-
এটা বাস্তব যে মুসলমানদের আগমনের পূর্বে এখানকার বাসিন্দারা আজকের মতোই খালি মাথায় থাকত। মুসলমানগণ যখন এখানে আগমন করেন তখন তারা পাগড়ি বেঁধে আসেন এবং আজও এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। কেননা এখানে যারা পশ্চিম থেকে আসেন, তারা পাগড়ি পরিধান করেই আসেন। অর্থ এই যে, ইরান, ইরাক, আফগানিস্তান সবই পাগড়ি পরিহিত দেশ এবং আগমনকারীরা ঐ দিক থেকেই এসে থাকেন। অতঃপর ইসলাম ধর্মে পাগড়ির সম্মান রক্ষিত হয়েছে এবং ইমামতির জন্য পাগড়ি আবশ্যক করা হয়েছে।' এখানে (ঢাকাতে) দরবেশদের বংশ ছিল এবং তাঁরাও সর্বদা পাগড়ি ব্যবহার করতেন। সুতরাং ঢাকার বিখ্যাত খানকাসমূহ, মগবাজার এবং আজিমপুরের বুজর্গদের যে সব ছবি দেখা গেছে সবাইকেই এক বিশেষ ধরনের পাগড়ি
-
রমনার স্মৃতি কখনও ভুলবার নয়। ঢাকায় ফিরে আসা প্রবাসী, বা যাদের ত্যাগ করতে হয়েছে সাধের ঢাকা শহর, ঢাকাবাসী মধ্যবয়সী বা বৃদ্ধ যখনই বোনেন পুরনো কথার জাল, তখনই ফিরে ফিরে আসে রমনা। কারো কাছে পঞ্চাশ ষাট বছর আগের রমনা মোহময়ী, কারো কাছে বা কুড়ি ত্রিশ বছর আগের। একেক বয়সের কাছে একেক রূপের রমনা। বুড়িগঙ্গার কথা মনে পড়লে যেমন চলে আসে ঢাকার নাম, তেমনি ঢাকার কথা মনে হলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে রমনার বিস্তৃত মাঠ।
রমনার সীমা, প্রকৃতি, একেক বয়সীর কাছে একেক রকম। কারণ, কিছু দিন আগেও নির্দিষ্ট ছিল না রমনার সীমা। পুরনো হাইকোর্ট থেকে শুরু করে রমনা পার্ক, তারপর রমনা পার্ক
-
সুত্রাপুরের ১৯নং ওয়ালটার রোডের বাড়িটাকে আজ ক’জনই-বা চেনে! কিন্তু আজ থেকে বছর তিরিশেক আগে এই বাড়িটা পুরানো ঢাকা শহরের অধিবাসীদের অনেকের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সে সময় এই ঢাকা শহরে জমিদারদের সুপরিকল্পিত উচ্ছেদনীতির বিরুদ্ধে চান্দিনা স্বত্বের প্রজাদের এক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। এই আন্দোলনের কেন্দ্র ছিল এই বাড়িটি আর তার স্রষ্টা ছিলেন এই বাড়ির মালিক মহম্মদ সফীউল্লাহ।
বিদ্যার দিক দিয়ে ম্যাট্রিক ফেল হলেও সফীউল্লাহ তাঁর নিজের পাড়ায় সুশিক্ষিত হিসাবেই গণ্য ছিলেন। এই অঞ্চলের স্থানীয় মুসলমান সমাজে ম্যাট্রিক পাস করা ছেলে তখন সুলভ ছিল না। কোনোকিছু নিয়ে লেখালেখি করার প্রয়োজন হলে পাড়ার লোক তাঁর কাছেই ছুটে আসত। ফলে তিনি মুখে
-
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার কিছুকাল বাদেই ঢাকা শহর তথা পূর্ব পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক ধারায় একটা জোয়ার এসে গিয়েছিল। অনেক দিনের খরা ও অজন্মার পর কি শহর, কি গ্রামাঞ্চল সর্বত্র আবৃত্তি, নাচ, গান, বিচিত্র অনুষ্ঠানের ঢল নেমে এলো। তার সাথে সাথেই এলো নাট্যাভিনয়। যা এতোদিন এখানকার মুসলমান সমাজের কাছে যেন নিষিদ্ধ ক্ষেত্র বলেই গণ্য ছিল। সেই জোয়ারের বেগ আজও স্তিমিত হয়নি, কিন্তু তার প্রাথমিক উচ্ছ্বাস আজ প্রতিকূল পরিবেশের গায়ে মাথা ঠুকে ঠুকে মরছে। উপযুক্ত নাটক নাই, হল নাই, ট্রেনিং-এর ব্যবস্থা নাই, অভিজ্ঞতা নাই, দৃঢ়মূল সংগঠনও নাই। নাই বলতে কিছুই নাই। নিয়মিতভাবে চর্চা করবার উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকলে নাট্যাভিনয়ের কালোপযোগী উন্নতি করা কোনোমতেই সম্ভব নয়।
-
লেখক: রফিকুল ইসলাম
বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চেতনার উন্মেষ কেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তাই ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট' বা 'বাঙালি এথনিক ক্লিনসিং' শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে। ঐদিন সকালবেলা একটি সামরিক হেলিকাপ্টারে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল জানজুয়া, মেজর জেনারেল মিঠা খান, মেজর জেনারেল নজর হোসেন শাহ এবং মেজর জেনারেল ওমর রংপুর, রাজশাহী, যশোর, চট্টগ্রাম এবং কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে গিয়ে 'অপারেশন প্ল্যান' পাকিস্তানী কমান্ডারদের দিয়ে আসেন। ঢাকায় প্রধান টার্গেট ছিল ৩২ নম্বর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর বাসভবন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা ইপিআর হেডকোয়ার্টার্স এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইন। জেনারেল ইয়াহিয়া খান প্রেসিডেন্ট হাউস (পুরনো গণভবন) ত্যাগ করে যান
-
Mental fortifications in Dacca and physical defences on the border, seemed to hinge on each other. Fluctuations in one affected the fate of the other. If any other element had any significant influence it was the progress of war on the West Pakistan front. General Niazi, who literally flexed himself like a wrestler at the ill-founded news of our successes on the Lahore front on the second day of war, gradually lapsed into disillusionment by 7 December. At about the same time, the Indians occupied Jessore and Jhenida in 9 Division, ambushed the G.O.C. on 16 Division's main line of
-
Major-General Rahim, who sustained minor injuries while fleeing from Chandpur, was convalescing at General Farman's residence after initial medical treatment. He lay in a secluded part of the house. Farman was with him. It was 12 December, the ninth day of all-out war. Their minds naturally turned to the most crucial subject of the day: Is Dacca defensible? They had a frank exchange of opinion. Rahim was convinced that cease-fire alone was the answer. Farman was surprised to hear this suggestion from Rahim, who had always advocated a prolonged and decisive war against India. He said with a tinge of
-
গত মহাযুদ্ধের (প্রথম বিশ্বযুদ্ধের) ঠিক পরবর্তী সাহিত্যের একটা বড় অংশই ছিল যুদ্ধ-সম্পর্কিত। বিষাদ, ক্ষোভ, জ্বালা ও বিদ্রোহ একটা প্রশ্নকে ঘিরে ফুলে ফুলে উঠছিল। গত মহাযুদ্ধের শ্মশানে বসে সাহিত্যিক প্রশ্ন করেছিলেন: মানুষের জীবন নিয়ে একি পরিহাস? একি রোগজীর্ণ সভ্যতা? মানুষের বিরুদ্ধে নিয়োজিত মানুষ। যে মানুষ প্রতিমুহূর্তে বিকশিত হচ্ছে, যার শত সহস্র অনুভূতি দারিদ্র্য ও অজ্ঞতার অন্ধকার হাতড়ে জ্যোতির্ময় ভবিষ্যতের আশায় বলছে, মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে, একটামাত্র ইস্পাতের টুকরোর আঘাতে সে যে মুখ থুবড়ে পড়েছে, আর উঠবে না, আর চোখ চাইবে না। না জানি কোথায় বসন্তকাল এসেছে, তার আয়োজনে আয়োজন ভরে গিয়েছে ধরাতল! মহাসমরের অব্যবহিত পরবর্তী সাহিত্যে এই জীবন তৃষ্ণার তাগিদের
-
বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন থেকে ঢাকার রাজনৈতিক জগতের মানচিত্রটা বদলে যায় অনেক। তারপর প্রথম বিশ্বযুদ্ধ—দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ মানব সভ্যতার গতিধারাকে প্রবাহিত করে সম্পূর্ণ ভিন্ন খাতে। সোভিয়েত ইউনিয়নের আত্মপ্রকাশ ভারতের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে যায়। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠা, সন্ত্রাসবাদী আন্দোলন, কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলনের অভূতপূর্ব পদক্ষেপ, ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের আভ্যন্তরীণ কোন্দল এসব তো ছিলই। ’৩০ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন ভারতীয় বিপ্লবীদের মেরুদণ্ডকে অনেকখানি শক্ত করে দিয়েছিল কেবল নয়, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বুকে ভীতির কম্পন জাগিয়েছিল। তাছাড়া বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির সংকট ভারতীয় রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে যায়। কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে সুভাষচন্দ্র বসু গঠন করেন সর্বভারতীয় ফরোয়ার্ড ব্লক। কমিউনিস্ট পার্টির বিভিন্ন সংগঠন
-
৯ই চৈত্র অপরাহ্নে সর্বজন পরিচিত স্বামী বিবেকানন্দ ঢাকায় পদার্পণ করেন। ঢাকার পক্ষে পূর্ববঙ্গের পক্ষে সেই দিন বড়ই শুভ দিন গিয়াছে। কিন্তু ঢাকার শিক্ষিত সমাজের দূরদৃষ্ট-পুং বঙ্গীয় সমাজের দূরদৃষ্ট ঢাকাবাসীরা স্বামীজির আগমন সম্বন্ধে পূর্বে কোন আভাস পান নাই যাহা হউক স্বামীজি অনাহূত অবস্থায় ঢাকা আসেন নাই ইহাই সুখের বিষয়। রামকৃষ্ণ মিশন নামক কোন এক সমিতি তাহার আদর অভ্যর্থনার জন্য বিশেষ আয়োজন করিয়াছিলেন এবং তাঁহাদেরই উৎসাহ উদ্যোগে সশিষ্য স্বামীজি পরোলোকগত মোহিনীবাবুর গৃহ পবিত্র করিলেন অভ্যর্থনাপর্বের যবনিকা এখানেই পতন হইল।
বিবেকানন্দ ঢাকায় আসিলেন— ঢাকায় হুলস্থূল পড়িল না আশ্চর্যের বিষয় নয় কি? যিনি মার্কিন বিজয় করিয়া আসিলেন ইয়ুরোপীয় পণ্ডিতমণ্ডলীকে স্তম্ভিত করিয়া আসিলেন, বিদেশে স্বামী
-
‘ভীষণ দাঙ্গা’— বিগত রবিবার রাত্রি অনুমান ৯ ঘটিকার সময় স্থানীয় নবাবপুর পুলের উত্তর পারবর্তী মসজিদের নিকটে হিন্দু ও মুসলমানদিগের মধ্যে ভীষণ দাঙ্গা হইয়া গিয়াছে। সহোদরসম উভয় জাতির মধ্যে কেন পুনরায় এই বৈরিভাব সঞ্চারিত হইয়াছে, তাহার প্রকৃত কারণ আজিও আমরা জানিতে পারি নাই। বঙ্গ বিভাগের আন্দোলনকালে ঢাকার যে হিন্দু মুসলমানকে এক মাতৃগর্ভজাত সন্তানের ন্যায় গলাগলি ধরিয়া কাঁদিতে দেখিয়াছি, আজ সহসা কেন তাহাদের মধ্যে ভাবান্তর উপস্থিত হইল, ইহা বস্তুতই বিশেষ ভাবনার বিষয়। যাহা হউক, ঘটনার বিবরণ যতদূর জানিতে পারা গিয়াছে নিম্নে তাহা সংক্ষেপে বিবৃত হইল। রবিবার সন্ধ্যার পরে শ্রীশ্রী রক্ষাকালীর ভাসান উপলক্ষে শাঁখারি বাজার হইতে সংকীর্তনাদিসহ দেবীমূর্তি বাহির করা হইয়াছিল সংকীর্তনদল নবাবপুর
-
ঢাকার অন্তর্গত মুড়াপাড়া নিবাসী শ্রীযুক্ত বাবু প্রতাপচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, পূর্ববঙ্গে কেবল যে একজন প্রধান জমিদার বলিয়াই বিখ্যাত এরূপ নহে ধার্মিকতা, সৎকার্য প্রিয়তা ও অজস্র দানশীলতার নিমিত্ত তিনি সর্বত্র প্রসিদ্ধ ও সর্বধা সম্মানিত। ঢাকার হিন্দুধর্ম সভা তাহারই বিশেষ যত্ন উৎসাহ ও অর্থবলে অদ্যাপি জীবিত রহিয়াছে। তাহার সার্বক্ষণিক দানে এদেশের অনেক সৎকার্য অনুষ্ঠিত ও অনেক দৈন্য দশাপন্ন ব্যক্তি প্রতিনিয়ত উপকৃত হইতেছে। তদ্বিষয়ক সবিস্তর বিবরণ অদ্যতন প্রস্তাবের উদ্দেশ্য নহে। প্রতাপ বাবু গত ২৯ পৌষ নিজ বাটিতে মঠ প্রতিষ্ঠা, শিবস্থাপন ও তুলা পুরুষ দান প্রভৃতি হিন্দুধর্মানুমোদিত যে সমস্ত ব্যয় সাধ্য ধর্মক্রিয়ার অনুষ্ঠান করিয়াছেন, তাহারই সবিস্তর বৃত্তান্ত প্রকাশ করা অদ্যকার প্রস্তাবের অভিপ্রেত। বস্তুত প্রতাপবাবু অতি সমারোহে
উৎস
আর্কাইভ
লেখক
Stay Connected
Get Newsletter
Subscribe to our newsletter to get latest news, popular news and exclusive updates.