কাদিরের নসীব
দুই ভাই ছিল। বড় ভাই বুদ্ধিমান, কর্মঠ আর ছোট ভাই ছিল নির্বুদ্ধি, অলস আর হিংসটে। নাম তার কাদির। তাকে নিয়েই এই গল্প।
কাদির একদিন তার ভাইয়ের কাছে এসে আক্ষেপ করে বলল: ‘কেন এমন হয় বল দেখি, ভাই! তুমি আর আমি এক বংশের ছেলে, মায়ের পেটের ভাই। কিন্তু ভাগ্য আমাদের বিভিন্ন। তোমার সবকিছুতেই সাফল্য আর আমার সবেতেই ব্যর্থতা। তোমার ভেড়াগুলো মোটা হচ্ছে, বাচ্চা দিচ্ছে, আর আমারগুলো পটাপট মরছে; তোমার ঘোড়া দৌড়ে প্রথম হল আর আমারটা মাঝপথে আমাকে ছুঁড়ে ফেলে দিল; তোমার ঘরে মাংস আর কুমিস[☆]সদাই মজুত, আর আমার ঘরে বিস্বাদ সুপ তাও পেটভরা নেই; তোমার আছে স্নেহময়ী স্ত্রী, আর আমার দিকে কোন মেয়েই ফিরে তাকায়, না; তোমাকে বৃদ্ধরাও সম্মান করে আর আমাকে ছোট ছেলেরাও গালিগালাজ করে…’
বড় ভাই মৃদু হেসে উত্তর দিল: ‘আমার নসীবই আমাকে সাহায্য করে নিশ্চয়ই।’
‘নসীব আমাকে সাহায্য করে না কেন?’
‘প্রত্যেকেরই নিজের নিজের নসীব আছে রে ভাই। আমার নসীব খাটাখাটনি করতে ভালবাসে আর তোরটা কোথায় কোন গাছতলায় পড়ে ঘুমোচ্ছে।’
‘আচ্ছা, নসীবটাকে খুঁজে বার করে আমার জন্য খাটাখাটনি করতে বাধ্য করব।’ ভাবল কাদির।
সেইদিনই সে নসীবের সন্ধানে পথে বেরিয়ে পড়ল।
চলতে চলতে সে অনেকদূরে এসে পৌঁছল। হঠাৎ একটা পাথরের আড়াল থেকে লাফ দিয়ে বেরিয়ে এল একটা সিংহ, তার কেশর ফুলে উঠেছে; কাদিরের পথ আটকে দাঁড়িয়ে সে অপেক্ষা করতে লাগল। ভয় পেয়ে গেল কাদির, পালিয়ে যাবার কোন জায়গা নেই—চারপাশে ন্যাড়া স্তেপভূমি। কি হবে?
সিংহটা বলল: ‘কে তুই?’
‘আমি কাদির।’
‘কোথায় যাচ্ছিস?’
‘নিজের নসীবকে খুঁজতে যাচ্ছি।’
‘তাহলে শোন, কাদির’, বলল সিংহ, ‘যখন নসীবকে খুঁজে পাবি, তাকে জিজ্ঞাসা করবি, কি করলে আমার বেদনাটা কমবে। কোন লতাপাতায় আর কাজ হচ্ছে না। ভীষণ কষ্ট পাচ্ছি। যদি তুই কথা দিস যে এ কাজটা করবি তাহলে তোকে ছেড়ে দেব আর তা নাহলে ছিঁড়ে খাব তোকে এখনই।’
কাদির সিংহকে কথা দিল তার জন্য নিয়ে আসবে ওষুধ বা জেনে আসবে কি খেলে কাজ হবে, সিংহটা তার পথ ছেড়ে দিল।
এগিয়ে চলল কাদির, দেখে: রোদের তাপে জ্বলে যাওয়া মাঠের মধ্যে বসে কাঁদছে এক বুড়ো, এক বুড়ী আর অপূর্ব সুন্দরী এক মেয়ে, এমন দুঃখের সে কান্না, যেন তাদের কোন আত্মীয়বিয়োগ হয়েছে।
কাদির থেমে জিজ্ঞাসা করল: ‘ওহে, তোমরা কাঁদছ কেন?’
‘আমাদের বড় দুঃখ,’ বলল বুড়ো, ‘তিন বছর আগে আমি এই জমিটা কিনি, এর দাম মেটাতে আমার যা কিছু ছিল সব দিয়ে দিয়েছি। সর্বশক্তি দিয়ে এই জমি চাষ করি আমরা, মা যেমন তার শিশুর যতন করে তেমনই আমরা এই শস্যের যতন করি। কিন্তু এখনও একবারও আমরা ফসল তুলতে পারি নি। চারাগাছগুলো হু হু করে বেড়ে ওঠে, বসন্তকালে সমস্ত জমিটা সবুজে হয়ে যায়। প্রচুর শস্য পাবার আশায় মন ভরে ওঠে কিন্তু গ্রীষ্মের মাঝামাঝি গাছে যত জলই দেওয়া হোক না কেন সেগুলি শুকিয়ে যায় আর একেবারে শিকড় পর্যন্ত জ্বলে যায়। এর কারণ কি কেউ বলতে পারে না। আমাদের নসীবে সুখ নেই গো ভালমানুষের ছেলে, মারা পড়ব আমরা।’
কাদির বলল: ‘আমারও নসীবটা কোথায় কোন গাছের তলায় পড়ে ঘুমোচ্ছে। তাকেই আমি খুঁজতে যাচ্ছি।’
তখন বুড়ো কাদিরকে অনুরোধ করতে লাগল: ‘খোদা তোমার মঙ্গল করুন বাছা, সফল হও তুমি, যদি নসীবকে খুঁজে পাও তাহলে তাকে জিজ্ঞাসা কোরো সে বলতে পারে নাকি আমাদের গাছগুলো মরে যায় কেন। তোমার কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকব আমরা।’
কাদির তাকে কথা দিল যে উত্তর জেনে এই পথেই সে ফিরবে। তারপর আবার রওনা
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
পড়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কিছু
বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর আর্কাইভ
পুরনোর সঙ্গে থাকছে নতুন লেখাও
যোগাযোগ করতে
প্রক্রিয়াধীন
সাহিত্যজগতে অনন্য প্রতিভা। সবসময়ই নিজের লেখা দিয়ে পাঠকের মন ছুঁয়েছেন, ভাবনা জাগিয়েছেন ভিন্নতার। মফস্বলে বেড়ে ওঠা। নিত্য দিনের জীবন থেকেই লেখার অনুপ্রেরণা খুঁজে নিয়েছেন। প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন হলেও তাঁর হৃদয়গ্রাহী বর্নণার মাধ্যমে জীবন, প্রকৃতির জীবন্ত এক চিত্রই পাঠকের সামনে হাজির করেন।
-
বাংলাদেশ ছিল নদীমাতৃক। নদী ছিল বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কিন্তু আজ যে-টুকু বাংলা আমাদের, সে বাংলা তেমন নদীবহুল নয়। যে-অংশ নদীবহুল এবং নদীর খেয়ালখুশীর সঙ্গে যে অংশের মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে বাঁধা সে অংশ আজ আমাদের কাছে বিদেশ। অদৃষ্টের এ পরিহাস রবীন্দ্রনাথের কাছে ভয়ানক দুঃখের কারণ হত।
প্রকৃতি রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্ট করেছিল। সেদিক থেকে তিনি ওয়ার্ডসওয়ার্থের সগোত্র ছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির বিভিন্ন প্রকাশের মধ্যে নদী কবিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী মুগ্ধ ক’রেছিল। তাই কবি নদীর কাছে সময়ে অসময়ে ছুটে গেছেন। তাই তিনি নদীর বুকে নৌকাতে ভাসতে এত ভালবাসতেন। নদীর তরুণীসুলভ চাপল্য এবং গতি কবির চিরতরুণমনে গভীর দাগ কেটেছিল। তাছাড়া সংসারের কোলাহল থেকে মুক্তি
-
তপুকে আবার ফিরে পাব, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনোদিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে। ভাবতে অবাক লাগে, চারবছর আগে যাকে হাইকোর্টের মোড়ে শেষবারের মতো দেখেছিলাম, যাকে জীবনে আর দেখব বলে স্বপ্নেও কল্পনা করিনি- সেই তপু ফিরে এসেছে। ও ফিরে আসার পর থেকে আমরা সবাই যেন কেমন একটু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। রাতে ভালো ঘুম হয় না। যদিও একটু-আধটু তন্দ্রা আসে, তবু অন্ধকারে হঠাৎ ওর দিকে চোখ পড়লে গা হাত পা শিউরে ওঠে। ভয়ে জড়সড় হয়ে যাই। লেপের নিচে দেহটা ঠক্ ঠক্ করে কাঁপে।
দিনের বেলা অনেকেই আমরা ছোটখাটো জটলা পাকাই।
দিনের বেলা ওকে ঘিরে দেখতে আসে ওকে। অবাক হয়ে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.
Featured News
Advertisement
-
welcome
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
-
Thank you
- by bappi
- ১৫ Jan ২০২৬
-
good
- by Shamim Ahmed Chowdhury
- ১৫ Jan ২০২৬
Comments