-
দেওবন্দ শিক্ষা কেন্দ্র ও আলীগড় শিক্ষা কেন্দ্র এই উপমহাদেশের মুসলমানদের কাছে বিশেষ পরিচিত। অবশ্য আজকালকার দিনের শিক্ষিত তরুণ মুসলমানেরা আলীগড়ের নাম যে ভাবে জানে দেওবন্দ এর নাম তেমন করে জানে না। হিন্দুদের পক্ষে এ কথা সত্য, আলীগড়ের কথা তারা অনেকেই জানে কিন্তু দেওবন্দের কথা খুব কম লোকেই জানে। অথচ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে দেওবন্দ শিক্ষা কেন্দ্র যে দেশপ্রেমিক ভূমিকা গ্রহণ করে এসেছে, সেজন্য হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে সকলের কাছেই তা স্মরণীয় থাকা উচিত ছিল।
এই উপমহাদেশের সুদুর পল্লী অঞ্চলে মুসলমানদের কাছে একসময় আলীগড়ের চেয়েও দেওবন্দের নামই কিন্তু অনেক বেশী পরিচিত ছিল। এর প্রধান কারণ দেওবন্দ কেন্দ্র উলেমাদের দ্বারা পরিচালিত এবং এখানে প্রাচীন
-
দেওবন্দ এর শিক্ষাকেন্দ্র থেকে যারা স্বাধীনতার অগ্নিমন্ত্র নিয়ে বেরিয়ে এসেছিলেন তাঁদের মধ্যে ওবায়দুল্লাহ্ সিন্ধীর নাম উল্লেখযোগ্য। এক বিচিত্র চরিত্র, দীর্ঘকাল ধরে উল্কার মত জ্বলতে জ্বলতে চলেছেন, কিন্তু নিজে উল্কার মত পুড়ে ছাই হয়ে যাননি। বিপ্লবী ওবায়দুল্লাহ্ দেওবন্দ থেকে যে অগ্নিমশাল নিয়ে বেরিয়ে এসেছিলেন, তা নিয়ে দেশ-দেশান্তরে অক্লান্তভাবে ছুটে বেড়িয়েছেন।
জীবনের কৈশোর থেকে তার বিদ্রোহের শুরু। এ এমন এক বিদ্রোহের ডাক যার প্রেরণায় মানুষ পুরাতনকে ছেড়ে নুতন এবং নুতনকে ছেড়ে নুতনতর লক্ষ্যের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়তে ভয় পায় না। ১৮৭১ সালে পাঞ্জাবের শৈলকোট জেলায় এক সম্ভ্রান্ত শিখ পরিবারে তাঁর জন্ম হয়েছিল। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি ইসলামের উদার বাণীর অমোঘ আহ্বান শুনতে
-
যে কোনো মুক্তি আন্দোলন, গণ আন্দোলন বা শ্রেণী আন্দোলনের পেছনে তার অনুকূল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পটভূমি থাকলে তা উজ্জ্বল সম্ভাবনা সৃষ্টি করে। অবশ্য সকল ক্ষেত্রে যে তার অনুকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে থাকে তা নয়। সময় সময় বর্হিজগতের আন্দোলনের তরঙ্গও তার উপরে এসে ঘা মারে। ফরাসী রাষ্ট্রবিপ্লব, ইতালী ও আয়ারল্যাণ্ডের মুক্তি আন্দোলন এবং সর্বশেষে রুশিয়ার সর্বহারা বিপ্লব, ভারতের রাজনৈতিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে বিপুল প্রভাব বিস্তার করেছিলো।
বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন থেকে সর্বভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন তার প্রাথমিক প্রেরণা লাভ করেছিলো, এ বিষয়ে কোনো মতদ্বৈধতা নেই। বাংলাদেশে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রাথমিক অধ্যায়গুলিতে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অনুকূল ক্ষেত্র তৈরী হয়ে উঠেছিলো, একথা অবশ্যই বলা চলে। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সূচনা
-
হাকিম আজমল খান
সর্বভারতীয় কংগ্রেসী নেতাদের মধ্যে হাকিম আজমল খানের নাম সুপরিচিত। তাঁর পূর্বপুরুষেরা মুগল সম্রাট বাবরের সঙ্গে এদেশে চলে আসেন এবং তখন থেকেই ডা. আনসারীর মত হাকিম আজমল খানের পূর্বসূরীরাও চিকিৎসা বিদ্যায় সমগ্র উত্তর ভারতে অসামান্য খ্যাতিলাভ করেছিলেন। তাঁর পূর্বপুুরুষদের মধ্যে একজন সম্রাট আকবরের আমলে চিকিৎসাকে তার পেশা হিসাবে গ্রহণ করেন। তাঁরই এক বংশধর ছিলেন সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজকীয় চিকিৎসক। তারপর থেকে তঁাঁদের বংশধরদের মধ্যে কেউ কেউ রাজ চিকিৎসক হিসাবে কাজ করে এসেছেন।
এই বিখ্যাত চিকিৎসক বংশের উপযুক্ত বংশধর ছিলেন হাকিম আজমল খান। তাঁর জন্ম ১৮৬৩ সালে। তাঁর পিতার নাম গোলাম মহম্মদ খান।
শিক্ষার দিক দিয়ে তিনি প্রাথমিক বাধ্যতামূলক কোরান
-
চেক ও শ্লোভাক প্রজাতন্ত্রদ্বয়ের ফেডারেশন চেকোশ্লোভাকিয়া ১৯৪৫ সালের ১ মে নাৎসী দখলদারদের কবল থেকে মুক্তি লাভ করে। দেশটির আয়তন ১ লাখ ২৮ হাজার বর্গ কিলোমিটার, জনসংখ্যা ১ কোটি ৫০ লাখ । চেক ও শ্লোভাক জাতির আবাসভূমি চেকোশ্লোভাকিয়া নাৎসী দখলদারদের কবল থেকে মুক্ত হওয়ার পর ধীরে ধীরে সমাজতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করে। ইউরোপের প্রাচীন দেশ হওয়া সত্ত্বেও চেকোশ্লোভাকিয়াকে দীর্ঘদিন পর্যন্ত বিদেশী আগ্রাসনের শিকার হয়ে থাকতে হয়েছিল।
শোষণের দীর্ঘ পথ
চেকোশ্লোভাকিয়ার প্রাচীন ইতিহাস আলোচনায় দেখা যায় যে, শ্লাভ জাতির এই দেশটিতে সপ্তম শতকে সামো সাম্রাজ্য ও অষ্টম শতকে মোরাভিয়া সাম্রাজ্য বেশ প্রবল প্রতাপান্বিত ছিল। এরপর বোহেমিয়া সাম্রাজ্য তথা চেক রাষ্ট্র গড়ে ওঠে।
-
লেখক: রফিকুল ইসলাম
বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চেতনার উন্মেষ কেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তাই ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট' বা 'বাঙালি এথনিক ক্লিনসিং' শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে। ঐদিন সকালবেলা একটি সামরিক হেলিকাপ্টারে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল জানজুয়া, মেজর জেনারেল মিঠা খান, মেজর জেনারেল নজর হোসেন শাহ এবং মেজর জেনারেল ওমর রংপুর, রাজশাহী, যশোর, চট্টগ্রাম এবং কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে গিয়ে 'অপারেশন প্ল্যান' পাকিস্তানী কমান্ডারদের দিয়ে আসেন। ঢাকায় প্রধান টার্গেট ছিল ৩২ নম্বর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর বাসভবন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা ইপিআর হেডকোয়ার্টার্স এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইন। জেনারেল ইয়াহিয়া খান প্রেসিডেন্ট হাউস (পুরনো গণভবন) ত্যাগ করে যান
-
মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের এক বছরের মাথায় স্বাধীন বাংলাদেশে ছাত্র মিছিলে প্রথম পুলিশি গুলিবর্ষর্ণ ও ছাত্র হত্যার ঘটনা ঘটেছিল ১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারি। শহীদ হয়েছিলেন মতিউল ইসলাম এবং মীর্জা কাদেরুল ইসলাম। মিছিলটি ছিল ডাকসু ও ছাত্র ইউনিয়নের ঘোষিত 'ভিয়েতনাম দিবসের' সংহতি মিছিল।
ভিয়েতনাম। পঞ্চাশের দশক থেকেই এই নাম বাঙালির মনে আসন নেয়। ষাটের দশকে এসে তা এক আবেগপূর্ণ নামে পরিণত হয়। সারাবিশ্বে ভিয়েতনামে মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন দানা বাধে। এমনকি খোদ আমেরিকাতেও এই অন্যায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে শিক্ষক-ছাত্র-বুদ্ধিজীবী-বিবেকবান প্রগতিশীল মানুষ রাজপথে আন্দোলনে নামে। ষাটের দশক ছিল বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামের এক সোনালি সময়। তখন ঔপনিবেশিকতার জাল ছিন্ন করে এক এক করে স্বাধীন হচ্ছে দেশ।
-
বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক আন্দোলন অঙ্গাঙ্গী জড়িত। দেখা গেছে রাজনৈতিক কিছু মুনাফা আদায়ের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে সাংস্কৃতিক আন্দোলন। আবার শেষোক্ত আলোড়ন উপরি উপরি যাই হোক, তার দীর্ঘ মেয়াদী উদ্দেশ্য কিন্তু রাজনৈতিক। বাংলাদেশে এখনকার প্রবণতার হেতু সন্ধানের জন্য পাকিস্তানের রাজনৈতিক পটভূমি-সম্পর্কে কিছু বলা দরকার।
অনেকে তো পাকিস্তানের জন্মলগ্ন নিজের নাড়িতেই অনুভব করেছেন।
তাঁদের জন্যে বেশী কিছু বলা নিষ্প্রয়োজন। কিন্তু অনেকের জ্ঞান কেবল ইতিহাস মারফৎ। তাই অতীতের কবর আবার নতুন করে খুঁড়ে দেখতে হয়।
পাকিস্তান গঠিত হয় দ্বিজাতিতত্ত্বের উপর। মুসলমানরা এক জাতি, যেহেতু তাদের ধর্ম এক। মোদ্দা কথা এইখানে এসে দাঁড়ায়। ধর্মকেই জাতীয়তা গঠনের একমাত্র উপাদান-রূপে তখন মুসলিম লীগ প্রচার করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের
-
১৯৪৭ সালে যখন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয় তখন বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের অধিকাংশই পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত ছিল। আজ ১৯৭১ সালে তাঁদের সকলেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত। বুদ্ধিজীবীদের মানসচৈতন্যের এই পরিবর্তন বিস্ময়কর হলেও অস্বাভাবিক নয়। দেশবিভাগের পূর্বে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের একটি প্রবল প্রতিবাদ ছিল অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে। এই অর্থনৈতিক শোষণের ক্ষমতা ছিল যাদের, তারা সেই ক্ষমতার প্রয়োগে শিক্ষা ও রাজনীতি ক্ষেত্রে আপন প্রতিষ্ঠাকে সম্ভবপর করেছিল। তাই অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ একটি রাজনৈতিক পরিমণ্ডল নির্মাণ করেছিল বাংলাদেশের মানুষের জন্য। তখন অর্থনৈতিক ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত ছিলেন বাংলাদেশের হিন্দু ভূস্বামীবৃন্দ এবং এই ক্ষমতার বলে শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁরা ছিলেন অগ্রসর এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠা লাভের অধিকারী।
-
কমরেড মণি সিংহ আজন্ম সংগ্রামী এক বাঙালি বীর পুরুষ। তিনি ছিলেন এ দেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের স্থপতি। তিনি ছিলেন এ দেশের প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক আন্দোলনের অগ্রসেনা। সারা জীবন আন্দোলন করেছেন নিপীড়িত-নির্যাতিত-মেহনতি মানুষের মুক্তির জন্য।
মেহনতি শ্রমিক-কৃষকের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করতে গিয়ে কমরেড মণি সিংহ জীবনের বহু সময় থেকেছেন আত্মগোপনে। বহুদিন তিনি বন্দি থেকেছেন জেলে। ১৯৬৭ সালে বন্দি হয়ে দীর্ঘদিন তিনি জেলে ছিলেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনের চাপে পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তাঁকেও মুক্তি দেয়। কিন্তু ১৯৬৯ সালের মার্চ মাসে জেনারেল ইয়াহিয়া সামরিক শাসন জারি করে ক্ষমতা দখল করলে সে বছরই জুলাই মাসে কমরেড মণি সিংহকে গ্রেপ্তার করা
-
নজরুলের কারাদণ্ড হয়েছিল তাঁর নিজেরই প্রতিষ্ঠিত, ধূমকেতু’তে ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ নামে একটি কবিতা লেখার জন্য। নজরুলই বাংলার প্রথম দণ্ডিত লেখক নন। তাঁর আগে বেশ কিছু কবি, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক সরকারী রোষে পড়েছেন ও দণ্ডিতও হয়েছেন। এক্ষেত্রে বিশেষ করে উল্লেখ্য, মুকুন্দদাস, সখারাম গণেশ দেউস্কর। কিন্তু নজরুলকে নিয়ে যেমন দেশজুড়ে আন্দোলন, বিক্ষোভ হয়েছে, তেমন অন্য কারো ক্ষেত্রে হয়নি। নজরুলকে কারারুদ্ধ করা হলে সারা দেশ ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল। এমন ব্যাপক প্রতিবাদের নানা কারণ আছে। যেসব বাঙালী সাহিত্যিক বা কবির বই ইংরেজ আমলে বাজেয়াপ্ত হয়েছিল নিঃসন্দেহে নজরুল তাদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী কবি। আর জনপ্রিয়তায় তিনি তো সমসাময়িক সকলের উপরে ছিলেন। সেযুগে তরুণদের মুখে মুখে ফিরত
-
গীতিকার ও সুরকার: আব্দুল লতিফ
ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমার হাতে-পায়ে
ওরা কথায় কথায়
ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমাদেরই হাতে-পায়ে
ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
কইতো যাহা আমার দাদায়, কইছে তাহা আমার বাবায়
কইতো যাহা আমার দাদায়, কইছে তাহা আমার বাবায়
এখন কও দেহি ভাই মোর মুখে কি অন্য কথা শোভা পায়
কও দেহি ভাই
এখন কও দেহি ভাই মোর মুখে কি অন্য কথা শোভা পায়
ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়
ওরা আমার
উৎস
আর্কাইভ
লেখক
- অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক (২)
- অমিত রঞ্জন দে (১)
- আব্দুল লতিফ (১)
- এম আর আখতার মুকুল (১)
- এম এ আজিজ মিয়া (১)
- কে জি মুস্তফা (১)
- ড. ভেলাম ফন স্ক্রেন্ডেল (১)
- তপন কুমার দে (১)
- নজরুল ইসলাম (১)
- নিতাই দাস (১২)
- প্রক্রিয়াধীন (৪)
- মণি সিংহ (২)
- মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম (২)
- মোহাম্মদ শাহ আলম (১)
- রণেশ দাশগুপ্ত (১)
- শওকত ওসমান (১)
- শিশির কর (১)
- সত্যেন সেন (২৪)
- সামিহা সুলতানা অনন্যা (২)
- সৈয়দ আলী আহসান (১)
- সৈয়দ তোশারফ আলী (১)
- হাসান তারেক (১)
- হাসান মুরশিদ (৫)
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.