ভূমিকা: সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব দেশে দেশে

ভূমিকা: সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব দেশে দেশে

নিতাই দাস

তিন হাজার আটশ বছর আগের কথা। নীল নদের তীরে পরাক্রমশালী ফারাও সাম্রাজ্যে শোষণ আর গণদারিদ্রের বিরুদ্ধে কৃষক, কারিগর ও দাসরা ব্যাপকভাবে অভ্যুত্থান শুরু করে। খ্রীষ্টপূর্ব আঠারশ শতাব্দীতে মিশরের ব্যাপক সংখ্যক মানুষ বিদ্রোহের ঝাণ্ডা উড়িয়ে সারাদেশে দাস মালিক-ভূস্বামীদের বাড়িঘর, ধন সম্পদ দখল করে রাজধানী অভিমুখে ধাবিত হয়। মধ্য ফারাও সাম্রাজ্যের সম্রাট ভয়ে দেশত্যাগ করে, সাথে সাথে অভিজাত ভূ-স্বামীরাও সম্রাটের পদাঙক অনুসরণ করে। বিক্ষুব্ধ কৃষক জনতা খাদ্য ও ধনসম্পদ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। কর আদায়ের দলিলপত্র পুড়িয়ে ফেলে, মন্দির, কোষাগার আর পিরামিডের সকল সম্পদ নিয়ে আসে নিজেদের অধিকারে। কিন্তু এই সফল অভ্যুত্থানের পরও কৃষক জনতা নিজেদের অনুকূলে কোন শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়। বরং দেশের এই সংগ্রামমুখর মুহূর্তে এশিয়ার হিকসস যাযাবর গোষ্ঠী উড়ে এসে জুড়ে বসে মিশরের সিংহাসনে। এর দেড়শ বছর পর ফারাও বংশীয়রা আবার মিশর দখল করে শক্ত সামরিকতন্ত্র কায়েম করে।

প্রাচীনকালে এই ধরনের অসংখ্য বিদ্রোহের ঝাণ্ডা উড্ডীন হয়েছিল পৃথিবীর দেশে দেশে, কিন্তু সেগুলোর মধ্যে গুটিকয়েকের সাক্ষাৎই পাওয়া যায় ইতিহাসে। খ্রীষ্টপূর্ব ৮৪২ সালে চীন দেশে ঘটেছিল অনুরূপ বিদ্রোহ, কিন্তু সে বিদ্রোহেও এক রাজার বদলে অন্য রাজা ক্ষমতা দখল করেছিল। গ্রীস দেশেও ঋণদাসত্ব বাতিল, রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, ব্যক্তি স্বাধীনতা ও জমির দাবিতে খ্রীষ্টপূর্ব ৬ষ্ঠ-৭ম শতকে গড়ে উঠেছিল তীব্র কৃষক বিদ্রোহ।

দীর্ঘ দিনের চালু প্রাচীন সমঅধিকারের সমাজ ভেঙ্গে শ্রেণীবিভক্ত শোষণের সমাজ প্রতিষ্ঠার পর শোষিত-নির্যাতিত মানুষের সবচেয়ে বড় অভ্যুত্থান ঘটে রোম সাম্রাজ্যে খ্রীষ্টের জন্মের আগের শতাব্দীতে। অজস্র ক্রীতদাসের শ্রমের উপর গড়ে ওঠা ঐ সাম্রাজ্যের ব্যাপক সংখ্যক দাস বিদ্রোহ করেন স্পার্টাকাসের নেতৃত্বে। বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ ধরে দেশ-দেশান্তর থেকে আনীত দাসরা নির্যাতিত নিষ্পেষিত হতে হতে শেষ পর্যন্ত রোম সাম্রাজ্যের কাপুয়া শহরে মল্লযোদ্ধা ক্রীতদাসরা বিদ্রোহের ঝাণ্ডা উড়িয়ে ভিসুভিয়াস পর্বতে শিবির স্থাপন করেন। সাথে সাথে সমগ্র ইটালীতে জ্বলে ওঠে বিদ্রোহের আগুন। হাজার হাজার ক্রীতদাস দলে দলে যোগ দেয় বিদ্রোহী বাহিনীতে। রাজধানী আক্রমণ করা নিয়ে মতভেদ দেখা দিলে বিদ্রোহী শিবিরে ভাঙ্গন দেখা দেয়। বিদ্রোহের মূল নেতা স্পার্টাকাস চেয়েছিলেন ইটালী ছেড়ে বিভিন্ন দেশে দাসদের পৌঁছে দেয়ার নীতি কার্যকর করতে। তাই তিনি মূল বাহিনী নিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণে চলে যান। কিন্তু সাগর পাড়ি দেয়ার উপযুক্ত যান না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত রাজকীর বাহিনীর সাথে দাস বিদ্রোহীদের যুদ্ধে লিপ্ত হতে হয়। খ্রীষ্টপূর্ব ৭১ অব্দে দাস বাহিনী পরাজিত হয়। হাজার হাজার ক্রীতদাসকে রাস্তার দু’পাশে ত্রুশ বিদ্ধ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

তারপরও অনেকদিন পর্যন্ত দাস প্রথা পৃথিবীতে টিকে ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি টিকে থাকতে পেরেছিল এই জঘন্য ব্যবস্থা? না। দাস বিদ্রোহের অব্যাহত অগ্রযাত্রায় দাস সাম্রাজ্য ভেঙ্গে পড়ে, সাথে সাথে ভেঙ্গে পড়ে এই বর্বর সমাজ। তার স্থলে দেখা দিল নতুন গ্রামীণ সমাজ—জমিদার আর ভূমিদাসের নতুন সামাজিক ব্যবস্থা—সামন্ত যুগ। দাসরা নামমাত্র স্বাধীনতা পেয়ে ভূমিদাসের জীবনে প্রতিষ্ঠিত হলেও জমিদারের শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে আবার বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠল এই নতুন সামাজিক ব্যবস্থায়।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশ সহ দুনিয়ার দেশে দেশে জমিদার আর রাজার বিরুদ্ধে কৃষক বিদ্রোহের কথা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ আছে। ফ্রান্সে ১৩৫৮ সালে ইংল্যাণ্ডের সাথে যুদ্ধের ফলে অতিরিক্ত করারোপ আর সামন্তদের শোষণের বিরুদ্ধে কৃষক জনতা বিদ্রোহ করে দূর্গ ধ্বংস করে এবং আগুনে জ্বালিয়ে সকল শোষণের চিহ্ন ছাড়খার করে দিতে উদ্যোগী হয়। দুই সপ্তাহ স্থায়ী বিদ্রোহ শেষ পর্যন্ত সামন্ত অধিপতিরা রক্ত বন্যায় দমন করতে সক্ষম হয়। ১৩৮১ সালে বিদ্রোহ ঘটে ইংল্যান্ডে। বিদ্রোহী কৃষক বাহিনী রাজপ্রাসাদ ঘেরাও করলে রাজা

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion