জার্মানী

মধ্য ইউরোপের দেশ জার্মানীতে অনেকদিন পর্যন্ত রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ছিলনা, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ট্রাইবে বিভক্ত জনগোষ্ঠী প্রাচীন গোষ্ঠীবদ্ধ জীবনের রীতিনীতিতে বসবাস করতো। বিদেশী আক্রমণ বিশেষত রোমান সাম্রাজ্যের আক্রমণ তাদেরকে সংঘবদ্ধ হতে বাধ্য করে। খ্রীষ্টজন্মের সমসাময়িক কাল থেকে রোমান, হুনসহ বিভিন্ন বাইরের শক্তির সাথে জার্মান ট্রাইবগুলোর লড়াই পরিচালনার বিবরণ পাওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ জার্মান সাম্রাজ্য গড়ে ওঠে রাজা হেনরীর সময়ে (৯১৯-১৩৬)। সাম্রাজ্যের অধিকার নিয়ে ত্রয়োদশ শতকে সামন্ত অধিপতিদের মধ্যে সংঘাত শুরু হলে সাম্রাজ্যের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে।

বুর্জোয়া বিপ্লব

ষোড়শ শতকের প্রথম দিকে জার্মানীতে সংস্কার আন্দোলন শুরু হয় এবং কৃষকদের লড়াই শুরুর লক্ষণ পরিস্ফুট হয়ে ওঠে। রোমান ক্যাথলিক চার্চের আরোপিত কঠোর বিধিমালা ও সামন্তদের মধ্যযুগীয় বর্বরতার বিরুদ্ধে জনমত সংগঠিত হতে থাকে এই সময়ে। ব্যাপক কৃষক সমাজও শোষিত নির্যাতিত হতে হতে শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। ১৫১৭ সাল থেকে কৃষকদের বিদ্রোহ শুরু হয় স্থানে স্থানে, সাত বছরের মধ্যে তা ব্যাপক আকার ধারণ করে। দুই বছর পর্যন্ত বিশাল কৃষক অভ্যুত্থান গোটা জার্মানীকে কাঁপিয়ে দেয়। এই বিদ্রোহের নেতা টমাস মন্তজার বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে বদ্ধপরিকর ছিলেন। এই সময়েই শুরু হয়েছিল ইতিহাসের বিখ্যাত ৩০ বছরের যুদ্ধ (১৬১৮-১৬৪৮)। ধর্মীয় সংস্কার নিয়ে সংঘটিত এই যুদ্ধের ফলে জার্মান সাম্রাজ্যের ভগ্নদশা উপস্থিত হয়। একক জার্মান রাজত্বের মূলে ৩৬০টি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যের উদ্ভব ঘটে এবার জার্মানীতে। এর মধ্যে শক্তিশালী হয়ে ওঠে পার্সিয়া, সেখানে কায়েম হয় সামরিকতন্ত্র।

এই সময়ে ইউরোপে বুর্জোয়াদের উত্থান শুরু হয়ে যায় এবং ফ্রান্সের বুর্জোয়া বিপ্লব (১৭৮১-১৭৯৫) সারা ইউরোপকে নাড়া দিয়ে যায়। তার প্রভাব পড়ে জার্মানীতেও। ১৭৯৩ সালে জার্মান রাজ্য মেইনজে প্রথম বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। অন্যান্য জার্মান রাজ্যেও বুর্জোয়ারা প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে। নেপোলিয়নের আগ্রাসী তৎপরতার ফলে জার্মানবাসীর মুখে আবার ঐক্যবদ্ধ জার্মান রাষ্ট্র গঠনের দাবি উচ্চারিত হয়।

১৮৪৮-৪৯ সালে জার্মানীতে ঘটে বুর্জোয়া বিপ্লব। জাতীয়তাবাদের প্রবল স্রোতধারায় ১৮৭১ সালে গঠিত হয় জার্মানদের জাতীয় রাষ্ট্র যাতে বুর্জোয়া বিকাশ নিশ্চিত হয়।

শ্রমজীবী মানুষের সংগঠন

বুর্জোয়া বিপ্লবের ফলে জার্মানীতে শিল্প কারখানা গড়ে উঠতে থাকে প্রচুর পরিমাণে। সাথে সাথে সৃষ্টি হয় শ্রমিক শ্রেণী। শ্রমিক শ্রেণী সৃষ্টির পর থেকে সঙ্গত কারণেই গড়ে উঠতে থাকে শ্রমিক শ্রেণীর সংগঠন।

শ্রমিক শ্রেণীর বৈজ্ঞানিক রাজনীতির তাত্ত্বিক কার্ল মার্কস ও ফ্রেডারিক এঙ্গেলস্ এই সময়ে জার্মান ও বিশ্বের শ্রমিক শ্রেণীর সংগঠন—কমিউনিস্ট লীগ গঠন করেন (১৮৪৭) এবং কমিউনিস্ট ইশতেহার রচনা করেন (১৮৪৮)। জার্মানীর সর্বহারারা বুর্জোয়াদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হলেও বুর্জোয়া বিপ্লবের সময় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেনি। সামন্তবাদী কায়েমী স্বার্থের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রী বুর্জোয়া ও কৃষকের সংগ্রামের সাথে শ্রমিকরাও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে আসে এবং অভিজাতদের হটিয়ে গণতান্ত্রিক জার্মানী প্রতিষ্ঠা করতে সংগ্রাম শুরু করে। কিন্তু বুর্জোয়ারা শেষ পর্যন্ত অভিজাতদের সাথে আপস করে এবং অভিজাতদের প্রাধান্য স্বীকার করে নেয়। অভিজাতরাও বুর্জোয়া বিকাশ ও শিল্পায়ন প্রক্রিয়ার অগ্রযাত্রা মেনে নেয়। অভিজাত ও বুর্জোয়াদের স্বার্থের মিলনের সংহত রূপ লক্ষ্য করা যায় প্যারি কমিউন দমনের সময়ে। ১৮৭১ সালে বিশ্বের প্রথম শ্রমিক রাজ—প্যারিস শহরের শ্রমিক রাজকে হটানোর জন্য ফ্রান্সের বুর্জোয়া বাহিনীর সাহায্যে এগিয়ে গেল জার্মান বাহিনী।

১৮৬৯ সালে জার্মান শ্রমিকদের সংগঠন হিসেবে গঠিত হয় সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক ওয়ার্কার্স পার্টি। ইতিমধ্যে ফার্ডিন্যান্ড লাসায়েল গঠন করেন আরও একটি শ্রমিক সংগঠন: জেনারেল জার্মান ওয়ার্কার্স এ্যাসোসিয়েশন। ১৮৭৫ সালে মার্কস ও এঙ্গেলসের সক্রিয় সহযোগিতায় উভয় সংগঠন মিলে গঠিত হয় জার্মান শ্রমিকদের বৃহত্তর গণভিত্তিক সংগঠন সোশ্যালিস্ট ওয়ার্কার্স পার্টি অব জার্মানী। জন্মের পর অল্প সময়ের মধ্যেই শ্রমিকদের এই সংগঠন দ্রুত বিস্তৃতি লাভ করতে থাকে।

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice