ঢাকায় মঠ প্রতিষ্ঠা
ঢাকার অন্তর্গত মুড়াপাড়া নিবাসী শ্রীযুক্ত বাবু প্রতাপচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, পূর্ববঙ্গে কেবল যে একজন প্রধান জমিদার বলিয়াই বিখ্যাত এরূপ নহে ধার্মিকতা, সৎকার্য প্রিয়তা ও অজস্র দানশীলতার নিমিত্ত তিনি সর্বত্র প্রসিদ্ধ ও সর্বধা সম্মানিত। ঢাকার হিন্দুধর্ম সভা তাহারই বিশেষ যত্ন উৎসাহ ও অর্থবলে অদ্যাপি জীবিত রহিয়াছে। তাহার সার্বক্ষণিক দানে এদেশের অনেক সৎকার্য অনুষ্ঠিত ও অনেক দৈন্য দশাপন্ন ব্যক্তি প্রতিনিয়ত উপকৃত হইতেছে। তদ্বিষয়ক সবিস্তর বিবরণ অদ্যতন প্রস্তাবের উদ্দেশ্য নহে। প্রতাপ বাবু গত ২৯ পৌষ নিজ বাটিতে মঠ প্রতিষ্ঠা, শিবস্থাপন ও তুলা পুরুষ দান প্রভৃতি হিন্দুধর্মানুমোদিত যে সমস্ত ব্যয় সাধ্য ধর্মক্রিয়ার অনুষ্ঠান করিয়াছেন, তাহারই সবিস্তর বৃত্তান্ত প্রকাশ করা অদ্যকার প্রস্তাবের অভিপ্রেত। বস্তুত প্রতাপবাবু অতি সমারোহে ও মনের উৎসাহে পূর্বোক্ত কর্মগুলি সমাধান করিয়াছেন।
...এই ক্রিয়া উপলক্ষে নবদ্বীপ, ভাটপাড়া, কলকাতা, কাশী, বাকলা, বিক্রমপুর, ফরিদপুর, চন্দ্রপ্রতাপ পার জোয়ার, ঢাকা, মহেশ্বরী, স্বর্ণগ্রাম ও ভাওয়াল প্রভৃতি স্থানের প্রধান প্রধান অধ্যাপক ব্রাহ্মণ পণ্ডিতগণ ও আত্মীয় কুলীন প্রেত্রিয়, বংশজ প্রভৃতি কুটুমগণ নিমন্ত্রিত ও উপস্থিত হইয়াছিলেন। নবদ্বীপে পাথেয় সহিত ১৫৬ টাকা, ভাটপাড়ায় পাথেয় সহিত ১২৫ টাকা বিদায় দেওয়া হইয়াছে। বিক্রমপুর ও ঢাকায় পণ্ডিতদিগকে ২০ টাকা ও চন্দ্রপ্রতাপে ১৬ টাকা সহকারে এবং অন্যান্যস্থানের পণ্ডিতদিগকে সামাজিক নিয়মানুসারে অপেক্ষাকৃত নান সহকারে বিদায় করা হইয়াছে। এতভিন্ন বিক্রমপুর প্রভৃতি স্থানের পণ্ডিতদিগের যাহার ঢাকার ইতিহাস—
যে পাথেয় ব্যয় পড়িয়াছিল, সমস্তই প্রদান করা গিয়াছে। অধিকন্তু বিদায় সময়ে নবদ্বীপ প্রভৃতির পণ্ডিতদিগকে এক একটি কলস ও বিক্রমপুর প্রভৃতির পণ্ডিতদিগকে এক একখানি থাল দেওয়া হইয়াছে। প্রতাপবাবুর ইহা কর্ম, অবশ্য কর্তব্য নিত্য কর্ম নহে। এই কার্যে কর্মে এইরূপ বিদায় লাভ করিয়া, ব্রাহ্মণ পণ্ডিতগণ বস্তুতই বড় প্রীত হইয়া গিয়াছেন। এ দেশে সাধারণ একটা প্রণালী আছে যে, লোকে মাতৃপিতৃ শ্রাদ্ধে যে হারে বিদায় করিয়া থাকে, কার্য কর্মে উহার অর্দ্ধহারে বিদায় করিলেই যথেষ্ট হয়। এত দ্বারা এই কর্ম কিরূপ উচ্চাঙ্গে নির্বাহিত হইয়াছে, তাহা স্পষ্টই অনুমিত হইবে।
এই ক্রিয়ার বিস্তর রবাহত ব্রাহ্মণ ও বিস্তর দীন দরিদ্র ব্যক্তি অন্নার্থীও বিদায় প্রার্থী হইয়া উপস্থিত হইয়াছিল। ইহাদের সংখ্যা প্রায় ১৫০০০ পনর হাজার হইবে। এই পনর হাজার লোককেই লুচি, কচুরী, অমৃতি, লাড়ু, ছানাবড়া, বুঁদিয়া, বরফি সন্দেশ, দধি, ক্ষীর প্রভৃতি উপাদেয় আহারীয় দ্বারা ভোজন করান হইয়াছে। আমরা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করিলাম যে, অন্নার্থী প্রায় ১৫০০০ পনর হাজার লোকের মধ্যে একটি ব্যক্তিও অপরিতৃপ্ত যায় নাই। এইরূপে তাদৃশ বহু সংখ্যক লোককে বিবিধ পঞ্চান্ন দ্বারা সমভাবে পরিতৃপ্ত করা সামান্য বুদ্ধিমত্তা বা সামান্য কার্য দক্ষতার কর্ম নহে। রবাহুত ব্রাহ্মণ, দুঃখী ও দরিদ্রগণ যে কেবল পঞ্চান্নেই পরিতৃপ্ত হইয়াছিল, এরূপ নহে, আশাতিরিক্ত দান লাভ করিয়াও ততোধিক পরিতুষ্ট হইয়াছে।
অলীক ব্রাহ্মণদিগকে এক টাকা, বৈরাগী বৈষ্ণব প্রভৃতিকে আট আনা করিয়া ও প্রত্যেক শ্রেণীর ইন্দ্রিয় বিকলদিগকে উহার দ্বিগুণ দান করা হইয়াছে। দানের পরে আবার উহাদিগকে চিড়া ও চিনি প্রচুর পরিমাণে দেওয়া হইয়াছে, এতদ্ভিন্ন এই মহতী জনতা তিন সন্ধ্যা পর্যন্ত মুড়াপাড়ার জমিদার বাটির অতিথিশালায় অন্নগ্রহণ করিয়াছে। ঈদৃশ প্রশংসনীয় ব্যাপার, হিন্দুসমাজে বস্তুতই মনোযোগ সহকারে শ্রবণের বিষয় সন্দেহ নাই।—
এই ক্রিয়ায় প্রায় পনর শত সামাজিক ব্রাহ্মণকে বিবিধ পঞ্চান্নে ভোজন করাইয়া উহাদের প্রত্যেককে এক একটি গেলাস ও চারি আনা করিয়া দক্ষিণা দেওয়া হইয়াছে। নিমন্ত্রিত কুলিনদিগকে বাটির নিয়মানুসারে বিদায় ও পাথেয় দেওয়া গিয়াছে। ...
আজিকালি হিন্দু সমাজের অবস্থা অতি শোচনীয়। এই সময়ে হিন্দু ধর্মের অনুমোদিত কার্যকর্মের অনুষ্ঠান করা দূরে থাকুক, অনেকে মাতৃপিত্র শ্রাদ্ধকে গলগ্রহ বোধ করেন। ঈদৃশ দুঃসময়ে যিনি বহুব্যয় স্বীকার করিয়া মনের আগ্রহে ও উৎসাহে ধর্মক্রিয়া সম্পাদন ও সমাজে ধর্ম প্রবৃত্তি সন্ধুক্ষণের নিমিত্ত, আপনাকে জাজ্বল্যমান দৃষ্টান্ত স্বরূপ
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).

Comments