বলেছেন যে, পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থার কেন্দ্রে থাকা রাষ্ট্রগুলোর উদ্যোগে পরিচালিত নব্যঔপনিবেশিক শক্তির মাধ্যমেই মূলত ইন্দোনেশিয়াসহ অনেক দেশকে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দুর্বল অবস্থানে রাখা হয়েছিল। উপনিবেশ-পরবর্তী যুগের শুরুতে এসব রাষ্ট্রগুলো একত্রে কাজ উদ্যোগী হয়। সেই উদ্যোগ থেকেই জন্ম নেয় নন-অ্যালাইন্ড মুভমেন্ট (NAM)-এর মতো জোটের। ১৯৫৫ সালে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত বান্দুং সম্মেলনেই নন-অ্যালাইন্ড মুভমেন্ট জোটের ভিত্তি রচিত হয়েছিল। এ সম্মেলনেই অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রগুলো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক পরিচালনার জন্য দশ দফা নীতি প্রণয়নে সম্মত হয়েছিল।

এদিকে চলমান ঠান্ডাযুদ্ধ যত তীব্র হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাককার্থিজমও ততই বাড়ছিল। তখন তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সংহতি বা সমর্থনের যে কোনো কর্মকাণ্ডই উগ্র

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice