ওবায়দুল্লাহ্ সিন্ধী
দেওবন্দ এর শিক্ষাকেন্দ্র থেকে যারা স্বাধীনতার অগ্নিমন্ত্র নিয়ে বেরিয়ে এসেছিলেন তাঁদের মধ্যে ওবায়দুল্লাহ্ সিন্ধীর নাম উল্লেখযোগ্য। এক বিচিত্র চরিত্র, দীর্ঘকাল ধরে উল্কার মত জ্বলতে জ্বলতে চলেছেন, কিন্তু নিজে উল্কার মত পুড়ে ছাই হয়ে যাননি। বিপ্লবী ওবায়দুল্লাহ্ দেওবন্দ থেকে যে অগ্নিমশাল নিয়ে বেরিয়ে এসেছিলেন, তা নিয়ে দেশ-দেশান্তরে অক্লান্তভাবে ছুটে বেড়িয়েছেন।
জীবনের কৈশোর থেকে তার বিদ্রোহের শুরু। এ এমন এক বিদ্রোহের ডাক যার প্রেরণায় মানুষ পুরাতনকে ছেড়ে নুতন এবং নুতনকে ছেড়ে নুতনতর লক্ষ্যের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়তে ভয় পায় না। ১৮৭১ সালে পাঞ্জাবের শৈলকোট জেলায় এক সম্ভ্রান্ত শিখ পরিবারে তাঁর জন্ম হয়েছিল। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি ইসলামের উদার বাণীর অমোঘ আহ্বান শুনতে পেলেন।
এই ১৫ বছর বয়সের বালক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে আত্মীয়-স্বজন, পরিবার পরিজনদের মায়া ত্যাগ করে পাঞ্জাব ছেড়ে সিন্ধুতে চলে গেলেন, জীবনের এই নুতন অধ্যায়ে পা দিয়ে তিনি ওয়ায়েদুল্লাহ্ সিন্ধী নামে পরিচিত হয়েছিলেন। সিন্ধুতে যাওয়ার পর তিনি ইসলামের ধর্মশাস্ত্রে গভীরভাবে মগ্ন হয়ে পড়লেন।
সে সময় দেওবন্দ এর শিক্ষাকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ অধ্যক্ষ স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর নায়ক মাহমুদ আল হাসান সিন্ধুতে শিক্ষকতা করছিলেন। ওবায়দুল্লাহ্ সেখানেই দুই বছর তাঁর কাছে শিক্ষালাভ করেছিলেন। এর পর তিনি তাঁর গুরুর সঙ্গে দেওবন্দ শিক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে পাঁচ বৎসর শিক্ষকতা করেন। মাহমুদ আল হাসানের কাছ থেকে তিনি তাঁর স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজমন্ত্র গ্রহণ করেছিলেন। মাহমুদ আল হাসানের নির্দেশে জমিয়ত আল-আনসার প্রতিষ্ঠানটিকে সংগঠিত করে তুললেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের বাহিনী হিসাবে তিনি এই সংগঠনটিকে গড়ে তুলেছিলেন।
তাঁর ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাব অত্যন্ত উগ্রভাবে প্রকাশিত হয়ে পড়ত। ফলে তাঁকে নিয়ে দেওবন্দ শিক্ষাকেন্দ্রেকে মাঝে মাঝে একটু অসুবিধায় পড়ে যেতে হতো। এই জন্যই তাঁকে দিল্লীতে নুতন প্রতিষ্ঠিত জরাতুল শরীফ নামক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার কার্যে পাঠিয়ে দেওয়া হলো। এই বিদ্যালয়টি আলীগড়ের ভিকারুল মূলক এবং দেওবন্দ এর মাহমুদ আল হাসানের পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হচ্ছিল। হাকীম আজমল খান, মোক্তার আহমদ আনসারী ও মৌলানা মহম্মদ আলীও এ বিদ্যালয় পরিচালনার কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন।
এর দুই বছর বাদে ১৯১৫ সালে মাহমুদ আল হাসান তাঁর জীবনের মূল ব্রত স্বাধীনতার সংগ্রামের কাজে নেমে পড়লেন। সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ইংরেজদের বিতাড়িত করতে হবে এইটাই ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। এই উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য ওবায়দুল্লাহ্ সিন্ধী কাবুলে গিয়ে আফগানিস্তানের আমীর হাবিবউল্লাহ্র সাথে সাক্ষাৎ করলেন। আমীর হাবিবউল্লাহ্ প্রথম দিকে এ বিষয়ে তাঁর সহানুভূতি প্রকাশ করেছিলেন এবং ওবায়দুল্লাহ্কে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে একযোগে কাজ করে চলার জন্য পরামর্শ দিলেন। ওবায়দুল্লাহ্ অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে ভারতীয় কংগ্রেসের শাখা সমিতির প্রতিষ্ঠা করলেন। কংগ্রেসের এই কাবুল শাখার সভাপতি ছিলেন স্বয়ং ওবায়দুল্লাহ্ আর সম্পাদক ছিলেন তাঁর ছাত্র জাফর হাসান। দেশবন্ধুও এই শাগার অনুমোদন লাভের ব্যাপারে সাহায্য করেছিলেন। সে সময় একমাত্র কাবুল ছাড়া ভারতের বাইরে কংগ্রেসের আর কোনো শাখা সমিতি ছিল না।
কিন্তু আফগানিস্তানের আমীর মুখে যাই বলুক না কেন, ইংরেজদের চটাবার মতো সাহস তাঁর ছিল না, তাই যখন কাজের কথা এসে গেল তখন তিনি পিছিয়ে পড়লেন।
ইতিপূর্বে ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ বেঁধে গিয়েছিল। ভারতের ভিতরের এবং বাইরের বিপ্লবীরা এই সুযোগে ভারতে একটা বৈপ্লবিক অভ্যুত্থান সৃষ্টি করে তোলার সংকল্প নিয়ে কাজ করে চলেছিলেন। মাহমুদ আল হাসান, ওবায়দুল্লাহ্ সিন্ধী এবং তাদের অনুবর্তীরা ছিলেন একই পথের পথিক। ওবায়দুল্লাহ্র কাছ থেকে প্রেরণা লাভ করে লাহোরের ১৫ জন মুসলমান ছাত্র এই স্বাধীনতার সংগ্রামে যোগ দেবার জন্য দেশত্যাগ করে কাবুলে চলে এসেছিলেন।
এই ১৫ জন ছাত্রের মধ্যে অধিকাংশেরই নাম পাওয়া গেছে, তবে এই বিষয়ে কিছু কিছু মতভেদ আছে। মুজফফর আহমদ সাহেবের ‘আমার জীবন
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments